Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫

কুলদীপের জামিনে ঝুঁকিতে মহিলা নিরাপত্তা, দিল্লি হাইকোর্টের বাইরে বিক্ষোভ আইডিডব্লুএর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কুলদীপের জামিনে ঝুঁকিতে মহিলা নিরাপত্তা, দিল্লি হাইকোর্টের বাইরে বিক্ষোভ আইডিডব্লুএর

উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন এবং সাজা স্থগিতের নির্দেশের প্রতিবাদে দিল্লি হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন নির্যাতিতার মা এবং অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের  কর্মী যোগিতা ভায়ানা-সহ অন্যান্যরা । আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে জামিনের আদেশের বিরোধিতা করেন।

বিক্ষোভকারীরা এ দিন প্ল্যাকার্ড হাতে আদালতের সামনে জড়ো হন, তাতে লেখা ছিল, ‘বলতকারিয়ো কো সংরক্ষণ দেনা বন্ধ করো’ অর্থাৎ, ধর্ষকদের রক্ষা করা বন্ধ করুন । ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশ ঘিরে অসন্তোষ এবং উদ্বেগ প্রকাশ কেরেছেন নির্যাতিতা এবং তার মা । সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার মা জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ওর জামিন বাতিল হওয়া উচিত । আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব । ইতিমধ্যেই জামিনের বিরোধীতায় সিবিআইও শীর্ষ আদালতে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করা হবে । সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে সময়মতো লিখিত আপত্তি ও যুক্তি পেশ করা হয়েছিল । ধর্ষিতার পরিবারও আদালতে জানায়, সেঙ্গার জামিন পেলে তাঁদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবুও হাইকোর্টের সাজা স্থগিত ও জামিন মঞ্জুর হওয়ায় সিবিআই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টের সামনে ধর্ণারত নারী অধিকার কর্মী যোগিতা ভায়ানা বলেন, সারা দেশের নারীরা গভীরভাবে আহত যে একজন ধর্ষকের সাজা স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি এই আদালতেই ঘটেছে। তাই যে জায়গায় অবিচার হয়েছে, সেখান থেকেই আমরা ন্যায়বিচার চাইব । বিক্ষোভ আন্দোলন থেকেই দাবি ওঠে, ধর্ষককে ফের কারাগারে পাঠানো হোক, যাতে নারীরা নিরাপদ বোধ করেন ।

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় কুলদীপ সেঙ্গারকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে দোষী সাব্যস্ত করে । যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাও ঘোষণা করা হয় । গত মঙ্গলবার, দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত করে জানায়, তিনি ইতিমধ্যেই পকসো আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় কারাবাস করেছেন ।
আদালতের নির্দেশে সেঙ্গারকে নির্যাতিতার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, তাতে পরিবারের উদ্বেগ কাটেনি । অভিযোগ উঠেছে, ২০১৯ সালের গাড়ি দুর্ঘটনাতে নির্যাতিতার পরিবারের দুই সদস্য এবং আইনজীবীর মৃত্যুতেও হাত ছিল পদ্ম শিবিরের প্রাক্তন বিধায়কের । জেলমুক্তির পর, প্রতিশোধ স্পৃহায় আরও ভয়ঙ্কর কিছু করতে পারেন কুলদীপ, এই আশঙ্কা নির্যাতিতার পরিবারের ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!