- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- জানুয়ারি ২৫, ২০২৫
মুম্বাই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউরকে ভারতের হাতে প্রত্যর্পণে সায় মার্কিন আদালতের
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে ভারতের হাতে তুলে দিতে সায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। দুই দেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী রানাকে ভারতের হাতে তুলে সায় দিয়েছে সে দেশের আদালত। দীর্ঘদিন তাহাউরকে হাতে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল ভারত। আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছিল। ভারতে প্রত্যর্পণ না করার এটাই ছিল রানার শেষ আইনি সুযোগ। প্রথমে সান ফ্রান্সিসকোর নিম্ন আদালতে তার পরে ওয়াশিংটনের প্রাদেশিক আদালতে একাধিকবার আপিল করেছিলেন, ভারতের অভিযোগের বিরুদ্ধে। কিন্তু আদালতে আইনি লড়াইয়ে হেরেছিলেন।গত ১৩ নভেম্বর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন রাণা। এবার মার্কিন শীর্ষ আদালত তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেওয়ার একদিন পরে ২১ জানুয়ারী শীর্ষ আদালত এই রায় দিয়েছে। মার্কিন সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে ‘রিট অফ সার্টিওরি’র আবেদন খারিজ করা উচিত। মার্কিন সলিসিটর জেনারেল এলিজাবেথ বি প্রিলোগার ১৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে বলেছেন, এই মামলায় রানা ভারতে প্রত্যর্পণ থেকে মুক্তি পাওয়ার অধিকারী নন। রানা কোর্টে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ইলিনয়স (শিকাগো) এর উত্তর জেলা ফেডারেল আদালতে এই মামলায় তাঁর বিচার হয়েছিল যাতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। তাহাউরের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে এরপর বিচারপতি তাঁর সীদ্ধান্ত নেই। যদিও এই রায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো দোষের কথা বলা হয়নি।
২৬ অক্টোবর ২০০৮, অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠেছিল বাণিজ্য নগরী মুম্বাই। প্রাণ গিয়েছিল শতাধিক মানুষের। দেশের নিরাপত্তার উপর বড়োসরো প্রশ্নচিহ্ন উঠেছিল। পাকিস্তান থেকে লস্কর-ই-তইবার সন্ত্রাসবাদীরা তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, লিওপোল্ড ক্যাফে, নরিম্যান হাউস, কামা হাসপাতাল সহ একাধিক জায়গা প্রায় ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধ করে রেখেছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ে ৯ জন সন্ত্রাসবাদীকে খতম করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডরা, একমাত্র আজমল কাশবকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। বিচারে কাসাবের মৃত্যুদণ্ড হয় ২০১০ সালের মে মাসে তাঁর ফাঁসি হয়। হাফিজ সৈয়দ, জাকিউর রহমান লাখভি সহ লস্করের শীর্ষ নেতাদের ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূলচক্রী বলে চিহিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ মার্কিন নিবাসী পাকিস্তানি বংশভূত ডেভিড হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির নাম উঠে আসে। হামলার আগে সে ভারতে এসে মুম্বাইয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করে, সে তথ্য তুলে দেয় লস্করের নেতাদের হাতে। ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় হেডলিকে আমেরিকায় গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুম্বাই পুলিশের দেওয়া ৪০৫ পাতার অভিযোগপত্রে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ব্যবসায়ী রানার নামও ছিল। হেলডির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছিল। এক বছর পর হেডলি এবং লস্কর জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য আমেরিকায় গ্রেফতার হন তাহাউর রানা।
❤ Support Us








