- বি। দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
ইরান-মার্কিন যুদ্ধ আবহের মাঝেই বিপর্যস্ত মার্কিন রণতরী, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড উদ্বেগে ট্রাম প্রশাসন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে, সেই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড অন্য এক সমস্যার মুখোমুখি। সমস্যাটি অবশ্য যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। জাহাজের টয়লেট এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় ১৩.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজের ৬৫০টি টয়লেটের অধিকাংশই অকেজো। সমস্যায় পড়েছেন জাহাজে কর্মরত ৪৫০০ নাবিক। তাঁদের অধিকাংশের জীবন বিপর্যস্ত।
২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সমুদ্রে রয়েছে রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। চলতি বছেরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের সময় এই জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও জাহাজ সাধারণত ৬ মাস স্থায়ী হয়। তবে রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ৮ মাসেরও বেশি মোতায়েন রয়েছে। আর এই দীর্ঘসময় মোতায়েন থাকার ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জাহাজের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
দীর্ঘদিন সমুদ্রে পড়ে থাকায় সময়মতো জাহাজ মেরামত করা হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নাবিকদের টয়লেট ব্যবহার করার জন্য প্রতিদিন ৪৫ মিনিট লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্লাম্বিং এবং মেরামতের টেকনিশিয়ানরা প্রতিদিন প্রায় ১৯ ঘন্টা কাজ করছেন। তবুও সমস্যা এখনও মেটেনি। গত মার্চ মাসে মাত্র ৪ দিনে ২০৫টি টয়লেট ভেঙে পড়ে। বর্তমানে জাহাজের ৬৫০টি টয়লেটের বেশিরভাগই অকেজো। সমস্যার মূল কারণ কারিগরি ত্রুটি। যুদ্ধজাহাজটির টয়লেট ভ্যাকুয়ামের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হয়। একটা ভালভের ব্যর্থতা পুরো বিভাগের টয়লেটগুলিকে আটকে দিতে পারে। পাইপগুলিতে ক্যালসিয়াম জমা হওয়াও একটা বড় সমস্যা, যা পাতলা পাইপলাইনগুলিকে আটকে রাখে। এই সিস্টেমে প্রতিবার অ্যাসিড ফ্লাশ করতে হয়, যার খরচ প্রায় ৪ লক্ষ ডলার।
দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকার ফলে নাবিকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। জাহাজের অধিকাংশ নাবিকের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্লান্তি এবং হতাশা গ্রাস করেছে। কারও জন্মদিন, বিয়ে, শেষকৃত্য বা সন্তানের জন্মের সময় নাবিকরা হাজির থাকতে পারছেন না। কেউ কেউ সামরিক বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। গত বছর ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুসম্যানেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
❤ Support Us






