Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

‘ভান্তারা’র গায়ে কোনো কলঙ্ক নেই— সুপ্রিম কোর্টে ‘ক্লিন চিট’ তদন্তকারী সিটের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘ভান্তারা’র গায়ে কোনো কলঙ্ক নেই— সুপ্রিম কোর্টে ‘ক্লিন চিট’ তদন্তকারী সিটের

গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন পরিচালিত পশু উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ভান্তারা’র বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী কমিটি তাদের রিপোর্টে জানিয়ে দিয়েছে— আইন ভেঙে কোনও পশু আনা হয়নি, পশুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার হয়নি, এমনকি কোনো আর্থিক গরমিল বা চোরাচালানের প্রমাণও মেলেনি। সে পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘এখন আর এ বিষয়ে কারো বিভ্রান্তিকর প্রচার সহ্য করা হবে না।’ বিচারপতি পঙ্কজ মিথাল ও প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ আরো মন্তব্য করেন, ‘কমিটি রিপোর্টে যা বলেছে, তাতে আইনগত দিক থেকে ভান্তারার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ টেকে না। সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরাও সন্তুষ্ট। রিপোর্টটিকেই রায়ের অঙ্গ করা হবে।’

বহু চর্চিত এই প্রকল্পটি মুকেশ পুত্র অনন্ত আম্বানির মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্যোগ। কিন্তু সম্প্রতি ‘ভান্তারা’র বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত ২টি পৃথক জনস্বার্থ মামলায়। অভিযোগ, দেশ-বিদেশ থেকে হাতি-সহ নানা বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আনা হয়েছে সেখানে, বন্দিদশায় পশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, এমনকি জল ও কার্বন ক্রেডিট অপব্যবহার করে আর্থিক অনিয়ম চালানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন বিচারপতি জস্তি চেলমেশ্বর-এর নেতৃত্বে গঠন করে বিশেষ তদন্তকারী কমিটি। কমিটিতে ছিলেন আরো ৩ জন বিশিষ্ট সদস্য— প্রাক্তন মুখ্য বিচারপতি (উত্তরাখণ্ড ও তেলেঙ্গানা) রাঘবেন্দ্র চৌহান, মুম্বাইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হেমন্ত নাগরালে এবং আয়কর দফতরের আধিকারিক অনীশ গুপ্ত। কমিটি ‘ভান্তারা’য় ৩ দিন ধরে সরেজমিনে তদন্ত চালায়, ১৬টি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নথিপত্র খতিয়ে দেখে। পশুদের বাসস্থান, চিকিৎসা, খাদ্য, মৃত্যু হার, প্রজনন নীতি, আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীর প্রয়োগ— কোনো ক্ষেত্রেই আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি বলে ১২ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট জমা দেয় সিট। রিপোর্ট হাতে পেয়ে বিচারপতিরা জানান, ‘আমরা রিপোর্ট পড়ে দেখেছি। স্বাধীন কমিটি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সব দিক খতিয়ে দেখেছে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি। আদালত এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট।’ পাশাপাশি রীতিমতো কঠোর ভাষায় বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের বিরোধিতা করেন বিচারপতিরা। তাঁরা বলেন, ‘এমন কিছু উদ্যোগ আছে, যা দেশের গর্ব। সব সময় নেতিবাচক খবর ছড়ানো উচিত নয়। যে দেশে এখনো বেআইনি শিকার চলে, তারা আজ আমাদের পশুদের পরিচর্যা নিয়ে মন্তব্য করছে। এটা চলতে পারে না।’ আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, একটি মন্দিরের হাতি ‘ভান্তারা’ নিয়ে গিয়েছে। সে প্রসঙ্গে আদালতের সপাট জবাব, ‘যদি আইন মেনেই অধিগ্রহণ করা হয়, তাহলে আপত্তির জায়গা কোথায়? শুধু অনুমান নির্ভর অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা যায় না।’

‘ভান্তারা’র হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পে প্রাণীদের যত্ন নেওয়ার নানা দিক আছে যা প্রকাশ পেলে বিশ্বের নানা মহল ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে। আমরা চাই না, আবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাতায় এ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখা বের হয়। ’ তাঁর বক্তব্যে সহমত প্রকাশ করে বেঞ্চ জানায়, ‘এ মামলার নিষ্পত্তির পর আমরা আর এমন কিছু প্রচার সহ্য করব না। তদন্তে সব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন অকারণে এই বিষয়ে প্রশ্ন না তোলে।’ ভান্তারা সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে পশু কল্যাণ সংক্রান্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছেন। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ও সিট-এর সুপারিশগুলিও তারা অতি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে। প্রসঙ্গত, ৩,০০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পে রয়েছে ২০০-রও বেশি হাতি, ৩০০-রও বেশি সিংহ, বাঘ, চিতা ও জাগুয়ার। রয়েছে হরিণ, চিতল, মৃগের বিশাল দলও। ২০২৪ সালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!