- দে । শ
- অক্টোবর ৩, ২০২৬
দলীয় তহবিল ব্যবহারে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে নজরদারি বঙ্গ বিজেপির
দলের কর্মসূচি ঘিরে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার মণ্ডল ও জেলা স্তরে কড়া নজরদারি শুরু করল বঙ্গ বিজেপি। কোনও কর্মসূচিতে কত টাকা এসেছে, সেই অর্থের উৎস কী এবং কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে—এ বার থেকে তার বিস্তারিত হিসাব লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। দলের নিচুতলায় আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনও সুযোগ রাখা হবে না, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বার্তার পর এমনই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, গত ৪ মে থেকে মণ্ডল ও জেলা স্তরে দলের যে সমস্ত কর্মসূচি হয়েছে, সেগুলির আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। নিচুতলা থেকে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে একাধিক অভিযোগ পৌঁছনোর পরেই আর্থিক হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের দাবি।
দলের বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ শিবির, বড় সভা, বৈঠক কিংবা অন্য কোনও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এমনকি পিকনিকের মতো অনুষ্ঠানেও অর্থ খরচ হয়। সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে এবং মোট কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিস্তারিত তথ্য নথিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিসাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কাঠামো রাখা হয়েছে। মণ্ডল স্তরে আয়-ব্যয়ের বিবরণ সংশ্লিষ্ট মণ্ডল সভাপতি জেলা সভাপতির কাছে জমা দেবেন। জেলা স্তরে কোনও বড় কর্মসূচি হলে তার আর্থিক হিসাব জেলা সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার ইনচার্জের কাছে পাঠাবেন। এরপর জেলা ইনচার্জ সেই হিসাব রাজ্য কমিটির কাছে জমা দেবেন।
এই নির্দেশের পেছনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রবিবার বঙ্গ সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দলীয় বৈঠকে দুর্নীতি, তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং সিন্ডিকেট-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, তৃণমূলকে মানুষ যে কারণে সরিয়েছে, সেই ধরনের প্রবণতা বিজেপির মধ্যেও কোনওভাবেই জায়গা পাবে না।
দলীয় সূত্রের দাবি, বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির নিচুতলার নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচির অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নজরদারি বাড়াতে চাইছে।
নীতিন নবীনের সতর্কবার্তার পরেই মণ্ডল ও জেলা স্তরে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়াকে সেই নজরদারিরই অংশ হিসেবে দেখছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ মহল। দলের এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, কোনওভাবেই দলের মধ্যে এমন কোনও সংস্কৃতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না, যা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই প্রতিটি কর্মসূচির আর্থিক লেনদেনের হিসাব কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছনোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল কর্মসূচির অর্থের উৎস ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিযোগ উঠলে তার দ্রুত যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করা।
❤ Support Us







