- Uncategorized দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৩
“মা-মাটি-মানুষ”-এর আদলে এবার ‘গাছ-মাটি-মোদী’, ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে বঙ্গ বিজেপির নয়া স্লোগান
মা-মাটি-মানুষ” কে রুখতে এবার “গাছ-মাটি-মোদী” স্লোগান সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদীকে তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রী করতে বাংলায় প্রচারে নামছে রাজ্য বিজেপি। চলতি মাসেই বাংলা থেকে চাই ৩৫টি আসন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঠিক করে দেওয়া ৩৫টি আসন পাওয়ার লক্ষ্যে এই কর্মসূচিতে নামছে রাজ্য বিজেপি। তবে এই প্রচার শুধু বাংলাতেই নয়, দেশের সব রাজ্যকেই লক্ষ্য ঠিক করে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। সব রাজ্যে প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়ে গেছে। বাংলায় প্রচার পর্ব থমকে ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য। তবে অগস্ট থেকেই জোরকদমে বঙ্গ বিজেপি ভোটের লড়াই শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। অগস্ট মাসে কী কী করতে হবে, তা সবিস্তারে জানানো হয়েছে। অগস্টে যে তিনটি কর্মসূচি বিজেপি নিয়েছে, তার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্যের তিন সাধারণ সম্পাদক। অগস্টের এই কর্মসূচিগুলিতে মূলত মোদীর নামই নেবে গেরুয়া শিবির। তবে তার সঙ্গে মিশে থাকবে ‘গাছ’ ও ‘মাটি’ প্রসঙ্গও, ঠিক “মা-মাটি-মানুষ”-এর কায়দায়।
পঞ্চায়েত ভোট পর্ব শেষ হতে না হতেই সংসদে শুরু হয়ে যায় বাদল অধিবেশন। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ সাংসদেরা দীর্ঘ সময় দিল্লিতেই রয়েছেন। মাঝে রাজ্যে এলেও সাংগঠনিক বৈঠকের বাইরে সভা-সমাবেশ করতে পারেননি। শুক্রবার শেষ হচ্ছে সংসদের অধিবেশন। আর তার পর থেকেই তিনটি কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপাতে চায় রাজ্য বিজেপি।
অগস্টের একটি কর্মসূচির নাম ‘এক হাজার মণ্ডল ভিত্তিক সভা।’ দায়িত্বে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। এই কর্মসূচিতে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় কমপক্ষে তিনটি সভা করতে হবে। প্রতিটি জেলার সাতটি বিধানসভা এলাকা মিলিয়ে ২১ থেকে ২৫টি সভা করতে হবে। সদ্য বিজেপি অনেক জেলায় দলীয় সভাপতি বদল করেছে। ইতিমধ্যেই পুরনো এবং নতুন সব জেলা সভাপতিকে রাজ্য স্তর থেকে এই সভার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতিটি সভায় কমপক্ষে দু’হাজার মানুষের সমাগম চাই। ১৬ থেকে ৩০ অগস্টের মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ করতে হবে। প্রতিটি সভায় রাজ্যে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি জোর দিতে হবে মোদী সরকারের সাফল্য বর্ণনায়। কোথায়, কবে সভা হবে, কারা উপস্থিত থাকবেন, তা যত দ্রুত সম্ভব রাজ্য নেতৃত্বকে জানাতে হবে। পরে রাজ্য নেতৃত্ব জেলাকে জানিয়ে দেবেন, কোন সভায় রাজ্য স্তরের কোন নেতা উপস্থিত থাকবেন।
কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব দ্বিতীয় কর্মসূচিটি কেন্দ্রীয় সরকারের হলেও সেই কর্মসূচি রূপায়ণের দায়িত্ব জেলা নেতৃত্বকেই বিজেপি দিয়েছে। মোদীর ঘোষণা করা ‘আমার মাটি আমার দেশ’ কর্মসূচির জন্যও রাজ্য বিজেপি সব জেলাকে চিঠি পাঠিয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করার দায়িত্বে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদকদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার ৭৫ বছর উপলক্ষে দেশের সব গ্রাম থেকে গাছ ও মাটি নিয়ে গিয়ে দিল্লিতে ‘অমৃত বাটিকা নামে একটি বাগান তৈরির কথা মোদী তাঁর জুলাই মাসের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন। সেই কর্মসূচি সফল করতে রাজ্য থেকে যে নির্দেশ জেলায় জেলায় গিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ১৩ থেকে ১৫ অগস্টের মধ্যে রাজ্যের সব গ্রাম থেকে গাছ ও মাটি সংগ্রহ করতে হবে। সেগুলি প্রথমে ব্লক স্তরে নিয়ে আসতে হবে। এর পরে মাটি ভরা কলস নিয়ে ব্লক স্তরের এক জন প্রতিনিধি ২৮ বা ২৯ অগস্ট দিল্লি পৌঁছবেন। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণও করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর পরে অগস্ট মাসের দ্বিতীয় পক্ষে তৃতীয় কর্মসূচি রূপায়ণের দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। এই কর্মসূচি প্রধানত লোকসভা নির্বাচনের আগে বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যেই হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ গড়ে তোলা হবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। এই কর্মসূচিতে মূলত নরেন্দ্র মোদী সরকারের ন’বছর পূর্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে বিজেপি নেতৃত্ব।
❤ Support Us








