Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২১, ২০২৬

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ফের কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার হাওড়া স্টেশনে কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাকে আর আদালতে পেশ করা হবে না, বরং সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারকে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকের পরে শুভেন্দু বলেন, ‘গতকাল থেকে অনুপ্রবেশকারীদের কোর্টে না পাঠিয়ে বাংলাদেশ বর্ডারে বিএসএফের কাছে পাঠানোর যে আইন— তা কার্যকর হয়েছে। পুলিশ কমিশনার ও আরপিএফকে সরাসরি বলে দেওয়া হয়েছে, হাওড়া স্টেশন থেকে সিএএ-এর আওতায় পড়েন না, এমন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁকে কোর্টে পাঠাবেন না। তাঁকে ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে সোজা বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে বা বসিরহাট সীমান্তে বিওপি-র হাতে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে হবে।’ প্রতি সপ্তাহে কতজন এমন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ল সেই হিসেব সিএমও  দফতরে জানাতে হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বুধবার থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে ‘পুশব্যাক’ সংক্রান্ত নতুন বিধি কার্যকর হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পরই এই কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশ আটক করে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপর বিএসএফ প্রয়োজনীয় প্রোটোকল মেনে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ফেরত পাঠাবে।

এই ঘোষণার পর মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিএএ-র আওতায় থাকা কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের কোনওভাবেই বিতাড়িত করা হবে না। তাঁরা আইন মেনে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, “সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় আসবেন। যাঁরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারত তথা বাংলায় এসেছেন, তাঁদের পুলিশ কোনওভাবেই হেনস্তা বা আটক করতে পারবে না। কিন্তু যারা সিএএ-র আওতায় নেই, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকার যে আর কোনওরকম নমনীয় অবস্থানে নেই, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!