- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৪, ২০২৬
নন্দীগ্রাম দিবসে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর
নন্দীগ্রামের রক্তাক্ত ঘটনার ১৯ বছর পূর্ণ হল আজ। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চের সেই মর্মান্তিক দিনটি আজও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীরভাবে খোদাই হয়ে আছে। নন্দীগ্রামের সেই ঘটনা শুধু বহু মানুষের প্রাণহানির কারণই হয়নি, বদলে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিপথও। সেই দিনটির স্মরণে আজ ‘নন্দীগ্রাম দিবস’-এ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই-সহ সমগ্র বিশ্বের সকল শহিদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং অন্তরের গভীর প্রণতি।” প্রতি বছরের মতো এবারও ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে নন্দীগ্রাম দিবস পালন করছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিভিন্ন সংগঠন।
২০০৭ সালের সেই ঘটনার পর তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন তৃণমূল স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এক বৃহৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম হয়। তারই ফলস্বরূপ ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘদিনের বামফ্রন্ট সরকারের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই সরকারে এসে নন্দীগ্রাম দিবস পালনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রায় দু’দশকের ব্যবধানে রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রপটও অনেকটাই বদলে গেছে। এক সময়ের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল। অন্যদিকে তৎকালীন শাসক দল সিপিএম এখন কার্যত রাজ্যের রাজনীতিতে অনেকটাই প্রভাবহীন, এমনকি বিধানসভায় তাদের কোনও প্রতিনিধি নেই। সেই সময় রাজ্যের রাজনীতিতে তেমন প্রভাব না থাকা বিজেপি বর্তমানে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। যে শুভেন্দু অধিকারী একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই নন্দীগ্রামের আন্দোলনে ছিলেন, তিনি এখন বিজেপির নেতা এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রাম দিবসের পালনের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নন্দীগ্রাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন একটি অধ্যায়। ২০০৭ সালের সেই ঘটনাকে তিনি আজও ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। সেসময় নন্দীগ্রামে ভূমিউচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে জমি রক্ষা আন্দোলন চলছিল। অভিযোগ, সেই আন্দোলন দমন করতে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশ অভিযান চালায় এবং পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়।
নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে ‘নন্দীগ্রাম দিবস’ পালন করা হয়। সেই দিনটি আজও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
❤ Support Us






