- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
এডিবির সহায়তায় ২,৪০০ কোটির প্রকল্প, রাজ্যের প্রতি ব্লকে মোট ৪৩০টি মডেল স্কুল
ফাইল চিত্র
রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘এনহ্যানসিং স্কুল এডুকেশন’ বা ‘স্কুলশিক্ষার সম্প্রসারণ’ নামে এই প্রকল্পের আওতায় ৪৩০টি মডেল স্কুল গড়ে তোলা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি)-এর সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৩৪৯.৭৮ কোটি টাকা, যার ৭০ শতাংশ বহন করবে এডিবি এবং বাকি ৩০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে স্কুলকে মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নতুন করে আলাদা স্কুল ভবন নির্মাণ করা হবে না; বরং বিদ্যমান স্কুলগুলির মধ্য থেকেই একটি করে স্কুল চিহ্নিত করে পরিকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে মডেল স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে।
এই মডেল স্কুলগুলিতে থাকবে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাবরেটরি, উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ক্রীড়া সুবিধা, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বিশেষভাবে সক্ষম (প্রতিবন্ধী) পড়ুয়াদের জন্য উপযোগী পরিকাঠামো। ইংরেজি ও বাংলা—উভয় ভাষাতেই পড়ানো হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ভোকেশনাল ট্রেনিং চালু করা হবে। আগামী দিনের দক্ষতার চাহিদা মাথায় রেখে লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম ও ব্রিজ কোর্স চালু করা হবে, যাতে শিক্ষাগত ঘাটতি কমানো যায়। শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক সমন্বিত ব্লেন্ডেড পেশাগত উন্নয়ন মডিউলও চালু হবে।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে ব্রাত্য বসু জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল রাজ্যের স্কুলশিক্ষাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর করে তোলা। তাঁর দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলা ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম সারিতে রয়েছে, এবং সেই অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতেই এই পদক্ষেপ।
শুধু স্কুলশিক্ষাই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উন্নয়নেও বড়সড় প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, ২,১৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে রাজ্যের ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হবে। এখানেও ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে এডিবি এবং ৩০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যের তহবিল থেকে ৬৪৪.৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে উন্নত পরিকাঠামো, শিশুদের মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী ও পুষ্টি এবং কর্মী ও সহায়িকাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে রাজ্যে ১,৯১,৪৮১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রায় ২ লক্ষ কর্মী ও সহায়িকা কাজ করেন। তাঁদের সম্মানিকও ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে, এপ্রিল মাসে রাজ্য সরকারি স্কুলে পরীক্ষা শুরু হলেও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য বহু স্কুল ব্যবহার করা হবে। ফলে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে স্কুলগুলিই একমাত্র ধর্মশালা, তাহলে কেন্দ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে দেখে তা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন।”
সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি স্তরে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, পঠনপাঠন পদ্ধতি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার রূপরেখা ঘোষণা করেছে।
❤ Support Us







