- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৩০, ২০২৬
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভ্রান্তি ! শুভেন্দুর বার্তা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করাবে সরকারি প্রতিনিধি
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া সংশয় ও বিভ্রান্তি দূর করতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সকালে বিধাননগরের একটি হাসপাতালে সার্ভিক্যাল ক্যানসার টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র পূরণের জন্য সরকারের প্রতিনিধি প্রত্যেক উপভোক্তার বাড়িতে গিয়ে সাহায্য করবেন। তাই ফর্ম নিয়ে ছড়ানো কোনও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম পর্যায়ের অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। তিনি জানান, “প্রত্যেকের বাড়িতে সরকারি কর্মী বা প্রতিনিধি যাবেন। তাঁরাই ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। তাই অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। যোগ্য প্রত্যেক মহিলাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।”
বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রকাশিত ‘সংকল্পপত্রে’ অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সরকার এই প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করেছে।
তবে সম্প্রতি প্রকাশিত ১১ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ফর্মে আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য, জমির নথি, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যসহ একাধিক নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। অনেকের দাবি, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো সহজ নয়। সেই কারণেই একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকরা এই সুবিধা পান। কোনও অবৈধ ব্যক্তি বা পুরুষ যাতে এই প্রকল্পের অর্থ না পান, তা নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আয়করদাতা, সরকারি কর্মচারী, নিয়মিত বেতনভোগী বা পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না।
ফর্মের জটিলতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বহু আবেদনকারী। অনেকেই আবেদনপত্র আরও সহজ করার দাবি তুলেছেন। এর আগে এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সরাসরি মানুষের কাছে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকেই ফর্ম পূরণে সহায়তা করা হবে এবং যোগ্য উপভোক্তাদের প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘সংকল্পপত্র’-এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই তাঁর সরকারের দায়িত্ব। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রেও সেই প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে।
❤ Support Us







