- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিরা মামলা, হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করার হুঁশিয়ারি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি মানহানির আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। ওই নোটিসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মন্তব্যের পক্ষে প্রামাণ্য নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ শুভেন্দুর।
মঙ্গলবার সকালে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া সময়সীমা ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। তাঁর দাবি, কয়লা কেলেঙ্কারিতে নিজের নাম জড়িত থাকার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী করলেও, সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও স্পষ্ট প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। শুভেন্দুর বক্তব্য, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ মনগড়া বলেই মুখ্যমন্ত্রী কোনও উত্তর দিতে পারেননি। তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সঙ্গে আদালতেই দেখা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, ওই মন্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে তিনি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কোনও একটি কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই সংক্রান্ত নথি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল। শুভেন্দুর আইনজীবীর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্যে বিরোধী দলনেতার ভাবমূর্তি ও সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই আইনি নোটিসে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে থাকা প্রামাণ্য নথি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে শুভেন্দুর দাবি, ওই সময়সীমা শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছেন তিনি এবং মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও অভিযান হয়। সেই দিন দু’জায়গাতেই পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইডি ও বিজেপির মধ্যে ‘আঁতাত’ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন এবং তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল চুরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন। পরের দিন ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে কলকাতায় পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সেখান থেকেও ইডি ও বিজেপিকে নিশানা করেন।
আইপ্যাক অভিযানের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে দুই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্য দিকে, ওই দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি সংঘাতের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
❤ Support Us







