সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বড়ো পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি কর্মীর জন্য আলাদা পরিচয়পত্র বা আই-কার্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। সে ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই সার্কুলার জারি করেছে এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা রঙের আই-কার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত প্রত্যেককে নির্দিষ্ট রঙের পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে হবে। ল্যাবরেটরিতে কর্মরতদের জন্য কমলা রঙের আই-কার্ড, সহকারী অধ্যাপকদের জন্য বেগুনি, প্রশাসনিক কর্মীদের জন্য কালো, নার্সদের জন্য খয়েরি, নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য মেরুন এবং হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের জন্য সবুজ রঙের আই-কার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সাফাইকর্মীদের জন্য হলুদ এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য নীল রঙের পরিচয়পত্র চালু করা হচ্ছে।

সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। এর মাধ্যমে বহিরাগত অনুপ্রবেশ ও দালালচক্রের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল, কলকাতা পুলিশ হাসপাতাল-সহ রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে।প্রকল্পটি কার্যকর করতে প্রতিটি হাসপাতালের প্রতিটি ভবনের জন্য একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। তাঁর দায়িত্ব থাকবে গোটা প্রকল্পের কাজ সমন্বয় ও তদারকি করা।

পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ, একটি নির্দিষ্ট অফিস ডেস্ক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ওয়েবেল-এর আইটি কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রেজিস্ট্রেশনের সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ সোমবার ২৫ মে থেকেই নতুন পরিচয়পত্রের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আগামী ২৮ মে-র মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর কর্মীদের বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করেছে— ডাক্তার, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, প্রশাসনিক কর্মী, প্যারা-মেডিক্যাল স্টাফ, জিডিএ এবং অন্যান্য কর্মী (ড্রাইভার-সহ)। প্রত্যেকের পরিচয় সহজে চিহ্নিত করার জন্যই এই রঙভিত্তিক আই-কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।