- পা | র্স | পে | ক্টি | ভ
- জুলাই ১৪, ২০২৬
শ্যামাপ্রসাদ সম্পর্কে আমরা যা জানি
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় [১৯০১-১৯৫৩] সম্পর্কে আমাদের জানা আর না জানার পরিধি অত্যন্ত সীমিত, তাঁর ব্যক্তিপ্রতিভা আর সামাজিক সত্তাকে বিশদভাবে আমরা জানতে পারিনি, বলা উচিত তাঁর মেধা, তাঁর বাস্তবচিন্তা, তাঁর রাজনীতি, তাঁর বৌদ্ধিক উত্তরণকে অনেকটাই আড়াল করে রেখেছে ভারতীয় ইতিহাসচর্চা, খণ্ডিত মূল্যায়নের সংক্রমণ রেহাই দেয়নি তাঁর দ্বিসত্তাকে। তিনি কি কেবল রাজনৈতিক ? পশ্চিমবঙ্গের জনক? না এর চেয়েও অধিক তাঁর বহুমুখী, মিলনাত্মক অঙ্গীকার ? দেশভাগের প্রাক্কালে, বঙ্গভঙ্গ কিংবা বাংলা বিভাজনের প্রশ্নে তিনটি ভোটপর্ব হয়, ২০ জুন ১৯৪৭-এ, তিন সভায় যোগ দেন কংগ্রেস আর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা, শ্যামাপ্রসাদ বঙ্গ বিভাজনের পক্ষে রায় দিয়েও সংশয় এড়াতে পারেননি, পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তুর স্রোত তখন আসন্ন, বঙ্গের সীমাঅঙ্কন কী হবে, কীভাবে হবে — তা নিয়ে পণ্ডিত নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল দ্বিধান্বিত। গান্ধীজি নীরব, ভারাক্রান্ত। ওই সময় গান্ধীজিকে চিঠি লিখলেন বিড়লা, অনুরোধ জানিয়ে বললেন, বঙ্গভাগ নিয়ে তাঁর মৌনভাব বহাল রাখা ঠিক হবে না, বিভাজন মেনে নেওয়া দরকার, না হলে ভাগাভাগির শিকার হবে প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা এবং পাটচাষ অধ্যুষিত এলাকাগুলি, গান্ধীজি মৌনতা ভাঙলেন, ৪৬ সালে কলকাতা ও নোয়াখালির ভয়াবহ দাঙ্গার পর বিচলিত মহাত্মা ছুটে এলেন কলকাতায়, ছুটলেন নোয়াখালিতেও, বিহারেও তখন সর্বনাশা অশান্তি, হিন্দু মহাসভা আসন্ন শরনার্থীদের স্বার্থে মুসলিম লিগের অযৌক্তিক, অবাস্তব দাবিকে অগ্রাহ্য করে পথে নামল, এ পথেরই সর্বোচ্চ প্রবক্তাদের অন্যতম মিশ্রসংস্কৃতির একান্ত উপাসক শ্যামাপ্রসাদ, এখানে তিনি কেবল বক্তা নন, কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের নেতা নন, ভারতেরই শাণিত বঙ্গসন্তান। এরকম একজন নেতার সত্তাকে খণ্ডিতভাবে দেখা ঠিক হয়নি, আমাদের ইতিহাসচর্চা ব্যক্তিচিন্তার ঐক্য আর সমষ্ঠিচিন্তাকে ভ্রান্ত সড়কে ঠেলে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সবার দাবি হোক, শ্যামাপ্রসাদের ধারাবাহিক উত্তরণ আর চিন্তার বিবর্তনকে মান্যতা দিতে হবে। খতিয়ে দেখতে হবে তাঁর বৌদ্ধিক সত্তাকে, কেবল রাজনৈতিক পরিসরে সম্ভব নয় তা, ইতিহাস আর বৃহত্তর সমাজতত্ত্বের চত্বরে খুঁজতে হবে তাঁর পূর্বাপর অবস্থান, বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তি প্রতিভার ঐতিহ্যকে।
অধ্যাপক হীরেন মুখার্জি খানিকটা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘সার্বিক শ্যামাপ্রসাদকে আমরা জানতে চাইনি, জেনেছি শুধু তাঁর বাধ্যবাধকতাময় রাজনীতির বিশেষ দিকচিহ্নকে। প্রাদেশিক আইনসভায়, ভারতীয় সংসদে তাঁর বাগ্মিতা, তাঁর বিদ্রূপাত্মক হাস্যরস, প্রয়োজনমাফিক তাঁর দৃঢ়, গম্ভীর উচ্চারণকে মনে রাখিনি’। পূর্ণাঙ্গ শ্যামাপ্রসাদ আমাদের ইতিহাসচর্চার বাইরে পড়ে রইলেন।
নেহরু জমানা থেকে এ পর্যন্ত, ভারতীয় ইতিহাসবোধ নানাভাবে খণ্ডিত, অবরুদ্ধ। দল আর দলের মতাদর্শ ঘিরে রেখেছে ইতিহাসকেন্দ্রিক নৈতিকতাকে। বেদিতে বসিয়ে কাউকে পুজো করেছে, দেবতা বানিয়ে দিয়েছে আবার, প্রায় নৈঃশব্দ্য অবলম্বন করে দীর্ঘকাল উহ্য রেখেছে কোনো কোনো ব্যক্তিপ্রতিভার ঐতিহাসিক উজ্জ্বলতাকে। দুর্ভাগ্য শ্যামাপ্রসাদও ভুল আর সংগঠিত ইতিহাসচর্চার অবগুন্ঠিত, অবহেলিত প্রতিভা। আজ রাষ্ট্র তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে, তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রত্যাবর্তন আর পুনর্বাসন দাবি করছে, রাষ্ট্রের এ পছন্দকে সামাজিক পছন্দে রূপান্তরিত করা জরুরি, না হলে তাৎক্ষণিক ভাবাবেগকে গ্রাস করতে পারে ভিন্নতর অন্ধকার, মানববিদ্যার অধ্যয়নে বিরল নয় এরকম পরিস্থিতি, সীমাবদ্ধতা নিয়ে যিনি সমাপ্ত বা অর্ধসমাপ্ত, তাঁকে শূণ্য, পুরোপুরি সারহীন করে তোলে মানব নির্মাণের সমাজবিদ্যা। অতএব ইতিহাস প্রণেতাদের সতর্ক থাকা দরকার, দরকার মুক্তচিন্তার চত্বরে বিচরণের এবং প্রশ্ন তোলার সার্বক্ষণিক অধিকার।
স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্যামাপ্রসাদের কোনও অবদান নেই, তাঁদের শ্যামাপ্রসাদের ডায়রি আর দুটি বই পড়ে দেখার অনুরোধ রইল। আশা করি, তাঁরা বুঝতে পারবেন যন্ত্রনায় কাঁটাবিদ্ধ, অস্থির এক মহান বাঙালির না-বলা বাণীর ঘন যামিনীর দিনযাপন আর রাত্রিযাপনের বৃত্তান্ত। বইগুলি পড়তে পড়তে শ্যামাপ্রসাদের বিবেকের যাতনা স্পর্শ করে আমাদের। এখানেও অতু্ল্য তাঁর বুদ্ধিজাত দহন
রাজনীতি ছাড়াও, শ্যামাপ্রসাদের ব্যক্তিপ্রতিভার আরও কয়েকটি ভিত্তি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পূর্বপুরুষের বসবাস হুগলির জিরাট গ্রামে। তাঁর জন্ম কলকাতায়। উনিশ শতকের নবজাগরণের যে কোনো মহানায়কের মতো তাঁর দেহ আর মস্তিস্কে রক্তচলাচলে গ্রামীণ বাংলা আর নাগরিক কলকাতার স্রোত বইত। নগরকেন্দ্রিক আত্মসর্বস্বতায়, উদাসীনতায় অনভ্যস্ত, আবার গ্রাম্যতাদুষ্ট অভ্যাস স্পর্শ করতে পারেনি তাঁকে, একদম আমল পায়নি ঔপনিবেশিকতার দাসত্ব। নবজাগরণের আদর্শে দীক্ষিত বাবা, স্যার আশুতোষের যোগ্যতম উত্তরসূরী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। দক্ষ প্রশাসক, মানব-বিদ্যার ( আইনের) মেধাবী ছাত্র, পরোপকারী বিবেচক, বাঙালির নির্বিশেষের পরমাত্মীয় হয়ে ওঠাটাই তাঁর ভাগ্য বিধাতার নির্দেশ ছিল যেন বা।
স্যার আশুতোষের হৃদয়ে, মহামিলনের ইচ্ছা জাগ্রত থাকত সবসময়, এরই তথ্যনির্ভর সত্যের এক দৃষ্টান্ত মধ্যবিত্ত আর ইতিহাস সচেতন বাঙালি কখনো ভুলতে পারেনি, সম্ভবত ভুলবে না – তা হচ্ছে এই যে, বহুভাষাবিদ, বর্ণনামূলক (ন্যারেটিভ) ভাষাতাত্ত্বিক ডক্টর মহম্মদ শহীদুল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত পড়তে আর পড়াতে আপত্তি জানালেন জনৈক রক্ষণশীল পন্ডিত, এ খবর পেয়ে চটে গেলেন স্যার আশুতোষ, অবলম্বন করলেন আজনবি কৌশল, বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব পড়াবার ব্যবস্থা করলেন, আশুতোষের উৎসাহে শহীদুল্লাহ ভর্তি হলেন এ বিভাগে, এ বিষয়ে পড়তে তাঁকে বিদেশে বন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালেন। আশুতোষই জোগাড় করে দিলেন যাবতীয় খরচ। এরকম ব্যতিক্রমী চরিত্র আর দৃঢ়তার উত্তরাধিকার নিয়ে শ্যামাপ্রসাদের ক্রমোত্তরণ ঘটতে থাকে, যেমন রাজনীতিতে, তেমনি বৌদ্ধিক বিচরণে।
আমাদের ধারণা, শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক উচ্চতাকে ছাড়িয়ে গেছে তাঁর সমস্ত বৌদ্ধিক আর মনোস্তাত্ত্বিক বিস্তার। এই যেমন, আইন পড়তে, ১৯২৬-এ লিঙ্কনস ইনে ভর্তি হলেন, পাশ করে বিদেশ থেকে ফিরলেন ১৯২৭ এ, ফিরেই আইন প্র্যাকটিস শুরু, একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য, ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ পর্যন্ত সর্ব কনিষ্ঠ উপাচার্য থাকাকালীন তাঁর বিচক্ষণতার সঙ্গে জড়ো হল ভাষাপ্রীতি, ১৯৩৬ এ বাংলা বানানের সংশোধনে আগ্রহী হয়ে উঠলেন, সামনে কমিটির সভাপতি রাজশেখর বসু, প্রেরনায় রবীন্দ্রনাথ, কবিকে সমাবর্তন উৎসবে বাংলায় অভিভাষণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করলেন।
আরেকটি কথা, কেউ কেউ বলছেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপার্টমেন্ট ইসলামিক হিস্ট্রি ও কালচার তাঁর আমলেই শুরু, কথাটা সত্য নয়, ইসলামিক হিস্ট্রি পড়ানো আরম্ভ হয় ১৯৪০-এ, এর দুবছর আগে, উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু বিভাগটির পঠন-পাঠনের আয়োজনে তাঁর বিলকুল অনীহা ছিল না, তাঁর এ ব্যক্তিগত পছন্দ সমষ্টির পছন্দের আকার নেয় যখন –তখন ক্ষমতায় মুসলিম লিগ। লিগ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে বসলেন স্যার আশুতোষের স্নেহধন্য ফজলুল হক, এক্ষেত্রেও শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা তাঁর বাস্তবতাবোধ, মিলনাত্বক চেতনার সহযোগী, প্রধানমন্ত্রী হলেন ফজলুল হক আর কংগ্রেসের নেতিবাচকতা অগ্রাহ্য করে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন শ্যামাপ্রসাদ, ১৯৪১-এ ‘শ্যাম-হক’ নামে পরিচিত এ মন্ত্রিসভার আয়ু মাত্র এক বছরের, ব্রিটিশের চক্রান্তে, ১৯৪২-এ কোয়ালিশন সরকারের পতন ঘটল, তখন বাংলায় মন্বন্তর চলছে, গ্রাম থেকে খাবারের খোঁজে শহরের উদ্দেশে ধেয়ে আসছে হাভাতে জনতা, বেনিয়ারা চাল-ডাল বন্দী করছে গুদামে, বেলাগাম পরিস্থিতি, এই সময়ের দিনপঞ্জি লিপিবদ্ধ করে গেছেন শ্যামাপ্রসাদ (১৯৬০ সালে, প্রকাশিত), লিখেছেন পঞ্চাশের মন্বন্তর শীর্ষক একটি বইও, ১৯৪৪ সালে বের হয় তাঁর ‘রাষ্ট্রসংগ্রামের এক অধ্যায়’ (১৯৪৬)-। যেসব নিন্দুক বলাবলি করতে অভ্যস্ত যে স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্যামাপ্রসাদের কোনও অবদান নেই, তাঁদের শ্যামাপ্রসাদের ডায়রি আর দুটি বই পড়ে দেখার অনুরোধ রইল। আশা করি, তাঁরা বুঝতে পারবেন যন্ত্রনায় কাঁটাবিদ্ধ, অস্থির এক মহান বাঙালির না-বলা বাণীর ঘন যামিনীর দিনযাপন আর রাত্রিযাপনের বৃত্তান্ত। বইগুলি পড়তে পড়তে শ্যামাপ্রসাদের বিবেকের যাতনা স্পর্শ করে আমাদের। এখানেও অতু্ল্য তাঁর বুদ্ধিজাত দহন।
শ্যামাপ্রসাদের বিবেক যে কত মর্মস্পর্শী, প্রয়োজনে যা সরব আর বিরল হতে পারে, তারই আরেক প্রায় অবর্নিত কাহিনী দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। কাজী নজরুল ইসলাম তখন বাকরুদ্ধ, নজরুলের স্ত্রী প্রমীলাও গুরুতর অসুস্থ। দারিদ্র, অনিশ্চয়তা, অচিকিৎসা তাঁদের নিত্যসঙ্গী। পাশে দাঁড়াবার মতো নেই কোনও মহাজন। বিশ্রামের জন্য কবি পরিবারের সবরকম সাহায্যে এগিয়ে এলেন শ্যামাপ্রসাদ। বিশ্রামের জন্য তাঁদের মধুপুরে পাঠালেন, খাওয়া-থাকার সব ব্যবস্থা করে দিলেন, নিয়মিত চিকিৎসার খরচ জোগাতে থাকলেন। ১৯৪২ সালে, কৃতজ্ঞ চিত্তে শ্যামাপ্রসাদকে চিঠি লিখলেন বাকহীন, স্তম্ভিত কবি, এই কোয়ালিশন মিনিস্ট্রির একমাত্র আপনাকে আমি অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি—আমাদের দেশকে পূর্ণ স্বাধীন করবো। সেদিন বাঙালির আপনাকে ও সুভাষ বোসকে সকলের আগে মনে পড়বে। আপনারাই হবেন এদেশের সত্যিকারের নায়ক।
নজরুল স্বহস্তে শ্যামাপ্রসাদকে ওই চিঠি লিখেছিলেন কিনা, তা আমরা জানিনা, তাঁর কৃতজ্ঞতা, তাঁর শ্রদ্ধাবোধের ঐকান্তিকতা ছড়িয়ে আছে চিঠির বয়ানে, লিপিবদ্ধ অক্ষরের ছত্রেছত্রে। মধুপুর থেকে কলকাতায় ফিরে আসার পরেও অসুস্থ, নির্বাক কবির পারিবারিক খরচ, চিকিৎসার যাবতীয় উদ্যোগ নিয়েছেন শ্যামাপ্রসাদ, তিনি তখন নেহরু মন্ত্রিসভার শিল্প আর সরবারহ মন্ত্রীর দায়িত্বে, চিকিৎসার জন্য কবিকে কোথায় পাঠানো যায়, ভাবছেন, তাঁর আগ্রহের তোড়জোড় দেখে—এগিয়ে এলেন বিধানচন্দ্র, শ্যামাপ্রসাদ তখন কাশ্মীরের ভারতভূক্তি নিয়ে ভীষনব্যস্ত, ১৯৫০ এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে ছুটলেন শ্রীনগরে, হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও শেখ আব্দুল্লার কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত তিনি, নিশ্চুপ প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল, ১৯৫৩ সালে আচমকা থেমে গেল শ্যামাপ্রসাদের হইজাগতিক কর্ম আর বেদনার মর্ম, ক্ষোভে নির্বিশেষের কলকাতা, সিআর দাশের মৃত্যুর পর আরেক মিলনমুখর মহামানবের প্রস্থানে সজল হয়ে উঠল, বীরের মৃত্যুতে চিৎকার করে কাঁদতে নেই, তাঁর মৃত্যুকে উদযাপন করতে হয়, স্মরণে পোষণ করতে হয় বীরোচিত দেহাবসানকে, এরকম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, বীরের স্মৃতি আর ভাবদর্শের পুনর্বাসনের জন্য ৭৩ বছর জুড়ে অপেক্ষা করতে হল বঙ্গজনকে।
ইতিহাস যেমন নির্মোহ আর নিরপেক্ষ, তেমনি সবাক তার নৈঃশব্দ্য, নৈঃশব্দ্যের ভাষা আমরা শুনতে পাইনা, সচরাচর পড়তে পারি না, এই ভাষাপাঠের দায় সমাজের সকলের। আমাদের বলতে আর ভাবতে ভালো লাগছে যে, বঙ্গীয় সমাজের অন্তরে ও বাইরে সম্ভবত এবার উচ্চারিত হবে, হতে থাকবে শ্যামাপ্রসাদের আত্মত্যাগের, মিলনাত্মক ইচ্ছার অনিঃশেষ মহিমা।
♦–♦•♦–♦ ♦–♦•♦–♦
❤ Support Us






