- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম ভারত সফরে শি জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা
গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে আসতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সম্মেলনের প্রথম দিন, অর্থাৎ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর), দিল্লিতে পৌঁছতে পারেন জিনপিং। সেই সফরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। যদিও এই বৈঠক বা জিনপিংয়ের সফর নিয়ে ভারত সরকারের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। বেজিংও এ বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি।
২০১৯ সালে শেষ বার ভারতে এসেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছর, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। রক্তক্ষয়ী সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর ৪ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল। গালওয়ানের ঘটনার পর থেকেই ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে। ফলে সেই সংঘর্ষের পর জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরকে স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে গালওয়ানের পর সম্পর্কের টানাপোড়েন পুরোপুরি অমীমাংসিত থাকলেও গত কয়েক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। তার ফলে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। গত অগস্ট মাসেই সীমান্ত সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিতর্কিত এলাকাগুলিতে সীমান্ত চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি চিনও ভারত-চিন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ফের জোরদার করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও ভারতকে বেজিং বোঝাতে চাইছে যে, কৌশলগত যোগাযোগের দরজা তারা খোলা রাখতে চায়। তবে ভারতের কাছে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো উদ্বেগের জায়গা এখনও সীমান্ত। বিশেষ করে চিনা সেনার অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দিল্লি কোনোরকম আপস করতে চাইছে না। ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান হলো, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।
দু-দেশই সম্পর্কের উন্নতি চাইলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো বড়ো বাধা হয়ে রয়েছে। সে অবিশ্বাসের অন্যতম কারণ, গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় চিনের প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো। ফলে বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি।
এ পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। সরকারি সূত্রের দাবি, মোদি স্পষ্ট করে জানাতে পারেন যে ভারত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। কিন্তু একই সঙ্গে দিল্লির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের মতো ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
অর্থাৎ, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার দরজা খোলা রাখার পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখাকেই ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরতে পারে নয়াদিল্লি। শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফর তাই শুধু দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক নয়, গালওয়ানের পর দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা ফেরানোর পরীক্ষাও হতে চলেছে।
❤ Support Us






