Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ৪, ২০২৫

নিয়োগ অনিশ্চয়তায় দীর্ঘ মেয়াদি স্কিল ইন্ডিয়া প্র‌শিক্ষণে বাড়ছে অনীহা । পরিকাঠামো শিল্পে ভাটা, খরচ হয়নি বাজেট বারাদ্দের বিপুলাংশ । রুটি রুজির খোঁজে ফের ১০০ দিনের কাজেই ভরসা খুঁজছে মানুষ । কর্মসংস্থানের আঁধার মেটাতে আসন্ন বাজেটে কোন পথে হাঁটবে কেন্দ্র ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিয়োগ অনিশ্চয়তায় দীর্ঘ মেয়াদি স্কিল ইন্ডিয়া প্র‌শিক্ষণে বাড়ছে অনীহা । পরিকাঠামো শিল্পে ভাটা, খরচ হয়নি বাজেট বারাদ্দের বিপুলাংশ । রুটি রুজির খোঁজে ফের ১০০ দিনের কাজেই ভরসা খুঁজছে মানুষ । কর্মসংস্থানের আঁধার মেটাতে আসন্ন বাজেটে কোন পথে হাঁটবে কেন্দ্র ?

ফেব্রুয়ারিতেই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ । বিগত দু বছর ধরেই ক্রমশ কমছে গ্রামীণ এলাকায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বরাদ্দ । বাংলাতেও এই খাতে কেন্দ্র টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে হিসেব গড়মিলের অভিযোগে । এবিষয়ে গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ।

গত রাজ্য বাজেটে, নিজেদের ভান্ডার থেকে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য অন্তত ৫০ দিনের কাজের পরিসর তৈরির কথাও বলেছেন তিনি । দিন কয়েক আগেও এপ্রসঙ্গে ‘কর্মশ্রী প্রকল্প’র কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে আছি।’ তাঁরা কাজে দক্ষ। অন্য রাজ্যে না গিয়ে নিজের রাজ্যেই কাজ করবার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ৩ জানুয়ারি প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যে কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যায় এ প্রসঙ্গে MNC, IT র পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পরিকলল্পনা করছে রাজ্য সরকার সে কথা বলেছিলেন তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরলে সরক, আবাসন, সেতু ইত্যাদি নির্মাণে সেই এলাকার মানুষকে কাজে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলাশাসকদের। গ্রামীণ এলাকার অদক্ষ শ্রমিকদের পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি করেতে বিকল্প প্রকল্পের কথা ভাবছে নবান্ন। সেই স্কিম বা প্রকল্প হবে রাজ্যের নিজস্ব। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দফতর থেকে ইতিবাচক সাড়া মিললেই শীর্ষমহলের সিলমোহর চাওয়া হবে। তখনই চূড়ান্ত হবে প্রকল্পের যাবতীয় পরিকল্পনা।

অন্যদিকে ১০০ দিনের প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার পক্ষে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের যুক্তি ছিল, দেশের বিভিন্ন প্র‌থমসারির শহর গুলিতে নির্মাণ শিল্পের পরিসর বাড়ছে । রাস্তা, ব্রিজ, ভবন নির্মানের জন্য প্র‌য়োজন হবে শ্রমিকের । তাই গত বাজেটে, ১০০ দিনের প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে বাড়ানো হয় পরিকাঠামো শিল্পের বরাদ্দ ।কিন্তু বছর ঘুরতে দেখা গেল এই খাতে রাজস্ব বরাদ্দের খরচ হয়েছে অনেক কম । অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন শহরে নির্মান শিল্পের চিত্রও উজ্জ্বল নয় । আবসন থেকে সড়ক নির্মান, পরিকাঠামো শিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ নেই, ফলে ফের শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছেন অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা । বাড়ছে ১০০ দিনের কাজের জন্য জব কার্ড তৈরির ঝোঁক । এই অবস্থায় সামনের কেন্দ্রীয় বাজেটে ১০০ দিনের প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ না বাড়ালে চাপ বাড়বে কেন্দ্রীয় সরকারের । এমনিতেই গোটা দেশে কর্মসংস্থানের হার তলানিতে, নতুন করে কাজের পরিসর তৈরি হচ্ছে না ।

রাজ্য সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের প্রকল্পে জব কার্ড হোল্ডারদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। এভাবে ইতিমধ্যে ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ কাজ পেয়েছেন। ১০ কোটির বেশি শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে পরীযায়ী শ্রমিকেরা নিজের রাজ্যে ফিরে নতুন জবকার্ড তৈরি করছেন। কিন্তু ১০০ দিনের কাজ তাঁরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠছে। রাজ্যের আর্থির পরিস্থিতি বর্তমানে খুব একটা সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে নেই, কিন্তু সামনে বিধানসভা নির্বাচন সেখানে ১০০ দিনের কাজ ও কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত বাংলার মানুষকে কাজের সুযোগ দিতে চাইছে রাজ্য।

ভারতের বিপুল জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ২০১৫ সালে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক PMKVY প্রকল্প চালু করেন। প্রথম ভাগে এই প্রকল্প ২০১৫-১৬, ২০১৬-২০২০ ও ২০২০-২২ বর্ষে ভাগ করা হয়েছিল । এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ভাগে, বিভিন্ন শিল্পের প্রয়োজন অনুসারে কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রষ্ণিক্ষণ নিয়েছিলেন ১০৯.৯৮ লক্ষ মানুষ। কাজ পাবার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সংখ্যা ছুঁয়েছিল ওই সময়েই। প্রায় ২৩.৪ শতাংশ প্রশিক্ষিত মানুষ কাজ পেয়েছিলেন। প্রথম দফায় ১৯.৮৬ লাখে ১৮.৪ শতাংশ ও তৃতীয় দফায় ৪.৪৫ লাখে ১০.১ শতাংশ মানুষ কাজ পেয়েছিলেন। মনে করা হয়েছিল ২০২৪ এ আরও একবার মোদি সরকার গঠনের পরে কুশল বিকাশ যোজনার অগ্রগতি হবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। ভারতে কর্মক্ষেত্রে এমনিতেই শ্রমিকের সংখ্যা বেশি রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে হাতেকলমে কাজ শিখে তাঁরা কর্মপটু শ্রমিক হয়ে ওঠেন।
সরকারী তথ্য তথ্য অনুসারে, দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে।তার মূল কারন দেশে নতুন শিল্পক্ষেত্রে নিয়োগ হচ্ছে না । বরং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে নিয়োজিত পুরনোরাই, কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুসারে সল্পমেয়াদের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দীর্ঘ মেয়াদের শিল্প প্র‌শিক্ষণের হার ২০২৩-২৪ সালে, এই সংখ্যাটি মাত্র ১৪.২৯%-এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে ছয় মাসের কম সময়ের কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের অংশ আকাশ ছুঁয়েছে, ২২% থেকে বেড়ে ৪৪%। অর্থ্যৎ দক্ষতা বিকাশ নয়, দ্রুত শংসাপত্র পাবার চেষ্টা করেছে শিক্ষার্থীরা। যদিও স্বল্পমেয়াদি কোর্ষের শংসাপত্র নিয়ে কাজ জোটানো রীতিমত যুদ্ধের সামিল।মোদি সরকারের অন্যতম প্রধান প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী কুশল বিকাশ যোজনা’ সাফল্যের মুখ দেখতে পায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ ২০২৩ এ প্রতি ৪ জনে ১ জন বা শতকরা ২২.২ শতাংশ মানুষ এই প্রকল্পের আওয়ায় প্রশিক্ষিত হয়েছেন।

বেকারত্ব যখন শীর্ষে এই সময়ে ভারত যদি সত্যিই বিশ্বব্যাপী দক্ষতার কেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য রাখে, তাহলে অবশ্যই পরিমাণের চেয়ে গুণমানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে হবে এবং বেসরকারী সংস্থার ভোকেশনাল প্রশিক্ষণকে নজরে রাখতে হবে। না হলে লক্ষ লক্ষ যুবকের রুটি রুজি রোজগারের স্বপ্ন, উন্নত দেশ গড়ে তোলবার স্বপ্ন চিরকালই অধরাই থেকে যাবে।

একদিকে প্রশিক্ষিত শ্রমিক হয়ে ওঠার জন্য, দীর্ঘমেয়াদি প্র‌শিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের অনীহার প্রধান কারণ নিয়োগ অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে পরিকাঠামো উন্নয়ণে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০০ দিনের কাজেও কাটছাট করেছে মোদি সরকার । ফলে কাজ না পেয়ে ফের ক্রমশই গ্রামমুখী হচ্ছেন অসংগঠিত ক্ষেত্রের দক্ষ এবং অদক্ষ শ্রমিকরা । এই অবস্থায় দাড়িয়ে দেশে বেকারত্বের চ্যালেঞ্জকে কীভাবে মোকাবিলার পন্থা নেন কেন্দ্রীয় সরকার এখন সেটাই দেখার । আসন্ন বাজেটে কর্মসংস্থানের এই গহীন আধার কী মেটাতে, দেশবাসীকে কোনো সুরাহা দিতে পারবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ?

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!