Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৫

সল্টলেকে বাড়ির তিনতলায় ঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু এক ব্যক্তির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সল্টলেকে বাড়ির তিনতলায় ঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু এক ব্যক্তির

কলকাতা শহরে ফের অগ্নিকাণ্ড। এবার সল্টলেকের অভিজাত ডি-৪ ব্লকের একটি বাড়িতে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন এক ব্যক্তি। স্ত্রী, কন্যা পালিয়ে বাঁচলেও, লেলিহান শিখা থেকে রেহাই পেলেন না বাড়ির কর্তা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঝলসানো দেহ। দমকলের অনুমান, সিগারেটের থেকে সোমবার রাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে ৷ ঘটনার তদন্ত করছে উত্তর বিধাননগর থানার পুলিশ।

নারকেলডাঙার পর এবার সল্টলেকের অভিজাত পল্লী, আগুনের করাল গ্রাসে পুড়ে ছাই হল বাড়ির একটা অংশ। আগুনে পুড়ে মারা গেলেন এক ব্যক্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে ছুটে যায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। স্ত্রী, কন্যা পালিয়ে বাঁচলেও, লেলিহান শিখা থেকে রেহাই পেলেন না বাড়ির কর্তা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঝলসানো দেহ। দমকলের অনুমান, সিগারেটের থেকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই ঘটনায় তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। দমকলের বিরুদ্ধে দেরি করে পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু।

সোমবার রাতে সল্টলেকের ডি ব্লকের চার নম্বরে একটি বাড়ির দো’তলায় আগুন লাগে। এই অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়ির কর্তা দেবর্ষিবাবু বাড়ির তিনতলায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং মা দোতলার ঘরে ছিলেন। রাত সওয়া ১০টা নাগাদ সম্ভবত সিগারেটের ফুলকি থেকেই হঠাৎ তিনতলার ঘরে আগুন লেগে যায়। এই আগুনের গ্রাসে গৃহকর্তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী দোতলার ঘরে মেয়েকে খাওয়াতে ব্যস্ত ছিলেন, হঠাৎ তিনিতলা থেকে শব্দ পেয়ে, সেখানে উঠে গিয়ে দেখেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় তা সম্ভব হয়। সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় থাকার দরুন,মৃত ব্যক্তি নিজেও বেরিয়ে আসতে পারেননি। প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু ঘটেছে পেশায় ব্যবসায়ী, বছর ৪৫-এর দেবর্ষি গাঙ্গুলির। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান করতেন নিহত ব্যক্তি। সিগারেটের ফুলকি থেকে আগুন ধরতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। তিনতলার ঘরে ফলস সিলিংয়ের কাজ চলছিল। সেই দাহ্যবস্তু থেকে আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর আকার নেয় বলে অনুমান। এই বাড়ির একতলায় রয়েছে টায়ারের দোকান, কিন্তু এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কেবল তিনতলার ঘরটি। দমকলের ৩টি ইঞ্জিন আধ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়।

দমকল দেরিতে এসে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের লোকজন। সে বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস জানিয়েছেন, দমকল প্রথমে খবর পেয়েছিল যে বি-এ ব্লকে আগুন লেগেছে। তাই জায়গাটা খুঁজে পেতে দেরি হয়েছে। দমকলমন্ত্রী বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির জেরেই অকুস্থলে আসতে দেরি হয় তাদের বলে জানিয়েছেন তিনি । অগ্নিদ্বগ্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে আগুনে পুড়ে যাওয়া কঙ্কালসার দেবর্ষিবাবুর মৃতদেহটি।

গোটা ঘটনার তদন্ত করতে এলাকায় পৌঁছেছে উত্তর বিধাননগর থানার পুলিশ। আজ মঙ্গলবার আবার নমুনা সংগ্রহে ঘটনাস্থলে আসবে ফরেনসিক টিমও। নিহত ব্যক্তির শালক জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আগুন লাগার মুহূর্তের মধ্যে জামাইবাবুকে তিনতলার ঘর থেকে বার করে আনার চেষ্টা হয়। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখায় তা সম্ভব হয়নি। আগুনে ঝলসেই মৃত্যু হয়েছে।’ এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া পড়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!