Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ৪, ২০২৬

১৮ বছরেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক, ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন নাথান থমাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১৮ বছরেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক, ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন নাথান থমাস

বয়স তখন মাত্র ১০। অন্য শিশুরা যখন স্কুলের পাঠ্যবই নিয়েই ব্যস্ত, তখন নাথান থমাস কলেজের ক্লাসরুমে পা রাখছেন। আর আট বছর পরে সেই একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র হিসেবে নয়, শিক্ষক হিসেবেই ফিরে এলেন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে মায়ামি ডেড কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পেলেন ফ্লোরিডার এই তরুণ। সেই সঙ্গে ভেঙে দিলেন টানা ৩০৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা এক বিশ্বরেকর্ড।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অনুযায়ী, নাথানের আগে এ নজির ছিল স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের দখলে। ১৭১৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন তিনি। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সে রেকর্ড আর কেউ ছুঁতে পারেননি। অবশেষে ২০২৩ সালের আগস্টে মায়ামি ডেড কলেজে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন নাথান। যে কলেজে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন, সে প্রতিষ্ঠানেই এক সময় ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেছিলেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্কুলের পাঠ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ‘ডুয়াল এনরোলমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে মায়ামি ডেড কলেজে ভর্তি হন তিনি। অল্প বয়সেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে পরবর্তী চার বছরে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর— দুই ডিগ্রিই অনার্স-সহ সম্পন্ন করেন।

পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর ফের ফিরে আসেন নিজের প্রথম কলেজে। তবে এ বার ছাত্র নয়, শিক্ষক হিসেবে। ২০২৩ সালের অগস্টে তিনি কলেজের একটি বিশেষ কোর্স পড়ানো শুরু করেন। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়াদের সি প্রোগ্রামিং,  কম্পিউটেশনাল চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের নানা দিক শেখান তিনি। মজার বিষয়, তাঁর শ্রেণিকক্ষে বসা অনেক ছাত্রছাত্রীর বয়সও তাঁর সমান বা বেশি। এত অল্প বয়সে শিক্ষকতা করতে গিয়ে কখনো অস্বস্তি হয়নি নাথানের। তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষে বয়সের কোনো গুরুত্ব নেই। ক্লাসরুমে সবাই শেখার উদ্দেশ্য নিয়েই আসে, সেখানে বয়স কোনো বিষয়ই নয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতার সবচেয়ে বড়ো আনন্দ যখন কোনো ছাত্রের কাছে দুর্বোধ্য মনে হওয়া বিষয় হঠাৎ করেই পরিষ্কার হয়ে যায়। সে উপলব্ধির সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়।

নাথানের এ সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর পারিবারিক পরিবেশও। তিনি এমন এক পরিবারে বড়ো হয়েছেন, যেখানে অধিকাংশ সদস্যই ইঞ্জিনিয়ার। ছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গণিতের প্রতি ভালবাসা গড়ে তোলার কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তাঁর মা–কে। নাথান জানান, তাঁর মা এমনভাবে কঠিন অঙ্ক বোঝাতেন যে, জটিল বিষয়ও সহজ বলে মনে হতো। তাঁর সাফল্যে মুগ্ধ সহকর্মীরাও। মায়ামি ডেড কলেজের ‘স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন’-এর ডিন ম্যানি পেরেজ বলেন, ‘নাথানকে কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, তিনি বিশেষ প্রতিভার অধিকারী। তিনি শুধু আমাদের সহকর্মী নন, ছাত্রছাত্রীদের কাছেও অনুপ্রেরণা।’

তবে নাথানের স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই থেমে নেই। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির ‘স্কুল অব ল-এ জুরিস ডক্টর’ ডিগ্রির পড়াশোনা করছেন। ২০২৮ সালে তাঁর স্নাতক হওয়ার কথা। ভবিষ্যতে মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইন নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অর্জিত বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও যুক্তিবোধ আইনচর্চার ক্ষেত্রেও সমান কার্যকর। এদিকে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানিয়েছে, নাথান শুধু সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকই নন, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক আলিয়া সাবুরের থেকেও কম বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বরেকর্ড গড়ার গল্প নিছক বিস্ময়ের নয়। অল্প বয়সে কলেজে ভর্তি হওয়া, দ্রুত পরপর দুই উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি সম্পন্ন করা, তিন শতাব্দীরও বেশি পুরনো রেকর্ড ভেঙে শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এবং একই সঙ্গে আইন নিয়ে নতুন পথচলা— নাথান থমাসের জীবন যেন প্রতিভা, অধ্যবসায় ও নিরন্তর শেখার ইচ্ছার এক বিরল দৃষ্টান্ত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!