Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৪, ২০২৬

১০ আগস্ট দেশজুড়ে আইন অমান্য কর্মসূচির ডাক কৃষক-শ্রমিক সংগঠনের, কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে ২০ দফা দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১০ আগস্ট দেশজুড়ে আইন অমান্য কর্মসূচির ডাক কৃষক-শ্রমিক সংগঠনের, কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে ২০ দফা দাবি

১০ অগস্ট দেশজুড়ে আইন অমান্য, ‘জেল ভরো’, রেল ও সড়ক অবরোধ-সহ একাধিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কিসান মোর্চা’, ‘কৃষক সভা’-সহ বিভিন্ন কৃষকক্ষেতমজুর ও শ্রমিক সংগঠন। কেন্দ্রের নীতিকৃষি ও শ্রম-সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও জেলায় জেলায় একই ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতায় কৃষকশ্রমিকহকারবস্তিবাসী এবং বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহৎ মিছিলেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে

শনিবার, কলকাতায় সংযুক্ত কিসান মোর্চার পশ্চিমবঙ্গ শাখার বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছেপ্রতি বছরের মতো এ বারও ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে স্মরণ করেই ১০ আগস্ট কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় শান্তিপূর্ণ মিছিলআইন অমান্য এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ‘সংযুক্ত কিসান মোর্চার পশ্চিমবঙ্গ শাখার আহ্বায়ক অমল হালদার এবং কার্তিক পালের দাবিকৃষক আন্দোলনের জেরে কেন্দ্র তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনের সময় দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। তাঁদের অভিযোগন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি)-র আইনি গ্যারান্টি এখনো কার্যকর করা হয়নি। কৃষক আন্দোলনে নিহতদের পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। সেই কারণেই কৃষকক্ষেতমজুরশ্রমিকছাত্র ও যুবসমাজকে এক মঞ্চে এনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে সংগঠন।

ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনের উদ্যোক্তারা। তাঁদের আশঙ্কাওই চুক্তির ফলে কৃষিক্ষেত্রে বহুজাতিক সংস্থার প্রভাব আরও বাড়তে পারে। বীজসারকীটনাশক-সহ কৃষি উপকরণের ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তাঁরা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তাঁদের দাবিউন্নত দেশগুলির কৃষকরা বিপুল সরকারি ভর্তুকি পেলেও ভারতীয় কৃষকরা সেই ধরনের সুরক্ষা পান না। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির বক্তব্যশুধু কৃষি নয়কর্মসংস্থানন্যায্য মজুরিশিক্ষাস্বাস্থ্যখাদ্যবিদ্যুৎ ও সামাজিক সুরক্ষার মতো একাধিক প্রশ্নেও সাধারণ মানুষ চাপে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগমূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে বহু মানুষ কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধনের ফলে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা।

ভূমিবন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেছে আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগকর্পোরেট সংস্থার স্বার্থে একাধিক নীতিগত পরিবর্তন করা হচ্ছেযার প্রভাব পড়ছে কৃষকআদিবাসী এবং গ্রামীণ মানুষের জীবিকার উপর। বিদ্যুৎ আইন সংশোধনের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবিএর ফলে কৃষকছোটো ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। ১০ আগস্টের কর্মসূচিতে দেশজুড়ে আইন অমান্য, ‘জেল ভরো‘, রেল ও সড়ক অবরোধমানবশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত কিসান মোর্চা। কৃষক সভার তরফেও একই দিনে দেশব্যাপী আইন অমান্য ও জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সারা ভারত কৃষক সভার ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে আয়োজিত কর্মীসভায় সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাল কৃষিক্ষেত্রে গভীর সংকটসার ও বীজের কালোবাজারিমূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যকৃষি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কেন্দ্র এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির কৃষি-সংক্রান্ত শর্ত প্রকাশকৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কৃষি-সংক্রান্ত কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি না করাকৃষক স্বার্থবিরোধী শর্ত প্রত্যাহারএমএসপি-র আইনি গ্যারান্টিসরকারি ক্রয় ও গণবণ্টন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার পরিপন্থী বাণিজ্য চুক্তি বাতিল। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!