Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৪, ২০২৬

দিল্লিতে আজ শুভেন্দু–বিদ্রোহী সাংসদ বৈঠক, নতুন মুখের জল্পনায় তুঙ্গে রাজনীতি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে আজ শুভেন্দু–বিদ্রোহী সাংসদ বৈঠক, নতুন মুখের জল্পনায় তুঙ্গে রাজনীতি

দিল্লিতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বৈঠককে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক মহল। গত সপ্তাহ থেকেই এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে কেন্দ্র করে একাধিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, বিদ্রোহী শিবিরে আরও দু’–তিন জন সাংসদ যোগ দিতে পারেন। আবার অপরদিকে শোনা যাচ্ছে, বিদ্রোহী শিবিরে থাকা তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ ফের কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শিবিরে ফিরতে পারেন বলেও আলোচনা চলছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ কয়েকজন সাংসদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ আবহেই মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শেষ মুহূর্তে সূচিতে পরিবর্তন না হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সূত্রের দাবি, সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেন্দ্র যাদবও। বৈঠকের আগেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘আজ একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ২০ জন সাংসদ থাকবেনই। আরও দু–তিন জন সাংসদ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জে পি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আরও সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করছেন।’

অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও নতুন ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে তিনি জানান, ‘এনসিপিআইয়ের সদস্য নন, এমন এক কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ সাংসদের সঙ্গে রবিবার প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছে। তিনি কোথাও যাবেন কি না জানি না, তবে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে ২০ জনের থেকেও বেশি সাংসদ থাকতে পারেন।’ তবে কালীঘাট শিবির এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিজেপি পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূলের এতে কিছু যায় আসে না। এঁদের অনেকেই এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু আমরা তাঁদের সুরক্ষা দিতে পারছি না। চাপ ও নানা বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ যদি এই খেলা থেকে সরে যায়, তা হলে ওই ২০ জনের মধ্যে বড়জোর তিন জন ওদিকে থাকবেন। একটা পচা পরচুলাওয়ালাকেও আমরা দলে নেব না।’ এর জবাবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, ‘আমাদের কারও উপর কোনো চাপ নেই। সবাই স্বেচ্ছায় এসেছেন। বালি, মাটি, পাথর ও কয়লা চুরি দেখে অনেকে ওই দল ছেড়েছেন।’

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও কালীঘাট শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘যাঁরা এখনও কালীঘাটের সঙ্গে  রয়েছেন, তাঁদের উপর নজর রাখুন। কাল তাঁরা অন্য কোথাও চলে না যান!’ কুণাল ঘোষের ‘চাপ’-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘এই ধরনের কথা বলতে তো কোনো ট্যাক্স লাগে না।’ বিদ্রোহী শিবিরের এক শীর্ষ নেতার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে নির্বাচিত এক সাংসদও কালীঘাট শিবির ছাড়ার বিষয়ে এগোচ্ছেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ এক নেতাও দিল্লিতে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদি মঙ্গলবারের বৈঠকে তাঁদের কাউকে দেখা যায়, তবে তা বড় রাজনৈতিক চমক হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক, এরপর জে পি নাড্ডার সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সঙ্গে যথাক্রমে শতাব্দী রায় ও জুন মালিয়ার বৈঠক, এমনকি নাড্ডার সঙ্গে সৌগত রায় ও শত্রুঘ্ন সিনহার একসঙ্গে নৈশভোজের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এমনও আলোচনা রয়েছে যে, মুর্শিদাবাদের তিন বিদ্রোহী সাংসদ আবার কালীঘাট শিবিরে ফিরতে পারেন। ফলে দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই মঙ্গলবারের বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে এনসিপিআই ভবিষ্যতে বিজেপির সঙ্গে একীভূত হতে পারে— এমন জল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে মিশে যাবে— এমন কথা কেউ বলেছে বলে আমার মনে হয় না। ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এর আগেও আমরা কখনো দু-জন, কখনো তিন জন মিলে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি।’ অপরদিকে, এখনও কালীঘাট শিবিরে থাকা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেন,“দলছুটদের প্রতি ভালোবাসা রেখেই বলছি, ওঁদের নিয়ে কিছু বলার নেই। ওঁরা এখন ত্রিশঙ্কুর মতো ঝুলে রয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গিয়েছিলেন। এখন না সামনে যেতে পারছেন, না পিছনে ফিরতে পারছেন। ‘অব তেরা কেয়া হোগা কালিয়া!’ মঙ্গলবারের বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কতজন সাংসদ উপস্থিত থাকেন এবং নতুন কোনও মুখ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!