- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৪, ২০২৬
এনডিএ বৈঠকে মোদি-শাহের পাশে সুদীপ, ঐক্যের বার্তা দিয়েও গরহাজির এনসিপিআই-এর তিন সাংসদ
নয়াদিল্লিতে সংসদের গ্রন্থাগার ভবনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআই-এর লোকসভা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সামনের সারিতে বসতে দেখা যায় তাঁকে। অন্যদিকে, প্রথম সারির অপর প্রান্তে ছিলেন দলের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দ্বিতীয় সারিতে বসেছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এনসিপিআই-তে সকলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’ তবে তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়, কারণ দলের ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিন জন বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। গরহাজির ওই তিন সাংসদ হলেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। গত কয়েক দিন ধরেই তাঁদের নিয়ে জোর রাজনৈতিক জল্পনা চলছে। আলোচনা রয়েছে, এই তিন নেতা কালীঘাটে ফিরে তৃণমূলে যোগদানের বিষয়ে আগ্রহী।
এ জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায়। সংসদ চত্বরে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানকে পাশে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা তো চাই সবাই ফিরে আসুন।’ একইসঙ্গে সোমবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ‘ওদিকে যাওয়া অন্তত ছ-জন সাংসদ এবং বেশ কয়েক জন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন।’ এই আবহে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ওই তিন সাংসদের অনুপস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর পর গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এনডিএ-র বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। সেই সময় এনসিপিআই-এর প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন দলের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেদিনও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একই সারিতে বসতে দেখা গিয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবারই দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং এনসিপিআই-এর অন্যান্য সাংসদের। যদিও এই বৈঠকটি গত মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল, রাজ্য সরকারের পৃথক কর্মসূচির কারণে সেদিন দিল্লি যেতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী।সোমবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে সুদীপ জানান, বৈঠকে সাংসদদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মধ্যেই এনসিপিআই-এর তিন সাংসদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এনসিপিআই নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হলেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূল ছেড়ে আসা ২০ জন সাংসদ এখনও লোকসভায় এনসিপিআই সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি। লোকসভার নথিতে তাঁরা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছেন।
❤ Support Us







