- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫
আফ্রিকায় ‘রোমান্স ফাঁদ’! অনলাইন প্রেমে গায়েব ২.৮ মিলিয়ন ডলার, ইন্টারপোলের জালে ২৬০ প্রতারক
প্রেমের নামে প্রতারণা, বিশ্বাসের মোড়কে জালিয়াতির ফাঁদ! আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ দমন সংস্থা ইন্টারপোলের অভিযানে ধরা পড়ল আফ্রিকার ১৪টি দেশের ২৬০ জন প্রতারক। যাঁরা অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে শিকারদের কাছ থেকে নানা ছুতোয় অর্থ আদায় করত, কিংবা অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করত। ইন্টারপোলের তরফে জানানো হয়েছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে চলা তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল তথ্য, যাতে জানা যাচ্ছে, অন্তত ১,৪০০ জন ব্যক্তি এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আর তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ শুনে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদেরও। প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এ ভাবে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা, ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
ইন্টারপোলের পুলিশ পরিষেবার কার্যনির্বাহী অধিকর্তা সিরিল গউত জানিয়েছেন, ‘সাইবার অপরাধের হার আফ্রিকাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে রোমান্স স্ক্যাম ও সেক্সটর্শনের মতো ঘটনা। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির দ্রুত প্রসার এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতাই এখন এধরণের অপরাধীদের কাছে বড়ো হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।’ ইন্টারপোল জানাচ্ছে, শুধু ঘানা থেকে ৬৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা ভুয়া পরিচয়ে অনলাইনে পরিচিত হয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর ‘শিপমেন্ট ফি’, ‘কাস্টমস চার্জ’ সহ নানা অজুহাতে শিকারদের থেকে টাকা আদায় করেন। এমনকি, গোপনে ভিডিও কল রেকর্ড করে অশ্লীল মুহূর্তের ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেলও করা হতো।
সেনেগালে গ্রেফতার হওয়া ২২ জন প্রতারক আবার আরো এককাঠি উপরে। ইন্টারপোল জানিয়েছে, এঁরা জনপ্রিয় সেলিব্রিটি, মডেল, অভিনেতা বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের ছদ্মবেশে ডেটিং অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। তারপরেই শুরু হতো প্রতারণা। এখনো পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনকে এরকমভাবে ঠকিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৪,০০০ ডলার। আইভরি কোস্টেও ২৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যাঁরা অনলাইনে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সংগ্রহ করতেন। পরে সেসব ছবি দেখিয়ে চলত ব্ল্যাকমেল।
ইন্টারপোল এই মুহূর্তে ১৯৬টি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে যোগাযোগের সেতু তৈরি করে কাজ করে। সন্ত্রাসবাদ, আর্থিক প্রতারণা, শিশু পর্নোগ্রাফি, সাইবার অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ রুখতে মূল ভূমিকায় রয়েছে এ সংস্থা। তারা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাইবার ক্রাইম ও চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউস, দু ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাতে ইন্টারপোলের কাজ যেমন বেড়েছে, তেমনই সদস্য দেশের মধ্যে মতভেদও প্রকাশ্যে এসেছে নানা ইস্যুতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমন বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলেছে, তেমনই অপরাধের ক্ষেত্রেও তৈরি করেছে নতুন ‘সাইবার ফাঁদ’। সুতরাং, নতুন যুগে শুধু প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার নয়, চাই আরো সচেতনতা, আরো সতর্কতা।
❤ Support Us







