Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫

বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচিনে তুষারধস, শহিদ ২ অগ্নিবীর সহ ৩ সেনা জওয়ান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচিনে তুষারধস, শহিদ ২ অগ্নিবীর সহ ৩ সেনা জওয়ান

বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচিন হিমবাহে মর্মান্তিক বিপর্যয়। ১২,০০০ ফুট উচ্চতার ভারতীয় সেনার বেস ক্যাম্পে আচমকা নেমে এল তুষারের ঘন স্রোত। তাতে চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩ সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২জন অগ্নিবীরও। লাদাখের ওই দুর্গম সীমান্তপথে আবারও শহিদের রক্তে ভিজল বরফাবৃত ভূমি।

রবিবার সকালে আচমকাই ঘটে যায় এই বিপর্যয়। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বেস ক্যাম্প এলাকায় রুটিন কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন সেনার একটি দল। হঠাৎ বিশাল তুষারস্রোত ধেয়ে আসে পাহাড়ের বুক চিরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বরফে চাপা পড়ে যান ৩ জওয়ান। তড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। উদ্ধারকারীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বরফের তলা থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা গেলেও, ততক্ষণে নিথর হয়ে পড়েছেন তাঁরা। সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ‘তুষারধসের খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত রেসকিউ অপারেশন শুরু হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলের দুর্গমতা এবং প্রবল ঠান্ডার কারণে কাজ চালানো ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। শেষ পর্যন্ত আমাদের ৩জন সহকর্মীকে আর জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়নি।’ শহিদদের মধ্যে ২জন অগ্নিবীর, সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হয়েছিলেন অগ্নিপথ প্রকল্পের অধীনে। তাঁদের নাম ও পরিচয় এখনো সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি, জানা গেছে শহিদ পরিবারের সম্মতি এবং প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতা এখনো চলছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত সিয়াচেন হিমবাহ। প্রায় ২০,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বরফরাজ্যে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে দেশ পাহারা দিচ্ছেন ভারতীয় সেনারা। হাড় হিম করা ঠান্ডা, যেখানে তাপমাত্রা নামতে পারে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সঙ্গে অক্সিজেনের স্বল্পতা, তুষারঝড় আর আকস্মিক ধস — সব কিছু মিলিয়ে প্রতিটি দিনই এক-একটি সংগ্রাম। সেনার এক প্রাক্তন আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘সিয়াচেন এমন এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে বন্দুকের গুলি নয়, বরং প্রকৃতি নিজেই সবচেয়ে বড়ো শত্রু। যত জন জওয়ান লড়াইয়ে শহিদ হন, তার থেকে বেশি প্রাণ যায় দুর্ঘটনা, ঠান্ডা আর ধসের কারণে।’ এমন দুর্ঘটনাও ব্যতিক্রমী নয়। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯,৬০০ ফুট উচ্চতায় এক ভয়াবহ তুষারধসে চাপা পড়ে প্রাণ হারান ১০ জন জওয়ান। সেই তালিকায় ছিলেন ল্যান্স নায়েক হানুমান্থাপ্পা কোপ্পাড়, যিনি প্রথমে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও পরে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে যান। ২০১৯-এ, ১৮,০০০ ফুট উচ্চতায় টহল চলাকালীন ধসের কবলে পড়ে মারা যান ৪ জওয়ান ও ২ পোর্টার। ২০২১-এর হানিফ সাব-সেক্টরের তুষারধসেও প্রাণ হারান ২ সেনা জওয়ান।

এ ঘটনয় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী-সহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, শহিদদের পরিবারের পাশে সর্বতোভাবে দাঁড়ানো হবে। তাঁদের যথোপযুক্ত সম্মান ও সহায়তা দেওয়া হবে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া এবং ভূমির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়াও উন্নত প্রযুক্তি, আগাম সতর্কবার্তা এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম বসানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তুষারঢাকা ওই নিঃসীম সীমান্তে, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাসে জড়িয়ে থাকে মৃত্যুর আশঙ্কা, সেখানেই নিঃশব্দে রয়ে যান এমন হাজারো যোদ্ধা। যাঁরা কোনো ঢাকঢোল ছাড়াই, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন দেশের নিশ্ছিদ্র প্রহরী হয়ে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!