- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র স্মৃ | তি | প | ট
- মার্চ ১৬, ২০২৩
৭২এ নির্বাপিত সন্দীপ, তবুও দৃপ্ত তাঁর প্রতিস্পর্ধার লড়াই
চলে গেলেন বাংলা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা সন্দীপ দত্ত। দীর্ঘদিন ধরে মধুমেহ রোগে ভুগছিলেন। দু মাস আগে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় তাঁকে বাইপাসের ধারে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানেই মৃত্যু হয় সাহিত্য সাধক ও কর্মবীরের । বেশ কয়েক দিন ধরে তাঁর ডায়ালিসিস চলছিল। গ্যাংগ্রিন হওয়ার কারণে তাঁর পা বাদ দিতে হয়েছিল।
সন্দীপ দত্ত(১৯৫১ -২০২৩) বাংলা সাহিত্য জগতে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৭২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে স্কটিশ চার্চের বাংলা বিভাগের ছাত্র সন্দীপ জাতীয় গ্রন্থাগারে গিয়ে অণু পত্রিকার প্রতি অনাদর-অবহেলা দেখতে পান। তখন থেকে লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ নিয়ে তিনি ভাবনা চিন্তা শুরু করেন । কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন সিটি স্কুলে পড়ানোর সময় থেকে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। সে বছরই নিজের বাড়িতে ৭৫০ পত্র-পত্রিকার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। যা চলে ২৭ থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর।
শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকেননি সন্দীপ, ১৯৭৬ সালের কলকাতা বইমেলায় পত্র-পত্রিকার সংগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। পরে, ১৯৭৮ সালের ২৪ জুন আত্মপ্রকাশ করে তাঁর সংস্থা ‘কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র’। টেমার লেনে তাঁর নিজ বাসভবনে প্রতিষ্ঠা করেন সংস্থাটিকে। তাঁর কথায়, কলেজ স্ট্রিট,ন্যাশনাল লাইব্রেরি সহ বিভিন্ন জায়গায় যত ফেলে দেওয়া লিটল ম্যাগাজিন রয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করে গ্রন্থাগারে সাজানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সাল থেকে এই গ্রন্থাগারের সদস্যপদ দেওয়া শুরু হয়।
সূচনালগ্ন থেকে সাহিত্যপিপাসু ও গবেষকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে সংস্থা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুই কামরার মধ্যে জেলা ও শহরের বিভিন্ন ছোটো বড়ো প্রকাশনা সংস্থার পত্রিকাকে ঠাঁই দিয়েছিলেন। জনৈক এক সাহিত্য গবেষকের কথায়, তাঁর গ্রন্থাগারে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য সব পত্র- পত্রিকা। প্রথম দিকে সাময়িক পত্র-পত্রিকার গ্রহণ যোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে বাড়াবার জন্য সদস্যপদ মূল্য কম রাখা হয়েছিল। পরে অবশ্য তা বাড়ানো হয়। বর্তমানে গ্রন্থাগারের প্রায় ১৫০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন।স্থানাভাবের জন্য সরকারি সাহায্যের আবেদন জানানো হলেও তা পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থা চালিয়েছেন। এখন তাঁর মৃত্যুতে বিপুল সংখ্যক পত্র-পত্রিকার ভবিষ্যত হয়ে পড়ল অনিশ্চিত।
বাংলা লিটল ম্যাগাজিনের লুপ্ত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য সন্দীপ আজীবন লড়াই করেছেন । প্রত্যেক বছর বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন হলে একটি চোঙাকৃতি টুপি পরিধান করে ‘বাংলা লিটল ম্যাগাজিনকে বাঁচান’ শ্লোগান লিখে বসে থাকতেন। কিন্তু এ বছর তাঁকে আর দেখা যায়নি। তাই তাঁর অনুরাগীরা তাঁকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেনই। সেই আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে গতকাল সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন। রেখে গেলেন প্রায় ১৭০০ ক্ষুদ্র পত্রিকার বিশাল সম্ভার। যা ডিজিটালাইজেশনের কাজ সম্প্রতি শুরু করা হলেও অসমাপ্তই থেকে গেল।
❤ Support Us








