Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ২১, ২০২৩

বিরোধী সাংসদদের গণ বহিষ্কারের প্রতিবাদে খাড়গের নেতৃত্বে “গণতন্ত্র বাঁচাও” মিছিল

বিজেপি সাংসদরাই উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সংসদে অশান্তি করেছে, অভিযোগ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিরোধী সাংসদদের গণ বহিষ্কারের প্রতিবাদে খাড়গের নেতৃত্বে “গণতন্ত্র বাঁচাও” মিছিল

সংসদের উভয় কক্ষ থেকে বিরোধী সাংসদদের নজিরবিহীন বহিষ্কারের পর বৃহস্পতিবার সকালে পুরনো সংসদ ভবন থেকে মধ্য দিল্লির বিজয় চক পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করলেন বিরোধীরা। এই কর্মসূচি পূর্বঘোষিতই ছিল। মিছিলে “গণতন্ত্র বাঁচাও” লেখা একটি বড় ব্যানার ছিল এবং প্ল্যাকার্ড-এ লেখা ছিল “বিরোধী সাংসদরা বহিস্কৃত ! এটাই কি গণতন্ত্রের সমাপ্তি?” এবং  “সংসদ খাঁচায়, গণতন্ত্র বহিষ্কৃত !”

সংসদে “অনিয়ম আচরণবিধি লঙ্ঘন”-এর  জন্য ১৪৩ জন বিরোধী সাংসদকে সাকুল্যে লোকসভা ও রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কার করার পর কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে তিক্ত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যার পরিণতিতেই এই প্রতিবাদ মিছিল। গত সপ্তাহের সংসদে স্মোক বম্ব হামলার  পর সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন বিরোধী সাংসদরা। সংসদের উভয় কক্ষ্যেই এই দাবিতে সোচ্চার হন কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি বিরোধী দলের সাংসদরা। এই নিয়ে তুমুল হট্টগোল হয় সংসদে। সংসদীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এই দাবি নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডার পর চারদিনে মোট লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ১৪৩জন সাংসদকে নজিরবিহীন ভাবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়।

এদিন মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শাসক দলের সাংসদরা রাজ্যসভার কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে। এই প্রথম সংসদীয় মন্ত্রী সংসদে বক্তব্য রাখার সময় ১২৫ থেকে ১৩০ জন বিজেপি সাংসদ ১০ জন বিরোধী সাংসদের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার জন্য চিৎকার করলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে সদনে কথা বলা উচিত ছিল কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অন্য জায়গায় কথা বলেছেন এবং লোকসভা, রাজ্যসভায় উপস্থিত হননি। আমরা গণতান্ত্রিক ভাবে মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সাংসদ অথচ আমাদের কণ্ঠরুদ্ধ করা হল, বহিস্কার করা হল। সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে আমাদের বহিস্কৃত হতে হল। আমরা সংসদে কথা বলতে না পারলে কোথায় বলব? প্রধানমন্ত্রী বারাণসী, আমেদাবাদ, সংবাদ মাধ্যমে এই নিয়ে কথা বলছেন অথচ সংসদে বলছেন না। অথচ সংসদ চ্যলাকালীন বাইরে কথা বলা যায় না। সংসদে দাঁড়িয়ে শাসক দলের সাংসদরা যে ভাবে চিৎকার করেছেন তাতে এটাই প্রমাণ হয় শাসক দলের সাংসদরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র সুরক্ষিত করা, তাই আমরা আজ এই মিছিলের আয়োজন করেছি। আগামীকাল যন্তরমন্তরে সরকারের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে। সারা দেশের সব রাজ্যের সব জেলায়, ব্লকেও প্রতিবাদ হবে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদের নিরাপত্তা জনিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার জন্য বিরোধীরা সাংসদরা দাবি জানান জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে, তবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী সাংসদদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন,  যদিও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে সংসদে হামলা নিয়ে কথা বলেছেন। নিয়ম অনুসারে সংসদ চলাকালীন কোনও বিষয়নি সংসদের বাইরে কথা বলার নিয়ম নেই। তাও যে প্রসঙ্গে মোদি-শাহ সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেছেন সেই বিষয়টি সংসদের নিরাপত্তাজনিত।

বৃহস্পতিবারের এই প্রতিবাদ মিছিলের প্রধান ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, “গতকাল বিরোধীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে সাসপেন্ড করার পর ভারতের ফৌজদারি আইন প্রতিস্থাপনের বিল পাস করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, ওদের গণতন্ত্রে বিশ্বাস নেই। আমরা সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপন করতে চেয়েছিলাম। কেন এমন ঘটল এবং কারা দায়ী সেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। আমরা বারবার লোকসভার স্পিকার, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করছি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে আমাদের কথা বলার অনুমতি দেওয়ার জন্য, কিন্তু সেটা না করে আমাদের সংসদ থেকে বহিস্কার করা হল।”

সরকার সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে, শুধু স্পিকার ওম বিড়লা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায় তদন্ত করা হচ্ছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, যিনি লোকসভার নিরাপত্তার জন্য দায়ী, তিনি বলেছেন তদন্তেই সম্পূর্ণ বিষয়টি বিরোধী সাংসদদের কাছে স্পষ্ট হবে, তবে তাঁরা এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদিবা অমিত শাহকে  সংসদে ভাষণ দেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!