- দে । শ মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- নভেম্বর ৬, ২০২৬
যুব অলিম্পিক্সের উশুতে ভারতের প্রথম পদক ! ইতিহাস গড়লেন ‘মণিপুরের মেয়ে’
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এক বার উজ্জ্বল মণিপুর। ১৫ বছর বয়সে ইতিহাস গড়লেন রাজকুমারী লানচেনবি চানু। সেনেগালের ডাকারে আয়োজিত ২০২৬ সালের যুব অলিম্পিক্সে উশুতে (চিনের প্রাচীন মার্শাল আর্ট বা যুদ্ধকলা) ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। যুব অলিম্পিক্সের ইতিহাসে এই বিভাগে প্রথম কোনো ভারতীয় পদক পেলেন। লানচেনবির এ সাফল্য শুধু মণিপুর নয়, গোটা দেশের ক্রীড়ামহলের কাছেই গর্বের।
মণিপুরের ইম্ফল পশ্চিম জেলার নাওরেম লেইকাইয়ের বাসিন্দা লানচেনবি। প্রতিযোগিতায় দু–টি ইভেন্ট মিলিয়ে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ১৮.০৩৯। এর মধ্যে চাংছুয়ান বিভাগে (উশুর একটি খালি হাতে কৌশল প্রদর্শনের ধরন। এতে দ্রুত পায়ের কাজ, উঁচু লাফ, প্রসারিত অঙ্গভঙ্গি ও ক্ষিপ্রতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়) ৯.৩১৬ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন তিনি। অন্যদিকে, গুনশু (প্রতিযোগীরা লম্বা লাঠি ব্যবহার করে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক ও আত্মরক্ষামূলক কৌশল প্রদর্শন করে।) বিভাগে তার প্রাপ্ত নম্বর ৮.৭২৩। এই দুই বিভাগের সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতেই তৃতীয় স্থান ও ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয় লানচেনবির। প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছেন মিশরের সোন্দোস সোনবোল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ১৮.৬৬০। ১৮.১৯৯ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পেয়েছেন ভেনেজ়ুয়েলার ভ্যালেরিয়া ফ্র্যানেরিস দুদামেল আলভারাদো। গুনশু ইভেন্টের পর চতুর্থ স্থানে ছিলেন ভারতীয় প্রতিযোগী। কিন্তু চাংছুয়ানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে শেষ পর্যন্ত উঠে আসেন পদকজয়ীদের তালিকায়। ডাকারের প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জন করা একমাত্র ভারতীয় উশু খেলোয়াড়ও ছিলেন লানচেনবি।
মণিপুরের মেয়ের এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সে রাজ্যের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম। সমাজমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, লানচেনবির এ কৃতিত্ব মণিপুর, গোটা দেশের কাছেই গর্বের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, অধ্যবসায় আর খেলায় উৎকর্ষ আগামী দিনে আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলোর জগতে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। লানচেনবির সাফল্যে খুশি রাজ্যের বিশিষ্ট উশু প্রশিক্ষক মায়াংলাম্বম বিমোলজিৎও। অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রশিক্ষক দু–বার এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে লানচেনবির এ সাফল্য ভারতীয় উশুর অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডাকারের পদক জয়ই লানচেনবির প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্য নয়। এর আগে ২০২৬ সালে চিনের তিয়ানজিনে আয়োজিত বিশ্ব জুনিয়র উশু চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের যুব চাংছুয়ান বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে তামিলনাড়ুতে আয়োজিত ২৫তম সাব-জুনিয়র জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশিপেও সোনা জয়ের নজির রয়েছে তাঁর। পর পর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, অল্প বয়স থেকেই নিজের খেলায় কতটা ধারাবাহিক লানচেনবি।
ডাকারের যুব অলিম্পিক্সে ভারতের পদকসংখ্যাও বেড়েছে লানচেনবির হাত ধরে। এ পর্যন্ত একটি রুপো এবং দু–টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট তিনটি পদক জিতেছে ভারত। সোমবার মহিলাদের ৬৩ কেজি জুডো বিভাগে রুপো জিতেছেন খুশবু রাজকভাই দরজাদা। যুব অলিম্পিক্সে পদকজয়ী দ্বিতীয় ভারতীয় জুডোকা হিসাবে নজির গড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মহিলাদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে ব্রোঞ্জ জিতে যুব অলিম্পিক্সে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় সাঁতারু হয়েছেন ধিনিধি দেশিংহু। এক দিকে জুডো, অন্য দিকে সাঁতার — দুই বিভাগে সাফল্যের পরে এ বার উশুতেও পদক এল ভারতের ঝুলিতে।
উল্লেখ্য, উশু চিনের প্রাচীন মার্শাল আর্ট। প্রতিযোগিতামূলক উশু মূলত দু’টি বিভাগে বিভক্ত— তাওলু এবং সান্দা। তাওলুতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিভিন্ন কৌশল, শারীরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের নম্বর দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সান্দা হল পূর্ণাঙ্গ সংস্পর্শভিত্তিক লড়াইয়ের বিভাগ। সেখানে ঘুষি, লাথি এবং প্রতিপক্ষকে ফেলে দেওয়ার মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়। চাংছুয়ান এবং গুনশু — দু–টিই তাওলু বিভাগের অন্তর্গত। চাংছুয়ানে খালি হাতে বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করা হয়। গুনশুতে ব্যবহার করা হয় লম্বা লাঠির মতো অস্ত্র। উল্লেখযোগ্য বিষয়, যুব অলিম্পিক্সে উশু এ বারই পদকজয়ী খেলা হিসাবে ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সে মঞ্চেই প্রথম ভারতীয় হিসাবে পদক জিতে লানচেনবি দেশের উশু ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। মণিপুরের ক্রীড়া ঐতিহ্যেও এ সাফল্য নিঃসন্দেহে নতুন সংযোজন। রাজ্যটি এর আগেও আন্তর্জাতিক উশু মঞ্চে একাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে। ভারতের হয়ে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে উশুতে পদকজয়ী একমাত্র খেলোয়াড় নাওরেম রোশিবিনা দেবীও মণিপুরেরই মেয়ে।
❤ Support Us






