Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • নভেম্বর ৬, ২০২৬

দিল্লিতে ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপন ! সৃষ্টি সংরক্ষণে ডিজিটাল আর্কাইভের দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপন ! সৃষ্টি সংরক্ষণে ডিজিটাল আর্কাইভের দাবি

ভারতরত্ন ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে অসম সরকার। আগামী ২৯ নভেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। তাতে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য শুক্রবার একটি অনলাইন পোর্টালেরও উদ্বোধন করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ওই পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করা ব্যক্তিরা ই-আমন্ত্রণপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য সে আমন্ত্রণপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

শুক্রবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে আমন্ত্রিতদের বিকেল ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছতে হবে। শুধু অসমের বাসিন্দারাই নন, দিল্লি-সহ দেশের অন্য রাজ্যে, বিদেশে বসবাসকারী অসমীয়ারাও এই পোর্টালের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ, অসমের সীমানা ছাড়িয়ে ভূপেন হাজরিকার অনুরাগীদের জন্যও খুলে দেওয়া হচ্ছে এই আয়োজনের দরজা। পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অনুষ্ঠানস্থলের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে তার আগেই নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে পারে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে প্রত্যেক আবেদনকারীর পুলিশি তথ্য যাচাই করা হবে। নাম নথিভুক্তির জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। এককালীন পাসওয়ার্ড বা ‘ওটিপি’-র মাধ্যমে নম্বর যাচাইয়ের পরে আবেদনকারীকে একটি স্বীকৃতিসূচক নম্বর দেওয়া হবে। সেটি সংরক্ষণ করতে হবে। ১২ নভেম্বর থেকে ওই পোর্টালে ঢুকে ই-আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করা যাবে। পোর্টালের ঠিকানা : https://sudakantha.assam.statedatacentre.in

জানা যাচ্ছে, দু–ঘণ্টার এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশের একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী। তালিকায় রয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল, শঙ্কর মহাদেবন, কল্পনা পাটোয়ারি, অঙ্গরাগ ‘পাপন’ মহন্ত, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, এল সুব্রহ্মণ্যম ও মহালক্ষ্মী আইয়ার। অসমের শিল্পীদের মধ্যে থাকবেন তারালি শর্মা, মৌসুমি সাহারিয়া, আনন্দিতা পাল, জুবলি বরুয়া, নাহিদ আফরিন, শঙ্কুরাজ কোঁওর, রূপম ভূঞা, দীক্ষু শর্মা, দাওয়ার হাজরিকা, ময়ূর হাজরিকা, আচুর্য বরপাত্র। জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরের শিল্পীদের এক মঞ্চে এনে ভূপেন হাজরিকার সঙ্গীতজীবন এবং সাংস্কৃতিক অবদানকে স্মরণ করাই এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের সূচনা অনুষ্ঠানে এক হাজার শিল্পী একসঙ্গে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। সমাপ্তি অনুষ্ঠানেও তাঁদের ফের একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা অন্য শিল্পীদের সঙ্গে পরিবেশন করবেন ভূপেন হাজরিকার কালজয়ী গান ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এবং ‘উই আর ইন দ্য সেম বোট, ব্রাদার’। দুই গানের মধ্য দিয়েই মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, সম্প্রীতি আর মানবিকতার যে বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ভূপেন, তা ফের তুলে ধরতে চায় আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানে বিদেশের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ভূপেন হাজরিকার ঘনিষ্ঠজনদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। অনুষ্ঠান আয়োজনের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুধু শিল্পী বা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নয়, সাধারণ অনুরাগীদেরও এই অনুষ্ঠানের অংশ করে নিতে চাইছে অসম সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী এক হাজার পড়ুয়াকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে তাঁদের নির্বাচন করা হবে। পড়ুয়াদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানস্থলের মোট ধারণক্ষমতা পাঁচ হাজার। পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ছাড়া ভূপেন হাজরিকার তিন থেকে চার হাজার অনুরাগীকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জন্মশতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আর একটি বিশেষ আকর্ষণ ‘ভূপেন হাজরিকা জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান। এ বছর এই সম্মান পাচ্ছেন প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী ঊষা মঙ্গেশকর। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঊষা ইতিমধ্যেই পুরস্কার গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছেন। ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর হাতেই তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

ভূপেন হাজরিকার সঙ্গে একান্তভাবে জড়িয়ে রয়েছে অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাস এবং মানুষের আবেগের বিস্তৃত পরিসর। তাঁর সৃষ্টির পরিসর ছড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির বৃহত্তর পরিসরেও। গান, কবিতা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সমাজভাবনার মধ্য দিয়ে তিনি মানবিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির সৃষ্টির পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে, তাঁকে শুধুমাত্র সঙ্গীতশিল্পীর পরিচয়ে বেঁধে রাখা যায় না। তাঁর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে সে উত্তরাধিকারকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কিন্তু স্মরণ ও উদ্‌যাপনের পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টিকর্মকে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর বিপুল সৃষ্টি আগামী প্রজন্মের জন্য কতটা সুরক্ষিত রাখা যাচ্ছে? শুধু স্মরণসভা, জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করলেই কি তাঁর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব? না কি প্রয়োজন তাঁর সমগ্র সৃষ্টিভান্ডারকে সুসংবদ্ধ ভাবে সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যতের গবেষক, শিল্পী এবং সাধারণ মানুষ সহজেই তার নাগাল পান?  ভূপেন হাজরিকার প্রয়াণের পরে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পথে নেমেছিলেন অসংখ্য মানুষ। পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্মরণ করে নানা অনুষ্ঠান, জনসমাবেশ, প্রার্থনা আর সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন হয়েছে, হচ্ছে, আগামীতেও হয়তো হবে। অসমের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তাঁর গান আজও সমান প্রাসঙ্গিক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর গান শুনছে, গাইছে। কিন্তু তাঁর সৃষ্টির মূল উপাদানগুলি কতটা সুরক্ষিত রয়েছে, আজ সে প্রশ্নও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ভূপেনের গান, কবিতা, সাহিত্যকর্ম, চলচ্চিত্র, ভাষণ, গীতিকবিতা, সুর, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংকে অসমের অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, দাবি তুলছেন অসমের শিল্পীও নাগরিক মহল। তাঁদের মতে, জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা ব্যক্তিকে দেওয়া তাঁর অসংখ্য সাক্ষাৎকারও এ উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, সমসাময়িকদের স্মৃতিচারণ, তাঁকে ঘিরে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলিও নথিবদ্ধ করা দরকার। কারণ, শিল্পীর উত্তরাধিকার শুধু তাঁর নিজের সৃষ্টির সীমাবদ্ধ নয়, তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া সময়ের ইতিহাসও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভূপেন হাজরিকার গান নিয়ে গবেষণার আগ্রহ রয়েছে বহু গবেষকের। তাঁর সঙ্গীত বিদেশি পর্যটক, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিপ্রেমীদেরও ধারাবাহিকভাবে আকৃষ্ট করেছে। ফলে তাঁর সৃষ্টির উৎস, সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষার ব্যবহার, সুরের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার সুযোগ রয়েছে। সে গবেষণার জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার। বিচ্ছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে থাকা রেকর্ডিং, পাণ্ডুলিপি, সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য উপাদান এক জায়গায় এনে সংরক্ষণ করা গেলে গবেষণার কাজ অনেক সহজ হবে।

এ কাজে আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মত শিল্পী মহলের একাংশের। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’য়ের সাহায্যে পুরনো অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের শব্দের মান উন্নত করা, ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান পুনরুদ্ধার, বিভিন্ন সৃষ্টির ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করা সম্ভব। সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন পুরনো রেকর্ডিং কিংবা দুর্লভ নথি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করলে সেগুলি ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে। কোনো ভাবেই যেন মূল সৃষ্টির চরিত্র, শিল্পীর কণ্ঠস্বর কিংবা সঙ্গীতের মৌলিকত্ব বিকৃত না হয়, এ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন অনেকে। এ উদ্যোগের প্রথম ধাপ হওয়া উচিত ভূপেন হাজরিকার সমস্ত গানকে সুসংবদ্ধ ভাবে নথিবদ্ধ করা। মনে করা হয়, তিনি পাঁচশোরও বেশি গান রচনা করেছিলেন। তার অধিকাংশই নিজের কণ্ঠে পরিবেশন করলেও বেশ কিছু গান গেয়েছেন অন্য শিল্পীরা। কোন গান কখন লেখা হয়েছে, তার বিষয় কী, কোথায় প্রথম পরিবেশিত হয়েছিল, কারা গেয়েছেন — এমন তথ্যও সংরক্ষণ করা জরুরি। সাহিত্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সঙ্গীত গবেষকদের যুক্ত করে এই কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।

ভূবেন হাজারিকার সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মতে, প্রেম, প্রকৃতি, সমাজ, দেশ, দেশের মানুষ এবং দেশাত্মবোধ — বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত তাঁর গানগুলিকে পৃথক বিভাগে সাজানো যেতে পারে। একই ভাবে বিভিন্ন ভাষায় লেখা এবং সুরারোপ করা গানগুলিরও তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। হিন্দি ও বাংলায় ভূপেন হাজরিকার অসংখ্য গান রয়েছে। অসমিয়া ভাষার পাশাপাশি এই ভাষাগুলিতে তাঁর সৃষ্টিকর্মও ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা জরুরি। তাতে ভাষার সীমানা পেরিয়ে তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানো সম্ভব হবে।  তবে ডিজিটাল সংরক্ষণের নামে মূল সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন করা চলবে না। একটি গানের শব্দ, বাক্য, সুর কিংবা পরিবেশনার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যই তার শিল্পমূল্য নির্ধারণ করে। ফলে পুরনো রেকর্ডিংয়ের শব্দের মান উন্নত করা হলেও মূল রেকর্ডিংটি আলাদা ভাবে অক্ষত রাখতে হবে। কোনো শব্দ বা বাক্য অস্পষ্ট হলে অনুমানের ভিত্তিতে তা সংশোধন করা উচিত নয়। বরং কোথায় রেকর্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত, কোথায় শব্দ অস্পষ্ট, সে তথ্যও নথিভুক্ত করা প্রয়োজন। এ ভাবেই মূল উপাদান ও প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি উন্নত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা যাবে।

দাবি উঠছে, এ কাজে শুধু অসম সরকার নয়, কেন্দ্র সরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল সংরক্ষণের জন্য বিপুল অর্থ, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো আর দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলি আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারে। তৈরি হতে পারে বিশেষজ্ঞ কমিটি, যারা গোটা কাজের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং গুণমানের উপর নজর রাখবে। শুধু ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি নয়, প্রতিটি গানের সঙ্গে তার রচনাকাল, ভাষা, বিষয়, শিল্পী, রেকর্ডিংয়ের উৎস আর স্বত্ব সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন। এই তথ্যভান্ডারকে বলা হয় ‘মেটাডেটা’। এর সাহায্যে ভবিষ্যতের গবেষক কিংবা সাধারণ শ্রোতা কোনো নির্দিষ্ট গান বা সৃষ্টিকর্ম সহজেই খুঁজে পেতে পারবেন। পাশাপাশি মূল রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করাও সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য একাধিক ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যের প্রতিলিপি রাখা প্রয়োজন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো ফাইলের বিন্যাস অচল হয়ে যেতে পারে। তাই সময়ান্তরে সেগুলিকে নতুন প্রযুক্তির উপযোগী করে তোলার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। সংরক্ষিত উপাদানের একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। অন্যদিকে স্বত্ব বা অনুমতির কারণে যেগুলি প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়, সেগুলির জন্য গবেষকদের নির্দিষ্ট নিয়মে প্রবেশাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!