- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২১, ২০২৫
২১ ঘিরে ফুলে ফুলে টক্কর । উত্তরকন্যা অভিযান থেকে ধর্মতলার সমাবেশকে কটাক্ষ শুভেন্দুর
ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের সভা, অন্যদিকে শিলিগুড়িতে রাজ্য সরকারের শাখা সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’র উদ্দেশে বিজেপির অভিযান— আক্ষরিক অর্থেই হাই ভোল্টেজ রাজনৈতিক উত্তেজনার দিন আজ, ২১ জুলাই। সোমবার সকাল থেকে দক্ষিণে রাজপথ দখলে রেখেছিল তৃণমূল, উত্তরে কর্মী সমর্থকদের ঢল নামিয়েছিল বিজেপি। রাজ্য রাজনীতির দুই মেরু, রাজ্যের দুই প্রান্তে যুযুধান লড়াইয়ে ‘মুখোমুখি’ দাঁড়িয়েছে।
বিজেপির যুব মোর্চার ব্যানারে আয়োজিত উত্তরকন্যা অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড় থেকে চুনাভাটি মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিলের পর আয়োজন করা হয় জনসভার। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, মিছিল ‘উত্তরকন্যা’ ভবনের কাছে পৌঁছতে পারেনি। বিজেপির কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছিল আগেই। প্রথমে প্রশাসন মিছিলের অনুমতি দেয়নি, কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। শেষমেশ আদালতের শর্তসাপেক্ষ ছাড়পত্র মেলার পরেই জোরকদমে মিছিল-মিটিংয়ের প্রস্তুতি নেয় গেরুয়া শিবির। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকরা বাস বোঝাই করে পৌঁছে যান শিলিগুড়িতে।
এদিন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অভিযান শুরুর আগে কড়া নিরাপত্তায় অঞ্চল ঢেকে ফেলেছিল পুলিশ-প্রশাসন। ‘উত্তরকন্যা’র আশপাশে বসানো হয়েছিল ব্যারিকেড, মোতায়েন ছিল জলকামান, র্যাফ, ড্রোন এবং একাধিক মোবাইল ইউনিট। পুলিশের নজরদারিতে ছিল ফুলবাড়ি, তিনবাত্তি মোড়, চুনাভাটি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। মিছিল শুরুর আগে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্য সরকারকে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের চোর-চোট্টা নেতা, মন্ত্রী, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর কারণেই ‘উত্তরকন্যা’ অপবিত্র হয়েছে। বিজেপি এই অভিযান করে উত্তরকন্যাকে ‘পবিত্র’ করবে। আজকের কর্মসূচি থেকেই উত্তরবঙ্গের নেতাকর্মীদের মধ্যে জয়ের বার্তা পৌঁছে যাবে। ২০২৬ সালের পর এখান থেকেই বসবে বিজেপির মন্ত্রিসভা।’
শঙ্কর ঘোষের পাশাপাশি তীর্যক মন্তব্য শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। গত ক-দিন ধরেই উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মতলার শহিদ দিবসকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘২১ জুলাই তৃণমূল ডিম ভাত খাবে, আমরা যাব উত্তরকন্যা।’ এদিনের জনসভা থেকেও তাঁর কটাক্ষ, ‘ধর্মতলায় যাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে, তারা আসলে রোহিঙ্গা আর দাগি চোর। তৃণমূল সভা করে না, পাগলু নাচ হয় সেখানে। জোর করে, ভয় দেখিয়ে লোক জড়ো করা হয়। তাঁদের সামনেই বক্তব্য রাখছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী।’ তাঁর আরো অভিযোগ, ‘আজ বাংলায় গরু পাচার নেই, কয়লা পাচার নেই। কারণ, সব দাগি লোকজন ধর্মতলায় ভিড় করেছে ডিম-ভাত খেতে।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের শহিদ দিবসের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে কেন ২১ জুলাই-ই বেছে নেওয়া হল, সে প্রশ্ন তুলে ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা তো কোনো প্যারালাল অনুষ্ঠান করি না। আমাদের সভা করতে দেখে, ওদেরকেউ কেন অনুষ্ঠান করতে হয়!’
উল্লেখ্য, এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো বিলাসবহুল বাস, গাড়ি বা খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় শয়ে শয়ে মানুষ উপস্থিত হয়েছেন শিলিগুড়িতে। বিজেপি নেতাদের দাবি, এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে, রাজ্যবাসী তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবার সত্যিই প্রতিবাদ জানাতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী সুরক্ষা-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত হলেও, বিজেপির উত্তরবঙ্গের কর্মসূচির আসল উদ্দেশ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সংগঠন যতই মজবুত হোক, উত্তরবঙ্গে এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিজেপি। এই জমিতেই নতুন করে চাষ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতেই এমন আড়ম্বরপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন।
২১ জুলাই মানেই তৃণমূলের শহিদ দিবস। প্রতি বছর ধর্মতলায় যে মহাসমাবেশ হয়, তাতে বহু মানুষ যোগ দেন। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। একই দিনে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচীও পালিত হয়েছে। শহিদ মিনার চত্বরে ডিএ আন্দোলনকারীরা ‘মেধা তর্পণ’ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, চাকরি প্রার্থী ও চাকরিচ্যুতদের যৌথ মঞ্চও জানিয়েছে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যহত থাকবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের দক্ষিণে যেমন ছিল জনস্রোত, উত্তরে ছিল রাজনৈতিক জোর পরীক্ষা। যদিও, তৃণমূলের দাবি, বিজেপি-সিপিএম যতই বিরোধীতা করুক, কুৎসা রটাক বাংলার মানুষ তাঁদের পাশেই রয়েছেন।
❤ Support Us






