- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৭, ২০২৫
অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্র । প্রাক্তন ‘র’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জারি জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা
সন্ত্রাসবাদ দমন থেকে বিদেশে গোপন নজরদারি— দেশে-বিদেশে বহু স্পর্শকাতর অভিযানের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। কিন্তু এবার তিনি নিজেই বিচারের কাঠগড়ায়। ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালত।
সোমবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল বিকাশ যাদবের। কিন্তু দিনের পর দিন আদালতের ডাক উপেক্ষা করে তিনি ‘নিখোঁজ’। অতঃপর, বিচারক সৌরভ প্রতাপ সিং লালার এজলাস থেকে নির্দেশ দেয়, ‘আসামি বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। তাঁর জামিনদারকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলো বিএএনএস -এর ৪৯১ ধারা অনুযায়ী।’ জানা গিয়েছে, এ মামলায় যাদবের জামিনদার ছিলেন তাঁরই এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিকাশ যাদবকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। রোহিনী-নিবাসী এক ব্যবসায়ীর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর এবং মুক্তিপণ আদায়ের মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, বিকাশ যাদব এবং তাঁর সহযোগীরা ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে দাবি করেন, তাঁরা কুখ্যাত অপরাধী লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হয়ে কাজ করছেন। পরে জানা যায়, এ অপহরণচক্রের পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত। আরো চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন প্রাক্তন ‘র’ কর্মকর্তার যাদবের নাম উঠে আসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর তদন্তে। অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে খালিস্তানি নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পন্নুনকে হত্যার ছক কষেছিল যে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী, সে ষড়যন্ত্রে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বিকাশ যাদবের। মার্কিন বিচার বিভাগ-এর প্রকাশিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভারতের এক প্রাক্তন গোয়েন্দা অফিসার এ হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। যদিও পন্নুন হত্যার পরিকল্পনায় যাদবের ভূমিকা নিয়ে দিল্লি পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা শুরু হয়নি, তবে মার্কিন আদালতের প্রকাশ্য নথি ও ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের ইঙ্গিতে স্পষ্ট, বিষয়টি ভারতেও নজর এড়ায়নি।
ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারের পর, শর্তসাপেক্ষে জামিন পান বিকাশ। শর্ত ছিল তাঁকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তিনি বারবার আদালতের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাজিরা থেকে ছাড়ও চেয়েছিলেন। আদালতও মানবিক কারণে সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু সোমবারের শুনানির আগে তিনি কোনো নতুন অব্যাহতির আবেদন করেননি, এবং হাজিরাও দেননি। সে কারণেই আদালতের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। মামলার অপর অভিযুক্ত আবদুল্লাহ খান এ দিন আদালতে পাসপোর্ট মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। জানান, তাঁর পিতা রক্ত ক্যানসারে আক্রান্ত, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে যেতে হতে পারে। আদালত জানায়, পূর্বে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি শর্ত ভাঙেননি। সে কারণে পাসপোর্ট মুক্তির মেয়াদ আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ানো হলো একই শর্তে। এ মামলায় তৃতীয় অভিযুক্ত জলালউদ্দিন ওরফে সমীর। অভিযুক্ত ৩ জনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তাঁদের গতিবিধির উপরে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকরভাবে ওই মামলায় সম্প্রতি আরও এক নতুন নাম উঠে এসেছে। অসমের গুয়াহাটির বাসিন্দা বিক্রম গগৈকে দিল্লি পুলিশের তরফে ৪ বার হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে গগৈ আগাম জামিনের আবেদন করেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধুমাত্র জলালউদ্দিন এবং আবদুল্লাহর মধ্যে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, এর বাইরে ওই ঘটনায় তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।
অন্যদিকে, বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে আদালতের কড়া পদক্ষেপ নজর কেড়েছে কূটনৈতিক মহলেও। কারণ, পন্নুন হত্যা ষড়যন্ত্রে তাঁর নাম জড়ানোর পর থেকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং তথ্য বিনিময় নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। এফবিআই ভবিষ্যতে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানাতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
❤ Support Us






