- দে । শ
- নভেম্বর ১৫, ২০২৫
শান্তিহীন শান্তিনগর ! ২০০২ এর তালিকায় নাম নেই বহু বাসিন্দার। ফের পেরোতে হবে কাঁটাতার ?
শান্তি নেই শান্তিনগরে। উদ্বেগে কালেখাঁতলা। পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা আর কেতুগ্রামের শান্তিনগরের সিংহভাগ বাসিন্দাই বাংলাদেশ থেকে আসা। দুটি এলাকারই প্রায় ৫২ শতাংশ বাসিন্দার নাম নেই ২০০২-র ভোটার তালিকায়। তা জেনেই দুই এলাকাজুড়ে উদ্বেগ-দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। ‘আবার বাংলাদেশ ফিরে যেতে হবে নাতো?’ এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। চক্কর কেটে জানা গেল, কেউ ২০ বছর, কেউ বছর দশেক আগে, কেউবা বছর পাঁচেক আগে শান্তির খোঁজে বাংলাদেশ থেকে কাঁটাতার ডিঙিয়ে চলে আসেন। একদল পূর্বস্থলী ২নং ব্লকের কালেখাঁতলা ১নং পঞ্চায়েত এলাকায় ঘাঁটি গাড়েন। এই এলাকার ১৯৬ নং বুথে মোট ভোটার ৮৫০ জন। ২০০২-র তালিকায় নাম নেই ২৫০ জনের। ১৯৭নং বুথের ৯৫০ ভোটারের মধ্যে ২০০২-র তালিকায় নেই ৫০০ ভোটারের নাম। এলাকার বাসিন্দা সুমন দাস, নিরঞ্জন দাসরা বলছিলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য সবকিছু ছেড়েছুড়ে বাংলাদেশ থেকে চলে আসি। এখন শুনছি ২০০২-র তালিকায় নাম না থাকলে নাগরিকত্ব চলে যেতে পারে। খুবই চিন্তা হচ্ছে।’ এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনকে ‘সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখা’র আর্জি জানাচ্ছেন পূর্বস্থলী ২নং পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ অজিত ঘোষ।
এদিকে বাংলাদেশের একদল বাসিন্দা কেতুগ্রামের প্রত্যন্ত জলা-জঙ্গল অনুর্বর এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। এলাকার নাম দেন ‘শান্তিনগর।’ কৃষিকাজ ও বালাপোশ তৈরি করে ভালই চলছিল। এখানকার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই হয়েছে। বাদ সাধল এসআইআর। গ্রামে রয়েছে ২টি বুথ। একটি বুথের ৫০ শতাংশ ও অন্য বুথের ২ শতাংশ ভোটারের নাম নেই তালিকায়। বাংলাদেশের মাগুরাইয়ের পৈতৃক ভিটে ছেড়ে স্ত্রী ও ২ মেয়েকে নিয়ে শান্তিনগরে ঘাঁটি গাড়া রমেন রায় বলছিলেন, ‘অত্যাচারের ভয়ে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি। এখন কী করে নাগরিকত্ব প্রমাণ করব, সেই চিন্তায় ঘুম ছুটেছে।’ বাংলাদেশের রাজবাড়ি এলাকা থেকে আসা শুকদেব বিশ্বাস জানালেন, ‘শান্তির খোঁজে ঘরবাড়ি, জমিজমা ছেড়ে চলে এসেছি। এখন দেখছি ভোটার তালিকায় নাম নেই। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে।’ রমেন-শুকদেবের মতই দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে এলাকার বাসিন্দা শিউলি মণ্ডল, দেবরানি বিশ্বাস, সুমন মণ্ডলদের।
শুধু শান্তিনগরই নয়, ২০০২-র ভোটার তালিকায় নাম নেই কালনার বহু পদ্মনেতারও। কালনা ২নং ব্লকের সাতগাছিয়া, জিউধারা, শাসপুর, রামকৃষ্ণপল্লী, সুভাষপল্লীতে ওপার বাংলার বহু মানুষ বাস করেন। মতুয়া সম্প্রদায়েরও বহু মানুষ রয়েছেন। তাদের একটা বড় অংশের নাম নেই ২০০২-র ভোটার তালিকায়। সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের দিঘির পাড়ের বিজেপির জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য গিরেন বাইন, বিজেপির কালনা ৩নং মণ্ডল সভাপতি সুভাষপল্লীর বাসিন্দা সমীরণ হাওলাদার-সহ বহু স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীর নাম নেই ২০০২-র ভোটার তালিকায়। সূত্রের খবর, নাম না থাকায় প্রকাশ্যে সোচ্চার না হতে পারলেও দলের অন্দরে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ২০০২-র ভোটার তালিকায় নাম না থাকা পদ্মনেতা ও কর্মীরা।
❤ Support Us





