Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

আমেরিকার অনুপস্থিতিতে মুখোমুখি রাশিয়া-ইউক্রেন ! কলকাতা বইমেলায় এবছরও নেই বাংলাদেশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আমেরিকার অনুপস্থিতিতে মুখোমুখি রাশিয়া-ইউক্রেন ! কলকাতা বইমেলায় এবছরও নেই বাংলাদেশ

‘যুদ্ধ শুরু হবে কেন! যুদ্ধ তো চলছেই…’ টানা ৪ বছর ধরে বারুদের গন্ধে জর্জরিত রাশিয়া ও ইউক্রেন। বাস্তবের যুদ্ধক্ষেত্রে একে অপরের মুখোমুখি দুই দেশ। যুদ্ধের আবহ থেকেই একেবারে ভিন্ন ছবি ধরা দিতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায়। বইয়ের দুই মলাটে বন্দি অক্ষরের টানে এবার বইমেলার প্রাঙ্গণে মুখোমুখি হচ্ছে যুযুধান রাশিয়া ও ইউক্রেন।

আর মাত্র তিন দিনের অপেক্ষা। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবছর বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্তিনা। চে গেভেরা-ওকাম্পোর দেশ। মেসি-মারাদোনার দেশ, ফুটবলের দেশ। সে দেশের সঙ্গে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি। ১৯২৪ সালে পেরু যাওয়ার পথে অসুস্থ অবস্থায় বুয়েনস আইরেসে ওকাম্পোর আথিথেয়তায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বাঙালির চিরায়ত আবেগকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে থিম প্যাভিলিয়ন। নীল-সাদা রঙের প্রাধান্যে সেখানে থাকছে নতুন ভাবনা ও আধুনিক নকশা। বইমেলার ৯টি প্রবেশপথের মধ্যে ২টি গেট তৈরি হচ্ছে আর্জেন্তিনার প্রাচীন স্থাপত্যের আদলে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতে আর্জেন্তিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো এবং সে দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে।

এবছর কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ২০টি দেশ। তার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ, এ প্রথম বার অংশগ্রহণ করতে চলেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। ইতিপূর্বে একাধিক বার আমেরিকা, রাশিয়া বইমেলায় অংশ নিলেও ইউক্রেনের উপস্থিতি এই প্রথম। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড এবং বইপ্রেমী মহল। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ইউক্রেন প্রথম বার আসছে। রাশিয়া তো থাকছেই। থিম কান্ট্রি সহ মোট ২০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। আমরা চাই, বইমেলা হোক আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যের মিলনক্ষেত্র। বই-ই তো মানুষের প্রকৃত বন্ধু।’ যুদ্ধের বাস্তবতায় যেখানে প্রতি মুহূর্তে ট্রিগারে টান পড়ছে, বইমেলার মাঠে সেখানে যেন অন্য ছবি— রাইফেলের বদলে বই, সংঘর্ষের বদলে অনন্য সংলাপ।

তবে এবছরের বইমেলায় চমকপ্রদ অনুপস্থিতিও রয়েছে। থাকছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছরই কলকাতা বইমেলায় বড় জায়গা জুড়ে মার্কিন প্যাভিলিয়ন দর্শকদের আকর্ষণ করত। ২০১১ সালে থিম কান্ট্রিও ছিল আমেরিকা। কিন্তু এবছর সেই পরিচিত দৃশ্য আর থাকছে না। দিল্লির মার্কিন কনসুলেট সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে বইমেলায় স্টল দেওয়ার জন্য ট্রাম্প সরকার কোনো আর্থিক বরাদ্দ করেনি। এই মর্মে কয়েক সপ্তাহ আগেই পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘চিঠিতে জানানো হয়েছে, বরাদ্দ না পাওয়ায় এবছর আমেরিকা বইমেলায় অংশ নিতে পারবে না।’ গিল্ড সূত্রে খবর, বহু বছর ধরেই নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দেশ ছিল আমেরিকা। এমনকি ২০১৭ সালেও তারা থিম দেশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্ক সংক্রান্ত টানাপোড়েনের প্রভাব যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পড়েছে, তা এবারের বইমেলায় স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আপত্তি তুলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে শৈত্য তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই কলকাতা বইমেলা থেকে সরে দাঁড়াল আমেরিকা? মার্কিন দেশের পাশাপাশি এবছরও অনুপস্থিত বাংলাদেশ। গিল্ডের দাবি, স্টল বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র বাংলাদেশের তরফে জমা পড়েনি। ১৯৯৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশ গত বছরও উপস্থিত ছিল না। এবারও সে ধারা অব্যাহত থাকছে। ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘গিল্ড কোনো সরকারি সংস্থা নয়। আমরা আবেদনপত্র পাঠাতে বলেছিলাম। কিন্তু তা জমা দেওয়া হয়নি।’ সব মিলিয়ে এবছর বইমেলা প্রাঙ্গণে যেন নীলের রাজত্ব—আর্জেন্তিনা, রাশিয়া, ইউক্রেন—একাধিক দেশের জাতীয় পতাকায় নীল রঙের আধিক্য। আর্জেন্তিনা, রাশিয়া, ইউক্রেন ছাড়াও জার্মানি, ইউকে, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, নেপাল সহ লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ অংশ নিচ্ছে। গত বছর অনুপস্থিত অস্ট্রেলিয়া ফিরছে এবছর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!