- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
রাজস্থানের রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, দগ্ধ হয়ে মৃত্যু ৭ শ্রমিকের। দাহ্য পদার্থ মজুত নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তে প্রশাসন
সোমবার সকালেই পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজস্থানের ভিওয়াড়ি শিল্পাঞ্চল। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি রাসায়নিক কারখানায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ৭ জন শ্রমিক। দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। ভিতরে আটকে পড়া ২ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছে দমকল ও প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তার পর একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও তা শোনা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই কারখানার ভিতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। আগুন দ্রুত পুরো ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৬টি ইঞ্জিন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও ৭ জন শ্রমিককে আর বাঁচানো যায়নি। আগুনে ঝলসে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত শ্রমিকদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, আগুন লাগার সময় কারখানায় প্রায় ২৫ জন শ্রমিক ছিলেন। বিস্ফোরণের পর কয়েক জন ভিতরে আটকে পড়েন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও দমকল। দু’জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শিল্পাঞ্চলের ওই রাসায়নিক কারখানাটি কয়েক মাস ধরে বন্ধ ছিল। কিন্তু ভিতরে বিপুল পরিমাণ কার্ডবোর্ড ও দাহ্য রাসায়নিক মজুত ছিল। সেই দাহ্য পদার্থই আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে বলে অনুমান প্রশাসনের। নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং বন্ধ কারখানায় কেন এত দাহ্য সামগ্রী রাখা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট— দুটো সম্ভাবনাই তদন্তকারীরা খোলা রাখছেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমিতা মিশ্র জানিয়েছেন, বিষ্ফোরণের পর, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের কারখানাগুলি খালি করে দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি মৃত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। রাজস্থান কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক অতীতে আজমেরে রাসায়নিক ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখায় সরকার ব্যর্থ। বর্তমান সরকারের আমলে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং বিরোধী দলনেতা টিকারাম জুল্লা মৃত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
❤ Support Us






