Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১১, ২০২৬

বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর

মাওবাদী বিরোধী অভিযানে ফের বড়ো সাফল্য। বুধবার ছত্তিশড়ের জঙ্গলঘেরা বস্তার জেলায় একযোগে আত্মসমর্পণ করলেন ১০৮ জন মাওবাদী। জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মিলিত মাথার দাম ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

আত্মসমর্পণের পর নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামগ্রী উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছেউদ্ধার হয়েছে মোট ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র। তার মধ্যে রয়েছে একে-৪৭, ইনসাস রাইফেল, এসএলআর রাইফেল, লাইট মেশিনগান এবং ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র। পাশাপাশি, মাওবাদীদের গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়েক কোটি টাকা ও প্রায় এক কেজি সোনাযার আনুমানিক বাজারদর প্রায় ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা।  পুলিশের দাবিআত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গলের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একাধিক অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানও মিলেছে। সে সূত্র ধরেই উদ্ধার হয়েছে নগদ বিপুল অর্থ ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। বস্তার রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পাট্টিলিঙ্গম জানানসাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এটি অন্যতম বড়ো সাফল্য।

পুলিশ সূত্রে খবরআত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে ৬ জন ডিভিশনাল কমিটির সদস্য রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও একাধিক এরিয়া কমান্ডার ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীও আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর মতেসংগঠনের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং জঙ্গলে লাগাতার অভিযান চলার ফলেই অনেক মাওবাদী আত্মসমর্পণের পথে হাঁটছেন। প্রশাসন জানিয়েছেআত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা মূলত নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী) দলের দণ্ডকারণ্য স্পেশ্যাল জোনাল কমিটির সদস্য। দক্ষিণ বস্তার জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরেই এই কমিটির সদস্যরা সহিংস কার্যকলাপ সক্রিয় ছিল। জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় হামলাসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আক্রমণের মতো একাধিক ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছেআত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা বস্তার বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে অনেকেই বীজাপুর, দান্তেওয়াড়া, নারায়ণপুর জেলার জঙ্গল এলাকায় সক্রিয় ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলগুলিতে মাওবাদীদের ঘাঁটি পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে সেখানে মাওবাদীদের উপর চাপ অনেকটাই বেড়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।  এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে কেন্দ্রের ঘোষিত সময়সীমার প্রসঙ্গও। কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সন্ত্রাস সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। সে সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই বাস্তারে এমন বড়ো সংখ্যায় আত্মসমর্পণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশিষ্ট মহলের কর্মকর্তারা

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদী সংগঠনের ভিতরে ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানঅন্যদিকে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য পুনর্বাসন নীতি— এই দুইয়ের ফলেই বহু মাওবাদী সহিংসতার পথ ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরতে চাইছেন। ইতিমধ্যে সংঘর্ষে বহু মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরাও প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছেগত কয়েক মাস ধরে আত্মসমর্পণ নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ চলছিল। প্রথমে মাওবাদীদের মধ্যে মতৈক্য তৈরি না হলেও সম্প্রতি তারা আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত পাঠায়। অবশেষে বুধবার প্রশাসনের সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেন তাঁরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!