Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ১২, ২০২৬

মতুয়াগড়ে পদ্ম শিবিরের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ ! সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ মনস্পতির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মতুয়াগড়ে পদ্ম শিবিরের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ ! সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ মনস্পতির

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই হতে পারে। তার আগেই মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এনে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন দলের প্রাক্তন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব । তাঁর একাধিক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমা এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে এসআইআর ইস্যুর আবহে এই অঞ্চলের দিকে নজর রয়েছে সব রাজনৈতিক দলের। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, এই মহকুমা থেকেই প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। অভিযোগ, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই উদ্বাস্তু মতুয়া সমাজের মানুষ। ফলে আসন্ন নির্বাচনে মতুয়া ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলের অন্দরের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এনে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করেন মনস্পতি দেব। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “বনগাঁ জেলাতে আমাদের আদি বিজেপিদের মাথায় উঠে নাচছে টিএমসি খেদানো চিটিংবাজরা।”

আরও একটি পোস্টে তিনি বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে লেখেন, “বাগদায় আদি বিজেপি কর্মীদের গলা টিপে ধরে আছে কিছু তৎকাল বিজেপি।”

এছাড়াও তিনি দাবি করেন, “আমি বনগাঁ জেলার প্রথম সভাপতি। ছ’টি বিধানসভা জেতার কারণেই আজ আমার কোনও দায়িত্ব নেই। সব আসন তৃণমূলকে ছেড়ে দিলে হয়তো অনেক বড় দায়িত্ব পেতাম।”

প্রবীণ বিজেপি নেতার এই পোস্ট ঘিরে দলীয় অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বনগাঁ বিজেপিতে বর্তমানে যাঁরা নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বিভিন্ন কারণে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চারটি আসনেই জয় পেয়েছিল বিজেপি। তবে পরবর্তীতে বাগদা বিধানসভা উপনির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল।

এদিকে ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “বিজেপি একটি উশৃঙ্খল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার দল। তারা মানুষের উন্নয়ন করে না, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকে না। শুধু নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই রাজনীতি করে। মানুষ এবার ওদের প্রত্যাখ্যান করবে।”

অন্যদিকে নিজের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে মনস্পতি দেব বলেন, “দলে আমার কোনও পদ নেই, তাই কোনও দায়িত্বও নেই। যা সঠিক মনে হয়েছে, তাই লিখেছি।”

তবে এই বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ। তিনি বলেন, “ওনার কথার কোনও উত্তর দেব না। কারণ উনি দীর্ঘদিন নার্ভের রোগে ভুগছেন।”

সব মিলিয়ে ভোটের আগে মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!