- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ৩০, ২০২৬
ঝালদায় সভা থেকে কুড়মি সমাজের পাশে থাকার বার্তা, কেন্দ্রকে চিঠির কপি দেখিয়ে জোরালো দাবি অভিষেকের
পুরুলিয়ার ঝালদায় সোমবার প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত প্রচারসভা থেকে কুড়মি সমাজের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলে আদিবাসী কুড়মি সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সভা থেকে অভিষেক দাবি করেন, কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই সরব হয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠির কপি আমি আজ দেখালাম। কুড়মিদের এই দাবি নিয়ে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস সোচ্চার হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব এই চিঠি পাঠিয়েছেন, যাতে আপনাদের দাবি যথাযথ মর্যাদা পায়।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আমি যদি ভুল বলি, যদি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বা বিজেপির কোনও নেতা তা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক।”
উল্লেখ্য, এ বার ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরাও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, কুড়মি সমাজ ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছিল এবং তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নেতা দিল্লিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার পাশাপাশি বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, “আমরা বিভাজনের রাজনীতি চাই না, আমরা একতার রাজনীতি চাই।”
এ দিনের সভায় স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির চড়িদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২০০-২৫০টি পরিবার ছৌ মুখোশ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত—তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজার গড়ে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি বান্দোয়ান ও বাঘমুন্ডিতে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কথাও ঘোষণা করা হয়।
সব মিলিয়ে, কুড়মি সমাজের দাবি, ভাষার স্বীকৃতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্থানীয় উন্নয়ন—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়।
❤ Support Us







