- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২, ২০২৬
মোথাবাড়ির ঘটনার নেপথ্যে ‘শাহের চক্রান্ত’। সাগরদিঘির থেকে বিজেপি-কমিশনকে নিশানা মমতার
মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মুহুর্তে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এ আবহেই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির ধুমুর পাহাড় মাঠে জনসভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘পুরো ঘটনাটাই সাজানো। টোটালটাই করিয়েছে অমিত শাহ।’ শুধু অভিযোগেই থামেননি, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিও তুলেছেন তিনি।
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের দামামা অনেক আগেই বেজে গিয়েছে। জেলায় জেলায় সফর করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপি-কমিশনকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করছেন তিনি, জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মোথাবাড়ির অশান্তিকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে এদিন তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, বাংলার নির্বাচন ভেস্তে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার লক্ষ্যেই অশান্তির আবহ তৈরি করা হয়েছে। ‘এটা বিজেপির গেমপ্ল্যান’— সাফ ভাষায় দাবি তাঁর। জনতার উদ্দেশে আবেদন, ‘আমার উপর বিশ্বাস থাকলে দয়া করে কোনোরকম প্ররোচনায় পা দেবেন না। কারও কথায় ফাঁদে পড়বেন না।’
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, এ মুহূর্তে রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে। ফলে মালদহের ঘটনার বিষয়ে তাঁকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। এমনকি বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তারা পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। মালদহের ঘটনাকে ঘিরে শীর্ষ আদালতের-এর পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ঠিকই বলেছে।’ সেই সঙ্গে আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা— সিবিআই ও এনআইএ— সক্রিয় হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, গোটা ঘটনাপ্রবাহের পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে।
সভামঞ্চ থেকে নাম না করে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেও নিশানা করেন মমতা। ‘হায়দরাবাদ থেকে উড়ে আসা নেতা’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি কার্যত আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র দিকে ইঙ্গিত করেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি ‘গদ্দার’ শব্দ প্রয়োগ করে কিছু স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন। ইঙ্গিত করা হয় সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দিকেও। তাঁর অভিযোগ, টাকা দিয়ে কয়েকজনকে প্ররোচিত করে রাস্তা অবরোধ, এমনকি বিচারকদের ঘেরাও পর্যন্ত করানো হয়েছে। তবে শুধু আক্রমণ নয়, বারবার জনতার উদ্দেশে সতর্কতার সুরও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। ‘ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না’— বলেন তিনি। আরও যোগ করেন, ‘লড়াইয়ের রাস্তাটা বন্ধ করে দেবেন না। এতে রাজ্যের বদনাম হচ্ছে।’ নতুন মুখ্যসচিব পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষে আবেগঘন সুরে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আপনারা কি চান আমি অপমানিত হই? আর কত অপমানিত হব?’ একই সঙ্গে বাংলাকে রক্ষা করার ডাক দেন তিনি, আহ্বান জানান, ‘মুর্শিদাবাদকে রক্ষা করুন, নিজেদের অধিকার রক্ষা করুন।’ ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গ টেনে আশ্বাস দেন, ‘আমি থাকতে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না, কাউকে বার করে দেওয়া হবে না।’ জনতার প্রতি তাঁর শেষ বার্তা ছিল আরও সরাসরি ও রাজনৈতিক। ‘আপনারা কি চান বাংলাকে বিজেপির হাতে তুলে দিতে?’— এ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি না চান, তা হলে শান্ত থাকুন। গুজবে কান দেবেন না। কাকে কান নিয়ে গিয়েছে বলে দৌড়োবেন না— ওটা বিজেপির কাক।’
উল্লেখ্য, বুধবার বহরমপুরের একটি হোটেলে রাত কাটানোর পর বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির সভায় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে দলীয় প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের সমর্থনে প্রচার করেন তিনি। এরপর তাঁর সূচিতে রয়েছে সুতি ও মালদার বৈষ্ণবনগরের সভা। টানা নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই মোথাবাড়ি-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র আকার নিচ্ছে, সাগরদিঘির মঞ্চ থেকে দেওয়া এই ভাষণেই তা স্পষ্ট।
❤ Support Us







