Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্রেই মিলবে ভোটাধিকার: ২১ ও ২৭ এপ্রিল ডেডলাইন বেঁধে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের, দলকে বিশেষ নির্দেশ উচ্ছ্বসিত মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্রেই মিলবে ভোটাধিকার: ২১ ও ২৭ এপ্রিল ডেডলাইন বেঁধে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের, দলকে বিশেষ নির্দেশ উচ্ছ্বসিত মমতার

২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন, এমনি নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে বিচারাধীন একাংশের স্বস্তি । দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও বিচারাধীনদের একাংশকে স্বস্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন, এ সময়ের মধ্যে যেসব বিচারাধীনরা ছাড়পত্র পাবেন না, তাঁরা এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। এসআইআর মামলায় ফের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। এই নিয়ে তৃতীয়বার ১৪২ ধারা যাকে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ বলা হয় তা প্রয়োগ করল সর্বোচ্চ আদালত।

‘এসআইআর’ মামলায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার , যারা ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং এদের মধ্যে যাদের প্রথম দফায় ভোট অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ভোট রয়েছে, এর মধ্যে যে ভোটারদের ২১ এপ্রিলের মধ্যে এই বিচারাধীন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এবং যারা যারা ট্রাইব্যুনালে বিবেচনায় পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ট্রাইব্যুনালে যারা যারা এই ২৯ এপ্রিলের আগে, অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাদের যাদের ভোটার লিস্টে নাম উঠবে, যারা যারা ট্রাইব্যুনালে বিবেচনায় পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফার ভোট অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল তাদের ভোট দিতে পারবেন।

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রবল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই রায়ের ফলে তাঁর চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ নন। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের জন্যও বিশেষ নির্দেশ জারি করেছেন তিনি। কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি তিনিই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করেছিলেন, তাই এই রায়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, ট্রাইবুনালের কাজ শেষ হওয়ার পর যখন অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, তখন দ্রুততার সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে। তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন তাঁদের জন্য প্রথম দফার ভোটের অতিরিক্ত তালিকা ২১ এপ্রিল প্রকাশিত হবে, অর্থাৎ ভোটের দু’দিন আগে। সেই তালিকা হাতে পাওয়ার পরই বুথস্তরের কর্মী ও নেতাদের রাতের মধ্যেই স্লিপ তৈরি করে বিতরণ করতে হবে, যাতে বাদ পড়া ভোটাররাও ভোট দিতে পারেন। তিনি আরও জানান, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং ভোটের দু’দিন আগে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটারদের তিনি নিশ্চিন্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ১৪২ ধারা সরাসরি ভোটাধিকার নিয়ে কিছু না বললেও, এটি সুপ্রিম কোর্টকে পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য যে কোনো মামলার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ও অসীম ক্ষমতা দেয়। এই ধারার আওতায়, ট্রাইব্যুনাল বা আদালত যাদের বৈধ ভোটার ঘোষণা করবে, ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে গিয়ে থাকলেও, তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্দেশ ভারতের নির্বাচন কমিশনকে দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।

১৪২ ধারা ও ভোটাধিকার সম্পর্কিত মূল বিষয়সমূহ:

অসীম ক্ষমতা: সুপ্রিম কোর্ট তার সামনে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে ‘পূর্ণ ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে ১৪২ ধারা ব্যবহার করে বিশেষ নির্দেশ দিতে পারে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণ: ট্রাইব্যুনাল বা নির্দিষ্ট কমিটি যদি কারও  ভোটাধিকার বৈধ বলে মনে করে, তবে সুপ্রিম কোর্ট ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে সেই ব্যক্তিদের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে ভোটাধিকারের সুযোগ দিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ইঙ্গিত: সাম্প্রতিক ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালে পাস করা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট এবং এই নিয়ে তিনবার ১৪২ ধারা প্রয়োগ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আইনি সংঘাত: ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ‘ফ্রিজ’ বা বন্ধ হয়ে গেলেও, এই ধারার অধীনে সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে ভোটার যুক্ত করার নির্দেশ দিতে পারে।

ভারতীয় সংবিধানে ভোটাধিকার মূলত ৩৭২ ধারা অনুযায়ী সংবিধিবদ্ধ অধিকার এবং ৩২৬ ধারা অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তি, কোনও মৌলিক অধিকার নয়। ১৪২ ধারা শুধুমাত্র একটি বিশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে আদালত ব্যবহার করে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!