- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৫, ২০২৬
পদ্মঝড়ে ধরাশায়ী তৃণমূলের বহু হেভিওয়েট। শূন্য তকমা কাটিয়ে বিধানসভায় বাম-কংগ্রেস : একনজরে জয়-পরাজয়ের হিসেব-নিকেশ
সোমবার, ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৩টি আসনের ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলপ্রকাশের পর রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের দাপটে ঘাসফুল অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল। রাজ্যের বিভিন্ন আসনে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের তাবড় তাবড় প্রার্থী। অনেকে হেরেছেন বিজেপির তুলনামূলক ভাবে ‘অনামী’-দের কাছেও।
বিজেপির এই জয় একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে তৃণমূল সরকারের ওপর মানুষের যত ক্ষোভ ছিল তার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে ইভিএম-এ, এছাড়া হিন্দু ভোট এককাট্টা হয়েছে এবং সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশ তৃণমূলের থেকে সরে এসে বিজেপির দিকে পড়েছে। কারণ শতাংশের হিসেবে তৃণমূল পেয়েছে ৪০.৮০% ভোট এবং ৮০টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮৪% ভোট এবং ২০৬টি । আমরা যদি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকাই তাহলে দেখব তৃণমূল পেয়েছিল ২১৩টি আসন এবং ৪৮% ভোট এবং বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন এবং ৩৮% ভোট। সেই হিসেবে বিজেপি ৬% এর কিছু ভোট বেশি পেয়ে এক ধাক্কায় ৭৭ থেকে ২০৬টি আসন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে গেল। রাজ্যে প্রায় ৮৫টি আসন রয়েছে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের বেশি। তার মধ্যে অতখানি না হলেও অনেকটাই ভোট রয়েছে নন্দীগ্রামেও। সেখানেও গতবারের চেয়ে বেশি মার্জিনে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী, কারণ আইএসএফ এবং সিপিআইয়ের ভোট কাটা, হিন্দুভোটের আরও বেশি এককাট্টা হওয়া। এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলির দিকে তাকালে বোঝা যাচ্ছে সেগুলিতে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠেছে বামেরা, কোথাও কংগ্রেস। কোনও ক্ষেত্রে এবারেও ভাঙড়ে জয়ী নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ।
তবে সবচেয়ে চমক রয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টিই মুসলিম-প্রধান। ডোমকলে সিপিএমের প্রার্থী, সংখ্যালঘু মুখ মোস্তাফিজুর রহমান জয়ের বড় কারণও সেই অঙ্কেই। সেখানেই কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ভোট। ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের নামই বাদ গিয়েছিল এসআইআরে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তাঁর নাম ওঠে তালিকায়, তাই তাঁর জয়ও একটা চমক। রানিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলিও যে বিধানসভায় পা রাখবেন, সেটারও বড় কারণ সেখানকার সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের পকেট থেকে সরে গিয়ে হাত ধরা। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে নতুন দল গড়া হুমায়ুন কবীরের ভরতপুর ও রেজিনগরে দাঁড়িয়ে দুই আসনেই জয় ছিনিয়ে আনা সংখ্যালঘু ভোটের তাঁকে ছপ্পড় ফাড়কে ভোট দেওয়ার জন্যই। যেটা তিনি নিজেও বলেছেন। এবং তাঁর দেওয়া প্রার্থীদের ভালো সংখ্যায় ভোট কাটা সুবিধা করে দিয়েছে পদ্ম শিবিরকে। তা ছাড়া আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া, যার অধিকাংশই সংখ্যালঘু। যা ছিল তৃণমূলের জয়ের পতাকা ওড়ানোর বড় শক্তি। তাই হিন্দু অধ্যুষিত বহরমপুরে একদা রবিনহুড ইমেজের কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরিও হালে পানি পাননি। পাশের জেলা মালদহের ছবিটাও চমকপ্রদ। সেখানে কংগ্রেস আসন না পেলেও, জেলার মিথ গনি খান চৌধুরির পরিবারের সদস্য মৌসম বেনজির নূর না জিতলেও ভালো ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এক ডজন আসনের যে আধাআধি ভাগ হয়েছে ঘাসফুল ও পদ্মের, তারও বড় কারণ ইভিএমে মেরুকরণ। সুজাপুরে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের জয়ের ছকও সেটাই।
বীরভূমের হাসনে সভাধিপতি কাজল শেখের জয় হলেও ১১টির মাত্র চারটি ঘাসফুল ধরে রাখতে পেরেছে এবং বাকিগুলিতে হেরেছে সেই বাম ও কংগ্রেসের ভোট কাটার কারণেই, যাঁদের অনেকটা সংখ্যালঘু। আবার এখানকার নানুরে তৃণমূলের জয়ের হিসাবও একই। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়, ক্যানিং, মগরাহাট, ডায়মন্ডহারবার অথবা উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা, আমডাঙা, সীমান্ত বসিরহাটের কয়েকটি আসনে চোখ রাখলে ফলাফলে সেই সংখ্যালঘু ব্যাঙ্কে মূলধন ও সুদের জটিল অঙ্ক টের পাওয়া যাচ্ছে। নদিয়ার করিমপুরে অভিনেতা সোহমের জয় হলেও সীমান্তের সংখ্যলঘু এলাকাতে শাসকদলের পরাজয়ে বোঝাই যাচ্ছে তৃণমূলের থেকে অনেকটাই সরে গিয়ে তাঁরা কেউ ঠাঁই নিয়েছেন বামে, কেউ বা কংগ্রেসে। সেই কারণেই ঘাসফুলের বাগান তছনছ হয়েছে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে সেই ব্যাঙ্কই অটুট থেকে জিতিয়েছে শিউলি সাহাকে। উত্তর দিনাজপুরের দিকে তাকালেও বোঝা যায় ভরসার সেই ব্যাঙ্ক কিন্তু সুদ-সহ মূলধন ফেরত দেয়নি। বরং তা বিনিয়োগ হয়েছে কোথাও কংগ্রেস, কোথাও বামে। আর রামে গিয়েছে বামেদের হিন্দু ভোটের বড় অংশ। তাই বাঁদরের পিঠেভাগের অঙ্কের গল্পটাই যেন বড় বাস্তব হয়ে উঠেছে এবারে ভোটে। অন্তত তৃণমূলের কাছে।
এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা ছিল। তবে তার পরেও মানুষ ইভিএম ভরিয়ে দিয়েছে মমতা বিরোধী গেরুয়া ভোটে। ফলস্বরূপ, নিজের গড় ভবানীপুরেই ১৫,১১৪ হাজার ভোটে পরাজয়ের মুখে পড়তে হল ‘ঘরের মেয়ে’ মমতাকে। ২০২৬ -এর নির্বাচন এভাবেই বঙ্গ রাজনীতির এক ইন্দ্রপতনের সাক্ষী রইল। রাজ্যবাসী দেখল, রাজনৈতিক জীবনের পড়ন্ত বেলায় এক ট্র্যাজিক নায়িকাকে। ১৯৮৪ সালের পর প্রথমবার কোনও পদে রইলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এই ঘটনাই ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যক্ষ করেছিল বঙ্গবাসী। সেবার ৩৪ বছরের বাম সরকারের পতন ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সহ তাঁর ক্যাবিনেটের সব মন্ত্রীদের পরাজয় দেখেছিল বাংলার মানুষ। পরাজয়ের তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বার তাঁর ভোটের লড়াই ছিল কঠিন। সেই লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন তিনি। একসময়ের অন্যতম সহযোগী তথা অধুনা বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে হেরে গিয়েছেন। তবে জিতবেন না, তা সম্ভবত ভাবেননি মমতা নিজেও। ঘরের মেয়ের হার হল ঘরেই।
রাজ্য তৃণমূলের পতন হলেও কলকাতা বন্দর আসন থেকে ৫৬ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন ফিরহাদ হাকিম (ববি হাকিম)। ফিরহাদ কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী। বিগত পাঁচ বছরে বিজেপির কাছ থেকে একাধিক বার বিভিন্ন কারণে কটাক্ষ-বাণ ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে। সবই তিনি সামলেছেন। ২০২৬-এর নির্বাচন ছিল ফিরহাদের ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। আর সেই লড়াইয়ে জিতেছেন তিনি। হারিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী রাকেশ সিংহকে। রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস কুমার। বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তিনি। এলাকায় ‘দেবা’ নামে পরিচিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দেবাশিস। জয়ী হন। কিন্তু ২০২৬-এ হিসাব মিলল না। রাসবিহারী কেন্দ্র মানেই অভিজাত, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির বসতি। বামেরা এই কেন্দ্রে এক বার ছাড়া দাঁত ফোটাতে পারেনি। প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রাসবিহারী কেন্দ্র। তবে ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভোট বেড়েছিল অনেকটাই।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ দিনের আস্থাভাজন এবং বঙ্গ রাজনীতিতে সুশীল রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাঁড়িয়েছিলেন বালিগঞ্জ আসন থেকে। জয়ীও হয়েছেন তৃণমূলের এই আশি-ঊর্ধ্ব প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির শতরূপা। লড়াইয়ে ছিলেন বামেদের ‘জেন জ়ি’ প্রার্থী আফরিন বেগমও। তবে জিতেছেন রাজনীতির ময়দানের প্রবীণ প্রার্থী শোভনদেবই। ৬১৪৭৬ ভোটে জিতেছেন তিনি। পেশায় তিনি একাধারে সাংবাদিক এবং লেখক। এখন অভিনেতাও। বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। সাংসদও ছিলেন একদা। কিন্তু এ বার প্রথম বারের জন্য বিধানসভার ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। ভোটের হিসাব-নিকাশ, অঙ্ক কষে আগেভাগেই তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। নিজের জয়ের বিষয়েও ছিলেন। দলের বিষয়ে হিসাব না মিললেও নিজের কেন্দ্রে তিনি ২৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন।
৩১ হাজারের বেশি ভোটে হাবড়া থেকে হেরে গেলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। ওই কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল। তৃণমূল গঠনের সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী জ্যোতিপ্রিয়। তবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকে বঙ্গ রাজনীতির নজর ছিল তাঁর দিকে। রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে নাম জড়িয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দীর্ঘ সময় জেলে কাটানোর পর থেকে ক্ষতবিক্ষত তাঁর জীবন। তাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শেষমেশ তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছিলেন মমতা। ষষ্ঠ বার বিধানসভায় যাওয়ার লক্ষ্যে আবার হাবড়ার মাঠে নেমেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। তবে এ বার ভোট বৈতরণী পার করতে পারেননি তিনি। তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়েছিলেন টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে। তিনিও জয় সুনিশ্চিত করতে পারেননি। বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারীর কাছে ৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন।
বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। এর আগে ২০২১ সালেও রত্না তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন। বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি। এ বারের ভোটে তাঁর কেন্দ্র বদলে দিয়েছিল দল। তবে বেহালা পশ্চিমের মানুষ তাঁর উপরে ভরসা রাখেননি। ওই কেন্দ্রে ২৪৬৯৯ ভোটে জিতেছেন বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ।
তৃণমূলের হয়ে এ বারও শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ১৪৬৩৩ ভোটে শশীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পূর্ণিমা। নির্বাচনী যুদ্ধে টিকতে পারলেন না প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজার পুত্রবধূ। কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রে তৃণমূল আবার প্রার্থী করেছিল অতীন ঘোষকে। বিদায়ী বিধায়ক অতীনের মূল লড়াই ছিল বিজেপি প্রার্থী রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে। সেই লড়াইয়ে পরাজিত অতীন। ১৬৫১ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। মানিকতলায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তাপস রায়ের কাছে ১৫৬৪৪ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক সাধন মারা যান। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি। এ বারের নির্বাচনে শ্রেয়াকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তাঁর লড়াই ছিল বিজেপির তাপস রায়ের সঙ্গে। হেরে গিয়েছেন শ্রেয়া। বাবার জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারেননি তিনি। দমদমেও তৃণমূলের নক্ষত্রপতন। ২৫২৭৩ ভোটে হেরে গেলেন ব্রাত্য বসু। ওই কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপির অরিজিৎ বক্সী। মনে করা হচ্ছিল, ব্রাত্যের লড়াই তুলনামূলক ভাবে সহজ। কিন্তু ফল তা বলল না।
কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে পরেশচন্দ্র অধিকারী হেরে গিয়েছেন ২৯৫৮৪ ভোটে। জিতেছেন বিজেপির দধিরাম রায়। এ বারের লড়াই সহজ ছিল না পরেশচন্দ্রের জন্য। রাজ্যের এসএসসি নিয়োগ মামলায় দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে চাকরিও গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে তারই রেশ পড়েছে পরেশচন্দ্রের ভোটের ফলাফলে। হেরে গিয়েছেন তিনি। দিনহাটা থেকে পরাজিত তিন বারের বিধায়ক উদয়ন গুহ। কোচবিহারের দিনহাটায় এ বারও তাই তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছিল দল। কিন্তু জয় নিশ্চিত করতে পারেননি উদয়ন। ১৭৪৪৭ ভোটে উদয়নকে হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়। রাজগঞ্জে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল সোনাজয়ী প্রাক্তন অ্যাথিলিট স্বপ্না বর্মণকে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির দীনেশ সরকারের কাছে ২১৪৭৭ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ির এই রাজগঞ্জে জিতেছিল তৃণমূলই। খগেশ্বর রায় তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। তবে এ বার তাঁর জায়গায় এই কেন্দ্রে স্বপ্নাকে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল।
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এ বার শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন। বিজেপির ‘ভরসার মুখ’ শঙ্কর ঘোষের কাছে ৭৩১৯২ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। ২০২৬-এর নির্বাচনে গৌতমের বিরুদ্ধে বিজেপির তুরুপের তাস ছিল শঙ্কর। তাঁদের মধ্যে জোর টক্কর দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল, জিতেছেন শঙ্কর। বাজিমাত করতে পারেননি গৌতম। উল্লেখ্য, গত বিধানসভা ভোটেও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন গৌতম। ২০২৬ সালে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন নাট্যকর্মী তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। বিজেপির বিদ্যুৎকুমার রায়ের কাছে ৪৭৫৭৬ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। তিনি ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম ‘বর্ণময়’ চরিত্র। তিনি বাইরন বিশ্বাস। কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে সাগরদিঘি থেকে বাইরনকে জিতিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। জেতার পরই তৃণমূলে যোগদান। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের সেই সাগরদিঘি থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূলও। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির তাপস চক্রবর্তী এবং কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী। ৩৪২৬০ ভোটে জিতেছেন বাইরনই।
ডোমকলে সিপিএমের প্রার্থীর কাছে ১৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গেলেন তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী তথা প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবীর। ডোমকলে হুমায়ুনের মূল লড়াই ছিল সিপিএমের মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গেই। জিতেছেন মোস্তাফিজুর। হেরে গিয়েছেন হুমায়ুন। হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী নন্দদুলাল পাল এবং কংগ্রেস প্রার্থী শাহনাজ় বেগমও। উল্লেখ্য, হুমায়ুন হুগলির চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন। ২০২১ সালে অবসরের মাস তিনেক আগে চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই তৃণমূলে যোগ। আর ওই বছরেই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষকে হারিয়ে জেতেন। তবে এ বার মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছিল হুমায়ুনকে। কিন্তু এ বার তৃণমূলের মুখরক্ষা করতে পারলেন না তিনি। তৃণমূলের হয়ে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী দাঁড়িয়েছিলেন নদিয়ার করিমপুর আসন থেকে। অনেক উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর মতো তিনিও হেরে গিয়েছেন। ভোটের ময়দানে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। সমরেন্দ্রনাথ জিতে গিয়েছেন ৯০৮২ ভোটে।
বাগদা থেকে ৩৪৬১৬ ভোটে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের মতুয়া-মুখ মধুপর্ণা ঠাকুর। বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তৃণমূলের মধুপর্ণা। বিধানসভায় সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ বারের নির্বাচনেও তাঁকে বাগদার প্রার্থী করেছিল দল। লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির সোমা ঠাকুরের সঙ্গে। তবে সেই লড়াইয়ে হেরে গিয়েছেন তিনি। ব্যারাকপুর থেকে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের পরিচালক প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। দ্বিতীয় বার ব্যারাকপুরের মাঠে নেমেছিলেন রাজ। তবে লক্ষ্যভেদও করতে পারেননি। ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এ বারও দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির সৌরভ সিকদারের কাছে ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। ২০১১ সালেই দমদম উত্তরের বিধায়ক হয়েছিলেন চন্দ্রিমা। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে পরাজিত হন। ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের ভোটে আবার দমদম উত্তরে লড়েন এবং জেতেন। তবে জয় এল না ২০২৬-এর নির্বাচনে।
তিনি তৃণমূলের রঙিন নেতা। ৭১ বছরের ‘কালারফুল বয়’ মদন মিত্র আবার নেমেছিলেন ভোটের ময়দানে। চেনা মাঠ— উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি বিধানসভা থেকেই। জিতেছেন ৫৬৪৬ ভোটে। বিজেপির তরফে এ বার তাঁর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন অরূপ চৌধুরী। কংগ্রেস দাঁড় করিয়েছিল কল্লোল মুখোপাধ্যায়কে। সিপিএমের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়। ১৬৯৫৬ ভোটে হেরে গেলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপির সজল ঘোষের কাছে হেরেছেন তিনি। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে বরাহনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর ভোটেও তাঁকেই টিকিট দিয়েছিল তৃণমূল। তাঁর সমর্থনে পদযাত্রা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পদযাত্রা সার্থক হয়নি। সায়ন্তিকার থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপির দুঁদে নেতা সজল।
‘স্পর্শকাতর’ ভাঙড়ে তৃণমূলের শওকত মোল্লার লড়াই ছিল বিদায়ী বিধায়ক তথা আইএসএফ-এর নেতা নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় থেকে জিতে বিধায়ক হন নওশাদ। তাঁকে হারাতে তৃণমূলের তুরুপের তাস ছিল ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত। কিন্তু ভাঙড়ের হিসাব বদলায়নি। ৩২০৮৮ ভোটে জিতেছেন নওশাদই। কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে এ বারও তৃণমূলের প্রার্থী জাভেদ খান। জাভেদ তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী। তিনি জিতেছেন ২০৯৭৪ ভোটে। বিজেপির সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের মহম্মদ হাসিম জিসান আহমেদ এবং সিপিএমের দীপু দাসকে হারিয়ে আবারও জয়ী হয়েছেন তিনি।
চৌরঙ্গী বিধানসভায় তৃণমূলের নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ছিল বিজেপির সন্তোষ পাঠকের সঙ্গে। নয়না এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক। আর ভোটের মুখে সন্তোষ কংগ্রেসের হাত ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে লড়াইয়ে ২২০০২ ভোটে জিতেছেন নয়নাই।
২০২৬-এর নির্বাচনে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সুজিত বসুর দিকে নজর ছিল সকলেরই। তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ সুজিত হেরে গিয়েছেন ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে। বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সুজিতের হার হয়েছে বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে। রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে ২৭৭৫৭ ভোটে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের গায়িকা প্রার্থী অদিতি মুন্সি। লড়াই ছিল বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির সঙ্গে। তরুণজ্যোতি পেশায় আইনজীবী। এ বার ভোটের ময়দানে তিনি নতুন। তবে এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তরুণজ্যোতির পাশেই দাঁড়িয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের মানুষ। ২০ হাজারের বেশি ভোটে অদিতিকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। মধ্যমগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী রথীন ঘোষকে। বুধবার বিধানসভা নির্বাচনে ভাগ্যনির্ধারণ হয়েছে তাঁর। হেরে গিয়েছেন বিজেপির অনিন্দ্য রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
বারাসত কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। তিনিও পরাজিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছিল শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি জিতে গিয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে। বারুইপুর পশ্চিমে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জিতে গিয়েছেন তিনি। বিদায়ী বিধানসভার অধ্যক্ষ হারিয়ে দিয়েছেন বিজেপির বিশ্বজিৎ পাল, কংগ্রেসের অসিতলাল নাগ এবং সিপিএমের মহম্মদ লায়েক আলিকে।
দ্বিতীয় দফার ভোটে সোনারপুর দক্ষিণ ছিল অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র। সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন অভিনেত্রী অরুন্ধতী (লাভলি) মৈত্র। ওই কেন্দ্রে লড়াই ছিল মূলত দুই অভিনেত্রীর। তবে বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ৩৫৭৮২ ভোটে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের লাভলি। উলুবেড়িয়া পূর্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। ১১৮৩৮ ভোটে জিতেছেন তিনি। বিজেপির রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের আলম দেইহান শেখ এবং আইএসএফের নাসির খানকে হারিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের ঋতব্রত। তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রিসভার কৃষিমন্ত্রী বেচারাম মান্না ২১৪৩৮ ভোটে হেরে গিয়েছেন সিঙ্গুর আসন থেকে। সিঙ্গুরে এ বার বিজেপি প্রার্থী করেছিল অরূপকুমার দাসকে। বেচারামের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। চন্দননগর থেকে তৃণমূলের হয়ে লড়েছিলেন বিদায়ী মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ১০ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের গায়ক প্রার্থী। বিজেপির দীপাঞ্জনকুমার গুহের কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিদেশ বসুর দিকেও নজর ছিল। বিজেপির স্বরাজ ঘোষের কাছে ২৩২৮৯ ভোটে হেরে গিয়েছেন তিনি। ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের তরফে সৌগত ঘোষ এবং সিপিএমের তরফে অনির্বাণ সরকার দাঁড়িয়েছিলেন।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল পবিত্র করকে। তবে তিনি জিতবেন না বলেই ঠাওর করেছিলেন ভোটপণ্ডিতেরা। হয়েছেও তাই। বিজেপির শুভেন্দুর কাছে ৯৬৬৫ ভোটে হেরেছেন তিনি। পবিত্র এককালে তৃণমূল করলেও ২০২০ সালে শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার কিছু দিন আগে পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। হয়েছিলেন বিজেপির ব্লক সভাপতিও। নন্দীগ্রামের যে এলাকায় শুভেন্দু গত বিধানসভা ভোটে সবচেয়ে বেশি লিড পেয়েছিলেন, পবিত্র সেই বয়াল এলাকারই নেতা। শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত ছিলেন নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে। গত ১৭ মার্চ সকালে অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন পবিত্র। তার পরে তাঁকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু হেরে গিয়েছেন তিনি। সবংয়ে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল মানসরঞ্জন ভুঁইয়া বা মানস ভুঁইয়াকে। দীর্ঘ দিন ধরে দলের ভরসার পাত্র তিনি। ২০২৬-এ ভরসা ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। এ বারের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী অমলকুমার পন্ডার কাছে ১১১৩৬ ভোটে হেরে গিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বর্ষীয়ান এই নেতা।
ডেবরায় তৃণমূলকে রক্ষা করতে পারলেন না রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময় মমতার মন্ত্রিসভায় বনমন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝে ফুলবদল করেছিলেন রাজীব। তবে বছর কয়েক আগে বিজেপির ‘মোহ’ কাটিয়ে আবার ফিরেছেন পুরনো ঘরে। রাজীবকে এ বারের ভোটে ডেবরায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তবে ডেবরায় ২৮৮০১ ভোটে হেরে গিয়েছেন রাজীব। হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস ওমের কাছে। মন্ত্রী মলয় ঘটক এ বার লড়েছিলেন আসানসোল উত্তর থেকে। সেই মলয় এ বার ১১৬১৫ ভোটে হেরে গিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে। তাঁর লড়াই ছিল বিজেপির কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। জিতে গিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু। উল্লেখ্য, মমতার মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী ছিলেন মলয়। কিন্তু ভোটের মুখেই তাঁর দফতর বদল করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বারের ভোটে তৃণমূলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রার্থী ফয়জুল শেখ। রাজনীতির ময়দানে সকলে তাঁকে কাজল শেখ বলেই চেনেন। হাসন কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন কাজল। জিতে গিয়েছেন। হাসনে কাজলের বিরুদ্ধে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঁড় করিয়েছিল বিজেপি। তিনি হেরে গিয়েছেন। কংগ্রেসের হয়ে মিল্টন রশিদ এবং সিপিএমের কামাল হাসান দাঁড়িয়েছিলেন কাজলের বিরুদ্ধে। কলকাতায় পরাজিত হয়েছেন সিপিআইএম-এর বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্ত, আফরিন বেগম, দীপ্সিতা ধর সহ একাধিক প্রার্থী-নেতা-নেত্রী। বহরমপুরে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
❤ Support Us







