- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৫, ২০২৬
ভোটের অঙ্কে সামান্য বদলেই অসমে ২২টি আসন বেশি, এনডিএ-র ঐতিহাসিক ১০২
ভোটের অঙ্কে সামান্য হেরফেরই যে রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়োসড়ো পালাবদল ঘটাতে পারে, অসমের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন তারই নিখুঁত উদাহরণ। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র ৪.৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধির জোরে এ বার ২২টি অতিরিক্ত আসন ঝুলিতে পুরেছে বিজেপি। ২০২১ সালের ৬০ থেকে সরাসরি ৮২। গেরুয়া শিবিরের এই উত্থানকে রাজনৈতিক মহল এক কথায় ‘স্ট্র্যাটেজিক সুইং’ বলেই ব্যাখ্যা করছে।
২৬-এর নির্বাচনে অসমে বিজেপির ভোট শতাংশ দাঁড়িয়েছে ৩৭.৮১, যা পাঁচ বছর আগের ৩৩.২১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই সামান্য সংখ্যাগত অগ্রগতি যে আসন সংখ্যায় এমন স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে, তা কার্যত আবারও প্রমাণ করল উত্তর-পূর্ব রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্র। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ক্ষেত্রে চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ভোট শতাংশ সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯.৮৪, ২০২১ সালে যা ছিল ২৯.৬৭। কিন্তু ভোট বাড়লেও আসন কমেছে ১০টি। ২৯ থেকে নেমে এসেছে ১৯-এ। জিততে পারেননি গৌরব গৈগৈ সহ বহু তাবড় তাবড় নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষিপ্ত ভোট এবং কেন্দ্রীভূত সমর্থনের অভাবই কংগ্রেসের এমন পতন।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনডিএ এ বার মোট ১০২টি আ সনে জয় পেয়েছে, ১২৬ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক ওপরে। বিজেপির সঙ্গে জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদ (এজিপি) পেয়েছে ১০টি আসন, যদিও তাদের ভোট শতাংশ কিছুটা কমে ৬.৪৭-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বড়ো পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ৩.৭৩ শতাংশ ভোটে ১০টি আসন দখল করে চমক দিয়েছে। বিরোধী শিবিরে সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা এআইইউডিএফের। ২০২১ সালের ১৬ আসন থেকে এ বার তারা নেমে এসেছে মাত্র ২-এ। ভোট শতাংশও প্রায় অর্ধেক হয়ে ৯.২৯ থেকে ৫.৪৬-এ নেমে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু ভোটের ছত্রভঙ্গ হওয়াই এমন ফলাফলের কারণ। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এ বার উত্তর-পূর্বে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে ১.১৬ শতাংশ ভোট পেলেও একটি আসনও জিততে পারেনি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। বিজেপি জাতীয় সভাপতি জে. পি. নাড্ডাকে অসম বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, বিধানসভা দলের বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম এবং মন্ত্রিসভার রূপরেখা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। এনডিএ-র অন্দরে জোর জল্পনা, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সে সম্ভাবনা মাথায় রেখেই শপথের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হতে পারে।প্রধানমন্ত্রী আগেই ফলাফলকে ‘জনতার আস্থা ও উন্নয়নের স্বীকৃতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অসমে এনডিএ-র এই জয়ের পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত প্রচার, মাঠপর্যায়ের নিবিড় সংযোগ এবং ভোটব্যাঙ্কের কার্যকর সংহতকরণ। মুখ্যমন্ত্রী শর্মার দাবি অনুযায়ী, ১০৩টি অনুকূল আসনের মধ্যে ১০২টিতে জয়ের পূর্বাভাসই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের অঙ্ক, সংগঠনের শক্তি এবং রাজনৈতিক সমীকরণের মেলবন্ধনে অসম টানা তৃতীয়বারের মতো গেরুয়া শাসনের পথে।
❤ Support Us







