- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৬, ২০২৬
বাংলায় তৃণমূলের পরাজয়ের ‘আফটারশক’, আই প্যাককে ছেড়ে নতুন কৌশল অখিলেশের
তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক পরাজয়ের প্রভাব শুধু বাংলার রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার অভিঘাত পড়েছে জাতীয় স্তরেও। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনায় বড়সড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। সূত্রের খবর, ভোটকুশলী সংস্থা আই প্যাকের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরও এখন আর তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ এবং ২০২২—পরপর দুই বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখেছেন অখিলেশ। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন তাঁর কাছে কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই পরিস্থিতিতে প্রচারে আধুনিক, কর্পোরেট ধাঁচ আনতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে আই প্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত জানুয়ারিতে বাংলায় এসে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং পরবর্তীতে আই প্যাকের সঙ্গে চুক্তিও পাকা হয়। উত্তরপ্রদেশে কাজ শুরুও করে দেয় সংস্থাটি।
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। একের পর এক বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ে আই প্যাক। দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থার একাধিক দফতরে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কয়লা পাচার মামলায় সংস্থার ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল গ্রেপ্তার হন। পাশাপাশি প্রতীক জৈনের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই ঘটনাগুলির পর থেকেই অখিলেশের সঙ্গে সংস্থার দূরত্ব বাড়তে থাকে।
এরপর বাংলায় তৃণমূলের পরাজয় এবং তামিলনাড়ুতেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় আই প্যাকের ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তি ধাক্কা খায়। সব দিক বিচার করেই অখিলেশ যাদব সিদ্ধান্ত নেন, আই প্যাকের সঙ্গে আর এগোনো ঠিক হবে না।
সূত্রের আরও খবর, লখনউতে সমাজবাদী পার্টির জন্য একটি বিলাসবহুল অফিস তৈরি করেছিল আই প্যাক এবং বেশ কিছু কর্মীও নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অফিস গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে, কর্মীদেরও আর কাজে আসতে বারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে অখিলেশ যাদব ভরসা রাখছেন আই প্যাকেরই প্রাক্তন কিছু কর্মীকে নিয়ে গঠিত একটি নতুন, তুলনামূলক অজানা সংস্থার উপর। যদিও রাজনৈতিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে, তবুও তাঁর পরামর্শে আনা ভোটকুশলী সংস্থাকে আর পাশে রাখতে চাইছেন না সপা সুপ্রিমো।
❤ Support Us







