Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৩, ২০২৬

কলকাতায় আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো, বঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো, বঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা ?

দীর্ঘ ১৪ বছর পরে আবার কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন আমেরিকার কোনও বিদেশ সচিব। শনিবার সকালে শহরে এসে প্রায় ৩ ঘণ্টা কাটিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। তাঁর এ সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কারণ, এক দিকে যেমন সামনে রয়েছে কোয়াড বৈঠক, তেমনই অন্য দিকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন সমীকরণ, চিনকে ঘিরে কৌশলগত বার্তা, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রশ্নও উঠে আসছে আলোচনায়।

শনিবার সকাল ৭টার কিছু পরে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে রুবিয়োর বিশেষ বিমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জিনেট ডুসডেবেজ রুবিয়ো। বিমানবন্দর থেকে সোজা তাঁরা যান তালতলার মাদার হাউস-এ। ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’-র সদর দফতরে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটান মার্কিন বিদেশ সচিব। সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি মাদার টেরিজার সমাধিক্ষেত্রেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে যান নির্মলা শিশু ভবনের চিলড্রেনস হোমে। সেখানে শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-ও ঘুরে দেখেন তিনি। সব মিলিয়ে কলকাতায় তাঁর সফর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। দুপুরের আগেই ফের বিমানবন্দরে পৌঁছে দিল্লির উদ্দেশে উড়ে যান রুবিয়ো।

মার্কিন বিদেশ সচিবের সফরকে নিছক সৌজন্য সফর বলে দেখছে না কূটনৈতিক মহল। আগামী ২৬ মে নয়াদিল্লিতে বসছে ‘কোয়াড’ বৈঠক। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গড়ে ওঠা এ জোটে রয়েছে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। এ বৈঠকেই যোগ দিতে ভারতে আসছেন সদস্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরা। অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি-রও দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, কোয়াড বৈঠকের পাশাপাশি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে পারেন রুবিয়ো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর একান্ত বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনো সে বৈঠকের সময়সূচি জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শুধু কোয়াড নয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রশ্নও উঠে আসতে পারে বৈঠকে। গত বছর শুল্ক ও বাণিজ্য ইস্যুতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলেছে। ফলে নতুন করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিতে চাইছে দু-দেশ। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সমাজমাধ্যমে রুবিয়োর কলকাতা সফরের কথা জানিয়ে লেখেন, বিদেশ সচিব হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। জানা গিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি আগ্রা এবং জয়পুরেও যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন বিদেশ সচিবের।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রুবিয়োর কলকাতা সফরের পিছনে রয়েছে আরও গভীর কূটনৈতিক বার্তা। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে নতুন সরকার শিল্প ও বিদেশি বিনিয়োগ টানার প্রশ্নে সক্রিয় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক বৈঠকে শিল্পায়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন। সে আবহে মার্কিন বিদেশ সচিবের কলকাতা সফর ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে, বাংলায় নতুন বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও আন্তর্জাতিক স্তরে চাপানউতোর চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত পরিকাঠামো এবং চিনা বিনিয়োগ ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেও রুবিয়োর সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল। অনেকের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন দিশার পাশাপাশি বেজিংকেও স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফরে এসেছিলেন। সে সময় মহাকরণে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন তিনি। বাংলায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছিল আমেরিকা। প্রায় দেড় দশক পরে ফের কোনো মার্কিন বিদেশ সচিবের কলকাতা সফর ঘিরে তাই কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে কূটনৈতিক গুরুত্বও।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!