- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২৩, ২০২৬
ভারতের যুবশক্তিতেই আস্থা বিশ্বের বড়ো বড়ো সংস্থার ! ‘রোজগার মেলা’য় ৫১ হাজার নিয়োগপত্র বিলি করে দাবি প্রধানমন্ত্রীর
দেশের যুবসমাজকে সামনে রেখেই আগামী দিনের অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে উঠে আসতে চাইছে ভারত। আর সে পথেই বিশ্বের বড়ো বড়ো সংস্থা ভারতের সঙ্গে হাত মেলাতে আগ্রহী। ১৯তম রোজগার মেলা থেকে শনিবার এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশজুড়ে ৪৭টি কেন্দ্রে একযোগে ৫১ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থীর হাতে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে তিনি স্পষ্ট বুঝেছেন— ভারত এখন আর শুধু বাজার নয়, বৈশ্বিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তির অন্যতম ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে।
শনিবারের রোজগার মেলায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মোদি বলেন, ‘বিশ্বের বহু বৃহৎ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রত্যেকেই ভারতের যুবশক্তি, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তারা ভারতের বিকাশযাত্রার অংশীদার হতে চায়।’ তাঁর মতে, আগামী দিনের ‘গ্লোবাল গ্রোথ’-এ ভারতীয় যুবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কারণ, ভারত দ্রুত বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেন অংশীদার হয়ে উঠছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘রোজগার মেলার’ এ দিন ছিল ১৯তম সংস্করণ। সরকারি সূত্রে দাবি, এর আগে ১৮টি রোজগার মেলার মাধ্যমে প্রায় ১২ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবারের অনুষ্ঠানে রেল, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, আর্থিক পরিষেবা, উচ্চশিক্ষা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে নির্বাচিত প্রার্থীদের। বিলির পর, সাম্প্রতিক ৫ দেশের বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ফলে আগামী দিনে ভারতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি সংস্থা এএসএমএল এবং টাটা গোষ্ঠীর মধ্যে হওয়া চুক্তির কথা। নরেন্দ্র মোদির জানান, ‘বিশ্বের খুব কম দেশের সঙ্গে এ ধরনের প্রযুক্তিগত অংশীদারি করে এএসএমএল। ভারত সে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এর ফলে দেশে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি আসবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’
সুইডেনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ডিজিটাল ইনোভেশন এবং সুপারকম্পিউটিং নিয়ে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই চুক্তিগুলি ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি নরওয়ের সঙ্গে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং ইতালির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগত শক্তি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিশা খুলেছে বলে দাবি মোদির।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বার বার উঠে এসেছে কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, আজ দেশে এমন ভাবে কাজের সুযোগ বাড়ছে যে বহু ক্ষেত্রেই দক্ষ কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খানিক রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘জল জীবন মিশনে এত মানুষ কাজ করছেন যে শহরে পিএনজি সংযোগের জন্য এখন প্লাম্বার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ তাঁর মতে, শহর-গ্রামের ফারাক দ্রুত কমছে এবং উন্নয়নের সুফল ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার যুবকদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, সবুজ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো আগামী দিনের বৃহত্তম কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ভারত এখন শুধু পরিষেবা খাত নয়, উৎপাদন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দ্রুত এগোচ্ছে। যে দেশ উদ্ভাবন করে, নির্মাণ করে এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের সুযোগ তৈরি করে, বিশ্ব সেই দেশকেই সম্মান করে।’
এ দিন নতুন চাকরিপ্রাপ্তদের সমাজের প্রতি দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শুধু নিজের বা পরিবারের জন্য নয়, সমাজের প্রতিও আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। বিকশিত ভারত গঠনের পথে আপনারাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’ রোজগার মেলায় মূলত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল। অষ্টম, দশম, দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণদের পাশাপাশি আইটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, ডিপ্লোমাধারী এবং স্নাতকরাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। কেন্দ্রের দাবি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের রোজগার মেলা আয়োজন করা হবে নিয়মিত ভাবেই।
❤ Support Us








