Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৩, ২০২৬

‘আরশোলাদের দল’ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘আরশোলাদের দল’ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের

এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি কোটি তরুণের আলোচনার কেন্দ্রে ককরোচ জনতা পার্টিবা সিজেপি। রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, মিম, যুবসমাজের ক্ষোভ এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্যসব মিলিয়ে আচমকাই ভাইরাল হয়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। এরই মধ্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করলেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার লাগাতার হুমকি পাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির সঙ্গে তুলনা টেনে তাঁদের প্রচারাভিযানকে বদনামকরার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে আমেরিকার বস্টনে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ। বস্টন ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর পরিবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরেই থাকে। সেখানেনা কি পৌঁছে গিয়েছে হুমকি। এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেন, ‘আমাকে, আমার পরিবারকে লাগাতার হুমকি পাচ্ছি। একটি ভিডিও পেয়েছি, যেখানে এক ব্যক্তি বলছে, তারা আমার বাড়ির বাইরে পৌঁছে গিয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলছে, তারপর দেখা যাবে কী হয়।’ এ ঘটনায় স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, ‘এটা আমার সিদ্ধান্ত। তার জন্য আমার পরিবারের ভুগতে হবে কেন? শুধুমাত্র মতপ্রকাশের জন্য কাউকে বা তার পরিবারকে এ ভাবে হেনস্থা করা উচিত নয়।’

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগেই। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার শুনানিতে মন্তব্য করেছিলেন, সমাজে এমন কিছু পরজীবীএবং আরশোলার মতো যুবকরয়েছে, যারা কোনো কাজ না পেয়ে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাক্টিভিমের মাধ্যমে সিস্টেমকে আক্রমণকরে। মন্তব্য নিয়েই শুরু তীব্র বিতর্ক। পরে প্রধান বিচারপতি অবশ্য স্পষ্ট করে জানান, তিনি দেশের যুবসমাজকে অপমান করেননি। বরং তাঁর নিশানায় ছিল ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে পেশায় ঢুকে পড়াকিছু ব্যক্তি। কিন্তু সে ব্যাখ্যা আসার আগেই সামাজিক মাধ্যমে আরশোলাশব্দটিকেই রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করেন অভিজিৎ। জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি। প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই শুরু হয়েছিল সেটি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসরণকারীর সংখ্যা ২ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র, চাকরিহীনতা, প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভসব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই প্ল্যাটফর্ম।

জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে বিতর্কও। সম্প্রতি সিজেপি-র এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভারতে স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নির্দেশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর তরফে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি। সরকারি মহলের একাংশের অভিযোগ, সিজেপি-র কনটেন্ট উস্কানিমূলকএবং তা দ্রুত তরুণদের মধ্যে প্রভাব ফেলছিল। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, ‘নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে আমাদের বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি, আমাদের সমস্ত ভিন্নমত গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ। সব কিছুই সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকেই হবে।’ এখানেই থামেননি তিনি, আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘ভারতের জেন-জি-র সঙ্গে অন্য দেশের তুলনা করবেন না। এখানকার তরুণরা অনেক বেশি শিক্ষিত। বরং যারা এখন দেশ চালাচ্ছেন, তাঁদের থেকেও বেশি শিক্ষিত।’

অভিজিতের দাবি, প্রথমে তিনি এমন বিপুল প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবেননি। তাঁর দাবি, ‘এটা নিছক ব্যঙ্গ হিসেবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন অনেকেই বলছে, পিছু হটবেন না। একটা কিছু শুরু হয়েছে।’ যদিও এখনো পর্যন্ত সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি। আপাতত সেটিকে যুবগোষ্ঠীবা ‘পলিটিক্যাল ফ্রন্টহিসেবেই দেখতে চাইছেন। বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে অভিজিতের রাজনৈতিক অতীতও। আমেরিকায় যাওয়ার আগে তিনি আম আদমি পার্টির স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়ার দফতরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। কোভিড অতিমারির সময় সিসোদিয়ার সামাজিক মাধ্যমের প্রচার সামলাতেন বলেও দাবি আপ সূত্রের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!