Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৩, ২০২৬

বকরি ইদের ছুটিতে কাটছাঁট ! দু-দিনের পরিবর্তে ২৮ মে, এক দিনের ছুটি ঘোষণা নবান্নের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বকরি ইদের ছুটিতে কাটছাঁট ! দু-দিনের পরিবর্তে ২৮ মে,  এক দিনের ছুটি ঘোষণা নবান্নের

বকরি ঈদের ছুটির দিন বদলে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগে ঘোষিত ২৬ ও ২৭ মে-র ছুটি বাতিল করে আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার ইদ-উদ-জোহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী নির্দেশিকার আংশিক সংশোধন করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগে যে দু-দিন ছুটি থাকার কথা ছিল, তা আর থাকছে না। ওই দু-দিন রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অফিস খোলা থাকবে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

নবান্নের তরফে জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি ছুটির তালিকায় ২০২৬ সালের ২৬ ও ২৭ মে বকরি ইদ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গিয়েছে, এ বছর ইদ পালিত হবে ২৮ মে, বৃহস্পতিবার। সে কারণেই আগের নির্দেশিকার আংশিক সংশোধন করে নতুন ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২৬ ও ২৭ মে আর কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না। ওই ২ দিন সমস্ত সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে।

রাজ্য সরকারের সহকারী মুখ্যসচিব পি কে মিশ্রের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, চাঁদ দেখার সম্ভাব্য সময় ও ধর্মীয় নির্ঘণ্ট অনুযায়ী উৎসবের দিন পরিবর্তিত হওয়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত ইদ-উদ-জোহা চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। ফলে ক্যালেন্ডারে আগের নির্ধারিত দিন বদলে যাওয়ায় ছুটির সূচিতেও সংশোধন আনা হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে শুধুই ধর্মীয় নির্ঘণ্টের ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছে না। তাঁদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে নতুন সরকারের এক স্পষ্ট প্রশাসনিক বার্তা। দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীরা ‘ছুটির রাজ্য’ বলে কটাক্ষ করত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে একাধিক উৎসবে অতিরিক্ত ছুটি, শনি বা রবিবারে উৎসব পড়লে পরের দিনও ছুটি ঘোষণা— এই সংস্কৃতি নিয়েই নতুন সরকার যে আপত্তি তুলতে চাইছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথম বার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে তারা। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ৮০টি আসনে। ক্ষমতায় এসেই শুভেন্দু সরকারের তরফে প্রশাসনে ‘কর্মসংস্কৃতি’ ফেরানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মীদের হাজিরার সময়সীমা কঠোর করা হয়েছে। সকাল ১০টা ১৫-র মধ্যে অফিসে পৌঁছতে হবে এবং বিকেল ৫টা ১৫-র আগে অফিস ছাড়া যাবে না— এমন নির্দেশও জারি হয়েছে নবান্ন থেকে। সে আবহেই বকরি ইদের অতিরিক্ত ছুটি বাতিলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে ইদের ছুটি কমানোর পর সরকারি দফতরের অন্দরে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তবে কি আগামী দিনে দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ছুটিতেও কাঁচি চালাতে পারে সরকার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দুর্গাপুজোয় কার্যত টানা দু-সপ্তাহ সরকারি দফতরগুলিতে কাজকর্ম প্রায় স্তব্ধ হয়ে যেত। এ বছরও ক্ষমতা ছাড়ার আগে পুজোয় টানা ১৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে গিয়েছিল আগের সরকার। তার সঙ্গে ছটপুজো, ভাইফোঁটা মিলিয়ে অতিরিক্ত আরও কয়েক দিনের ছুটির কথাও বলা হয়েছিল। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, যদি ইদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছুটি কমানো হয়, তা হলে ভবিষ্যতে পুজোর দীর্ঘ ছুটির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, বেসরকারি সংস্থা বা কর্পোরেট ক্ষেত্রগুলিতে যেখানে ৪-৫ দিনের বেশি ছুটি সচরাচর মেলে না, সেখানে সরকারি দফতরে টানা বহু দিনের ছুটি নিয়ে বহু দিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। নতুন সরকার সে দিকেই কড়া অবস্থান নিতে চাইছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

এদিকে, বকরি ইদকে ঘিরে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বৃহস্পতিবার পর্যবেক্ষণ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। বকরি ইদের আগে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষ জবাই সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, আগের নির্দেশ মেনেই রাজ্য সরকার এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। একই সঙ্গে আদালত সুপ্রিম কোর্টের আগের পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করে জানায়, গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অংশ নয়। আইন অনুযায়ী পশু জবাইয়ের প্রয়োজনীয় শংসাপত্র প্রদান করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার অধিকার রাজ্যের রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!