Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৩০, ২০২৬

বহরমপুরে অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার, উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বহরমপুরে অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার, উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করে শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন। কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় চলছে উচ্ছেদ অভিযান। এ আবহে শনিবার সকাল থেকেই বহরমপুরের লালদিঘি চত্বরে ছিল অস্বাভাবিক তৎপরতা। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই গর্জে উঠল বুলডোজ়ার। একের পর এক ভেঙে ফেলা হলো রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা দোকানঘর। বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সরগরম মুর্শিদাবাদের অন্যতম শহর। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। 

প্রশাসন সূত্রে খবরলালদিঘি এলাকায় রেশন ডিলারদের গুদাম চত্বর এবং সংলগ্ন রাস্তার ধারে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দোকানঘর গড়ে উঠেছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিলনির্মাণগুলির অধিকাংশেরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। বহু দিন ধরেই এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়ছিল। সম্প্রতি সেইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্রের দাবি। এদিন সকালে পুরসভার কর্মীমহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রথমে দোকানঘরগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বুলডোজ়ার নামিয়ে একে একে ভেঙে ফেলা হয় নির্মাণগুলি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছিল পুলিশি নিরাপত্তায়।

স্থানীয় সূত্রে দাবিপূর্বতন পুরবোর্ডের আমলেই ওই দোকানঘরগুলির বেশিরভাগ নির্মাণ হয়েছিল। অভিযোগসে সময় তৃণমূলের অধীনে থাকা পুরসভার মদতেই সরকারি জমি কিংবা রাস্তার ধারে স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেগুলি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরও করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সুর চড়িয়েছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্রের অভিযোগ, ‘তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের আমলেই নিয়মভঙ্গ করে এই নির্মাণগুলি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি দখলদারি চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন প্রশাসন আইনের পথে হাঁটছে বলেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে

যদিও বিজেপির তোলা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আইন নিজের পথে চলবে। কোনো নির্মাণ যদি নিয়মবহির্ভূত বলে চিহ্নিত হয়তা হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কাটমানি বা দুর্নীতির যে অভিযোগ করা হচ্ছেতার কোনো ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক স্বার্থে এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে।’ তবে এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবিদীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে এলেও আগে কখনো প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্যপ্রয়োজনীয় নোটিস  আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অভিযান চালানো হয়েছে। বহরমপুরে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ দখল ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হবে কি নাতা নিয়েই এখন জল্পনা শহর জুড়ে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!