Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৩০, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির জের, ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার নির্দেশ কেন্দ্রের, জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির জের, ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার নির্দেশ কেন্দ্রের, জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় কেন্দ্র সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে (ওএমসি) অন্তত ৩০ দিনের এলপিজি মজুত গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা শুক্রবার এক আন্তঃমন্ত্রকীয় সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-কে ন্যূনতম ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৫২ হাজার মেট্রিক টন দেশে উৎপাদিত হয়। সুজাতা শর্মা জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ভারতের দৈনিক এলপিজি উৎপাদন ছিল প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।

তিনি আরও জানান, দেশের এলপিজি সরবরাহ বর্তমানে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। গত চার দিনে ১.৭৮ কোটি এলপিজি রিফিল বুকিং পাওয়া গেছে এবং প্রায় ১.৮ কোটি সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারের মতে, কৃষিক্ষেত্রে জ্বালানির বাড়তি ব্যবহার, বাল্ক বিক্রির পরিবর্তে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রয় বৃদ্ধি এবং বেসরকারি পাম্প থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাম্পে গ্রাহকদের ঝোঁক বাড়ার কারণেই এই চাহিদা বৃদ্ধি ঘটেছে।

সুজাতা শর্মা জানান—

১৫০টি জেলায় পেট্রোলের চাহিদা ৩০ শতাংশ বেড়েছে, ১৪টি জেলায় এই বৃদ্ধি ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে,
১৫৬টি জেলায় ডিজেলের চাহিদা ৩০ শতাংশ বেড়েছে, এবং ৬টি জেলায় ডিজেলের চাহিদা দ্বিগুণ (১০০ শতাংশ বৃদ্ধি) হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূল্য ব্যবধানের কারণে কিছু ক্ষেত্রে তেল বিপণন সংস্থাগুলির জ্বালানি বিক্রি ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প সংগঠনগুলিকে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১ মে থেকে এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে, নৌপরিবহন পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের পরিচালক ওপেশ কুমার শর্মা জানান, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘নিসোস কেরোস’ (Nissos Keros) নামের একটি জাহাজ ২৫-২৬ মে রাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজটি প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) বহন করছে এবং ৩ জুন ২০২৬-এ বিশাখাপত্তনম বন্দরে পৌঁছানোর কথা। জাহাজটির সমস্ত নাবিক বিদেশি নাগরিক।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এলাকায় ভারত-সংযুক্ত ১৩টি জাহাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ৫টি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার
  • ৩টি কনটেইনার জাহাজ
  • ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার
  • ১টি এলপিজি ট্যাঙ্কার
  • ১টি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার
  • ১টি ট্রেজারি ভেসেল

জ্বালানি আমদানির জন্য নতুন করে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরুর বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে সরকার জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার ও তেল সংস্থাগুলি নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!