- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৫, ২০২৬
দফতর বণ্টন ঘিরে কর্নাটক কংগ্রেসে অস্বস্তি: মন্ত্রীর ইস্তফা, ক্ষুব্ধ একাধিক নেতা; চাপের মুখে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার
কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই কংগ্রেস সরকারের অন্দরে অস্বস্তির সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । মন্ত্রিসভায় দফতর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক মন্ত্রী। ইতিমধ্যেই এক প্রবীণ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, পাশাপাশি আরও কয়েকজন মন্ত্রী তাঁদের অসন্তোষ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জানিয়েছেন । ফলে সরকার গঠনের শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার ।
শুক্রবার সকালে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন কর্নাটকের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আর রামালিঙ্গা রেড্ডি । তাঁর অভিযোগ, বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেচ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয় । প্রত্যাশিত দফতর না পাওয়ায় তিনি মন্ত্রিসভায় না থাকার সিদ্ধান্ত নেন । যদিও শিবকুমার রেড্ডিকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ।
দফতর বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন মন্ত্রী। সাতবারের সাংসদ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী কে. এইচ। মুনিয়াপ্পা বর্তমানে খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে তাঁর মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক দফতরের দায়িত্ব প্রত্যাশা করেছিলেন । এই বিষয়ে তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির কাছেও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন ।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎমন্ত্রী কে. জে জর্জ-ও নিজের দফতর নিয়ে অসন্তুষ্ট বলে জানা গিয়েছে । তিনি আগের সরকারেও একই দফতরের দায়িত্বে ছিলেন এবং নতুন দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তনের আশা করেছিলেন ।
এ ছাড়া, মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলি পূর্ত দফতরের দায়িত্ব পেয়ে সন্তুষ্ট হলেও অন্য একটি বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন । তাঁর আশা ছিল, মন্ত্রী করার পাশাপাশি তাঁকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হবে । কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন ।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া-র পদত্যাগের পর বুধবার বিকেল ৪টায় বেঙ্গালুরুর গ্লাস হাউস, লোক ভবন-এ কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ডি কে শিবকুমার। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কর্নাটকের রাজ্যপাল থাবার চাঁদ গেহলট । একই অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলিত নেতা জি পরমেশ্বর। পাশাপাশি শপথ নেন আরও ১২ জন মন্ত্রী ।
এদিকে, সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন। তাঁর বক্তব্য, “জাতীয় রাজনীতি নয়, আমার মূল মনোযোগ রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবে ।” কংগ্রেস সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর দলীয় হাইকমান্ড তাঁকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ অথবা রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল । তবে তিনি রাজ্যসভায় যেতে রাজি হননি । ফলে কর্নাটকের রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে ।
নতুন সরকার গঠনের পরপরই মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরে এই অসন্তোষ কংগ্রেস নেতৃত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে । এখন দেখার, দলীয় নেতৃত্ব কত দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে এবং সরকারের ভিতরে ঐক্য বজায় রাখতে সক্ষম হয় ।
❤ Support Us






