Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুন ২০, ২০২৬

বাংলাদেশে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে অশান্তির সম্ভাবনা, জারি সতর্কতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে অশান্তির সম্ভাবনা, জারি সতর্কতা

২৩ জুন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কিন্তু এবার সে দিনটিকে ঘিরে বাংলাদেশে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়া দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেনএমন আশঙ্কায় দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করল বাংলাদেশের পুলিশ সদর দফতর (পিএইচকিউ)। গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সব পুলিশ ইউনিটকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে

এক সময় যে রাজনৈতিক দলটির হাত ধরেই জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রপরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে সে আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ গস্টের গণ-অভ্যুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও সে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। দলটির ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে, এমন আশঙ্কায় ঢাকার পুলিশ সদর দফতর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে

তারেক রহমানের অধীনস্ত পুলিশের বক্তব্য, এদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জেলায় দলীয় পতাকা উত্তোলনব্যানার-ফেস্টুন হাতে মিছিল কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজনের চেষ্টা করতে পারেন। সতর্কতা হিসাবে, বিশেষ একটি নির্দেশিকা বৃহস্পতিবার দেশের সব মহানগর পুলিশ কমিশনাররেঞ্জ ডিআইজিজেলা পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করেআওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই নির্দেশে। পুলিশের আশঙ্কাকর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হলে আওয়ামী লীগের একাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেন।

ঢাকার পুলিশ সদর দফতরের সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। দেশের একাধিক আধিকারিক এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা নির্দেশিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আপাতত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকির তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সাংবাদিক বৈঠকে ঢাকার  অতিরিক্ত  পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড়ো কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে মহররম বা আশুরা পালন। পাশাপাশি২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছি।’ তিনি জানাননগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী জুড়ে চেকপোস্টনিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনও এ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসনের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের আমলে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিলবিক্ষোভ, স্বল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকা কয়েকটি দলীয় কার্যালয় পুনরায় খোলার ঘটনাও সামনে এসেছে। সে কারণেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির সক্রিয়তা বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

আওয়ামী লীগের ইতিহা বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লিগ। প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫২ সালে শেখ মুজিব সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয় দলের সম্মেলনে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে দলের নাম থেকে মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়, দলের নতুন নাম হয় আওয়ামী লীগ।

দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রগঠনের নানা পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দলটি। ৭৭ বছরের পথচলায় প্রায় দুদশক ক্ষমতায় থাকলেও দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতির ময়দানেই কাটিয়েছে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা। পরবর্তী কয়েক দশকে তাঁর উপর একাধিক হামলার অভিযোগও উঠেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়ে শেখ হাসিনা আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে  বাংলাদেশের  আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে, তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিছক একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!