Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • জুন ২৫, ২০২৬

৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’‌দুবার, ভেনিজুয়েলায় ১২৬ বছরের মধ্যে ভয়াবহ ভূমিকম্প, বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’‌দুবার, ভেনিজুয়েলায় ১২৬ বছরের মধ্যে ভয়াবহ ভূমিকম্প, বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা

৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু–দুবার ভয়াবহ ভূমিকম্প । আর তাতেই বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা । ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । গত ১২৬ বছরের মধ্যে দেশে এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প । ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে । ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে । মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে পরপর আঘাত হানা এই দুই ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলায় দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে । যার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে । দুটি কম্পনের মধ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধান ছিল । প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কারাবোবো রাজ্যে । এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি দ্বিতীয় কম্পন আঘাত হানে । ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, গত একশো বছরে ভেনেজুয়েলায় এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের নজির খুবই বিরল । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে । একটি ভিডিওতে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনকে প্রবলভাবে কাঁপতে দেখা যায়, যেখানে আতঙ্কিত যাত্রীরা ছুটোছুটি করছেন । অন্য একটি ভিডিওতে রাজধানী কারাকাসে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে, যার ফলে গোটা এলাকা ধুলোর ঘন মেঘে ঢেকে যায় ।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুসারে, গত ১২৬ বছরে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প । এর আগের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি ছিল ১৯০০ সালের ৭.৭ মাত্রার । ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি হতে পারে । সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে অসংখ্য বাড়ি, অফিস ভবন ভেঙে পড়েছে । পেট্রোল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন । বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের সাহায্যের জন্য আবেদন জানানোর খবর পাওয়া গেছে । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন যে, বহু বাড়ি ও ভবন ধসে পড়েছে । উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য দ্রুত দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং দুর্যোগ ত্রাণ দল মোতায়েন করা হয়েছে ।

সন্ধের সময় উদ্ধারকারীদের ধসে পড়া ভবনগুলির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে মানুষদের উদ্ধার করতে দেখা যায়। নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে বহু পরিবার ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কারাকাসের পূর্বে অবস্থিত উপশহর চাকাও–তেও অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। স্থানীয় মেয়র গুস্তাভো দুকে বলেছেন, অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। যদিও মৃতের সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত অনেক শহরে স্কুল ও জনসমাগম বাতিল করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর পুয়ের্তো রিকো, মার্কিন ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরুবা, কুরাকাও এবং বোনায়ারও সুনামি হুমকির মুখে ছিল। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা পরে এই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে দুটি বড় ভূমিকম্প হতে পারে, যা সাধারণত প্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ বছরে একবারই ঘটে থাকে। ভেনিজুয়েলার একই স্থানে প্রায় সমান শক্তির দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে । এটা ব্যতিক্রম । একই সঙ্গে জাপানে ৬.৯ মাত্রার একটা শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে । বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এত বড় ভূমিকম্প হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল। ভেনেজুয়েলা এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে, যা এটিকে ভূমিকম্পপ্রবণ করে তুলেছে । ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ৬.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, অন্যদিকে ১৮১২ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০,০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটিকে ভেনিজুয়েলার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক মহলও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে । ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন । ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি লেখেন, “ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার সরকার এবং বিশেষ করে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এই কঠিন সময়ে ভারত ভেনেজুয়েলার পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে । তাঁর কথায়, “আমরা বুঝতে পারছি অনেকেই উদ্বিগ্ন ও অধৈর্য হয়ে পড়েছেন । তবে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বণ্টনে যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ।”

বৃহস্পতিবার জাপানের পূর্ব উপকূলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনের তীব্রতা যথেষ্ট বেশি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। পাশাপাশি প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও মেলেনি। জাপান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলবর্তী সমুদ্রাঞ্চল। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও সমুদ্রপৃষ্ঠে সামান্য ওঠানামা দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ইতিমধ্যেই একটি জরুরি পর্যবেক্ষক দল গঠন করেছে জাপান সরকার। পাশাপাশি যে কোনও সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!