Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৩০, ২০২৬

বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের আমলে ১২,৬৩৩ কোটি টাকা উৎকোচ ! দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে তোলপাড় বাংলাদেশে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের আমলে ১২,৬৩৩ কোটি টাকা উৎকোচ ! দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে তোলপাড় বাংলাদেশে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সরকারি পরিষেবা পেতে মানুষ ১২,৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে সংঘটিত সমস্ত দুর্নীতির তদন্তের জন্য সংসদে দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিত। তিনি বলেন, কোথায় ও কীভাবে এই দুর্নীতি হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা প্রকাশ করতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের সাংসদরা টেবিল চাপড়ে তার এই বক্তব্যের সমর্থন জানান। তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার কোনও পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গত চার মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কাজ করতে বাধা দিয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এক জাতীয় সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, আগের বছরগুলোর তুলনায় সরকারি পরিষেবা খাতে ঘুষ বেড়েছে। এই সমীক্ষায় ১৫৭১৫টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, এই সময়ে মানুষ মোট ১২৬৩৩.২ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে। পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ (পরিবহন বিভাগ), পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং ভূমি বিভাগে দুর্নীতির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছে, তারা ঘুষ না দিয়ে সরকারি পরিষেবা পাননি।

টিআইবি–র নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতি দমনে যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও বলেন, সে সময় সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের প্রকাশ্য ঘোষণা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতি আরও ভাল হতে পারত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই দুর্নীতি শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শুরু হয়নি, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু যেহেতু এই সমীক্ষাটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিচালিত হয়েছিল, তাই সেই সময়ের দায় থেকে সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর এই প্রতিবেদন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের দাবি করছেন, অন্যদিকে বিরোধী দল এবং প্রাক্তন উপদেষ্টারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন। এখন সকলের নজর দৃষ্টি সেদিকেই। সরকার সত্যিই দুর্নীতি দমন কমিশনকে সক্রিয় করে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে, নাকি এই বিষয়টি রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটাই এখন দেখার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!