- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুন ৩০, ২০২৬
মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পের ঘোষিত দোহা বৈঠকের কথা অস্বীকার তেহরানের
ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনও নির্ধারিত সময়সূচি নেই। তেহরানের এই বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ফাটল নতুনভাবে উন্মোচিত করেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কয়েকদিন পরেই অই পরস্পরবিরোধী বিবৃতি এসেছে।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান একটা বৈঠকের অনুরোধ করেছে। এটা আগামীকাল (মঙ্গলবার) দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’ হোয়াইট হাউস পরে নিশ্চিত করে যে, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য দোহা সফর করবেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, সমঝোতা স্মারকটির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে ওয়াশিংটন সচেষ্ট থাকায় আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ দূত উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার এই সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দোহা যাচ্ছেন। যেখানে আমরা সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাব। সেই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি কারিগরি আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে।’
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েকঘন্টা পরেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের কথা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান কোনও আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করেনি। বৃহত্তর চুক্তি নিয়ে আলোচনার আগে সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপরই মনোনিবেশ করছে। এক বিবৃতিতে বাঘাই বলেন, ‘আগামী দিনে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনও বৈঠক নির্ধারিত নেই।’ তিনি আরও বলেন যে, ইরানি প্রতিনিধি দলের কাতার সফরের সঙ্গে সে দেশে সফররত মার্কিন কর্মকর্তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বাঘাই আরও বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। কারণ ইরানের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হল সমঝোতা স্মারকের মূল বিধানগুলি বাস্তবায়ন করা।
চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করতে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকটি রক্ষা করার চেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়েই কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চুক্তি অনুসারে, উভয় দেশ আক্রমণ বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল। তবে, সপ্তাহ শেষে ধারাবাহিক বাদানুবাদের পর চুক্তিটি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে একটা বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে।
❤ Support Us









